ভাষা ও তথ্যপ্রযুক্তি : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার ২০ বছর পূর্তি - ফিনটেক বাংলা
You are here
Home > অন্যান্য > ভাষা ও তথ্যপ্রযুক্তি : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার ২০ বছর পূর্তি

ভাষা ও তথ্যপ্রযুক্তি : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার ২০ বছর পূর্তি

৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রূয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে | কানাডা প্রবাসী কয়েকজন বাংলাদেশীর প্রস্তাবনার মাধ্যমে মূলত এই স্বীকৃতি আদায়ের উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল যা বাংলাদেশ সরকারের সক্রিয় প্রচেষ্টায় সফলভাবে সম্পন্ন হয় ! এই বৈশ্বিক স্বীকৃতি বাংলাদেশ ও যেকোনো বাংলাদেশির জন্য ছিল এক অনন্য অর্জন।

এই মাইল ফলকের পর পেরিয়ে গিয়েছে ২০ টি বছর। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উদযাপন ধীরে ধীরে পরিব্যাপ্ত হয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে | এর মূল ধারণাকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন কার্যক্রম/ পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে বা হচ্ছে , যার সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে আলোকপাত করতে হলে বৃহৎ পরিসরে আলোচনার প্রয়োজন হবে ।

আজ এখানে আমরা মূলত ভাষা ও তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ের উপর দৃষ্টিপাত করবো ।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রয়েছে বহুমাত্রিক তাৎপর্য , যার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রতিটি ভাষার সংরক্ষণ ও যথার্থ ব্যবহার নিশ্চিত করা। সর্বগ্রাসী বিশ্বায়নের এই যুগে এই কাজটি যে কঠিন তাতে কোনো সন্দেহ নেই | তবে তথ্য-প্রযুক্তি এক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক থেকে বিশাল সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে । অত্যন্ত সহজ একটি উদহারণ দিয়ে শুরু করা যাক| এই যে লেখাটি আপনারা এতক্ষন পড়ছেন, এটি লেখা হয়েছে একটি অনলাইন ওয়েব সাইট এর সাহায্যে যেখানে যেকোনো ব্যবহারকারীর বাংলা টাইপিং এর জন্য অত্যন্ত সহজ ব্যবস্থা রয়েছে ।

শিক্ষা ব্যবস্থার কথা ধরা যাক। এ কথা অনস্বীকার্য যে মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা (অন্তত একটি নির্দিষ্ট পর্যায় অবধি) শিক্ষার্থীদের জন্য সুফলদায়ক হতে পারে | উন্নত দেশসমূহে শিক্ষা ব্যবস্থা/নীতিমালা তাই অনেকাংশে মাতৃভাষা কেন্দ্রিক, তবে উন্নয়নশীল বা অনুন্নত দেশসমূহের জন্য বিষয়টি কিছুটা বিবিধ কারণে কিছুটা কঠিন । তথ্যপ্রযুক্তি এক্ষেত্রে প্রভাবক ভূমিকা পালন করতে পারে । যে বইটির বা বিষয়টির ইংরেজি ব্যতীত অন্য কোনো সংস্করণ এতদিন পাওয়া অসম্ভব ছিল, আজ হয়তো সেটির একাধিক ভাষায় অনুবাদ/ব্যাখ্যা লিখিত বা ভিডিও হিসেবে অনলাইন এ পাওয়া যাচ্ছে । স্বয়ংক্রিয় অনুবাদকের মাধ্যমে মুঠোফোনে যে কোনো ভাষা হতে যে কোনো ভাষায় (প্রচলিত ভাষা ) তাৎক্ষণিকভাবে অনুবাদ করা সম্ভব | কৃত্ৰিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এ ধরনের অনুবাদ শতভাগ নির্ভুল নাও হতে পারে (এ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা এখনো চলমান), তারপরেও এর উপযোগিতা অনেখানি সুফল দায়ক।

ভাষা সংরক্ষণে প্রযুক্তির সুদূর প্রসারী ভূমিকা রয়েছে । বিশ্বজুড়ে ৩০০০ এরও দিক ভাষা বর্তমানে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে (তথ্যসূত্র: http://www.endangeredlanguages.com/)| এ সকল ভাষার সংরক্ষণে তথ্যপ্রযুক্তি অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে । কয়েক বছর পর যে ভাষার হয়তো একজন ব্যবহারকারীকেও খুঁজে বের করা দুরূহ হবে , সেই ভাষার পুঙ্খনাপুঙ্খ সংরক্ষণ তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সফলভাবে করা সম্ভব ।

ভাষায় তথ্য প্রযুক্তির আরেকটি বিশাল ব্যবহার ক্ষেত্র হচ্ছে বিশেষ পরিস্থিতিধারী ব্যক্তিদের সহায়তা করা । বাক/শ্রবণ /দৃষ্টি ক্ষমতা যাদের সীমিত বা একেবারে অনুপস্থিত ,তাদের ভাষাশিক্ষা ও ব্যবহারে তথ্যপ্রযুক্তি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে | অটিস্টিক ব্যক্তিদের সহায়তায় তথ্যপ্রযুক্তির এরূপ প্রয়োগ এখন সর্বজনবিদিত ।

বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার কথা এক্ষেত্রে বিশেষভাবে বিবেচনা করলে , এখন পর্যন্ত অগ্রগতির পাশাপাশি ব্যাপককরণীয় ও রয়েছে | বাংলাভাষায় অনলাইন কনটেন্ট প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পেলেও তাপর্যাপ্ত পরিমানেও পরিসরে হচ্ছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে । বিশেষত দেশে তৈরী হওয়া সফটওয়্যারসমূহে বাংলার অধিকতর ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে | বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের সচেতনতা একটি ভালো ইঙ্গিত , যা সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সঠিক পথে ধাবিত হতে পারে ।

আজ হতে ২০ বছর পূর্বে ২১ ফেবুয়ারীর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি জাতি হিসেবে আমাদের জন্য ছিল এক ঐতিহাসিক মাইল ফলক । মাতৃভাষার সংরক্ষণও বিকাশে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম প্রয়োগে ও আমরা বৈশ্বিক পরিসরে ইতিবাচক ও নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করতে পারি ।

লেখক : Azfar Adib

তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষক

মন্তব্য করুন

Top