ইউটিউব থেকে আয় করতে চান? - ফিনটেক বাংলা
You are here
Home > টেক বার্তা > ইউটিউব থেকে আয় করতে চান?

ইউটিউব থেকে আয় করতে চান?

বর্তমানে মানুষের ভিডিও দেখার প্রতি কতটা ঝোঁক বেড়েছে তা অনলাইনের যেকোন সাইটে প্রবেশ করলেই টের পাওয়া যায়। আর এই ব্যাপারে ভিডিও স্ট্রিমিং সাইট ইউটিউবের জুড়ি নাই। অনেকেই সবার সামনে নিজেকে তুলে ধরার সাথে সাথে বেশ ভাল পরিমাণে অর্থ আয় করছে। সংবাদ, প্রযুক্তি, রান্না, শিক্ষা, বিনোদন, খেলা, বিজ্ঞান কি নেই ভিডিও ক্যাটাগরিতে? অন্যদিকে এক শ্রেণীর মানুষ আছে যাদের প্রতিভা এবং সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সঠিক উপায় না জানার ফলে ইউটিউবকে নিজের আয়ের উৎস বানাতে পারছে না। 

ইউটিউব থেকে আয় করতে শুরুতেই আপনাকে বেছে নিতে হবে এমন একটি বিষয় যাতে আপনি ভাল কাজ করতে পারবেন। সেই সাথে খেয়াল রাখতে হবে বিষয়টি কতটা ট্রেন্ডি এবং জনপ্রিয়। প্রয়োজনে আপনি এ নিয়ে কিছুদিন ধারনা নিতে পারেন এবং নিকটস্থ কারোর কাছ থেকে উপদেশ নিতে পারেন। মনে রাখবেন আপনার চ্যানেলর নাম যেন স্বতন্ত্র হয়। এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন) বাড়াতে কাজে আসবে।                   

চ্যানেলের প্রথম কন্টেন্টটি অবশ্যই খুব বেশি আকর্ষণীয় হতে হবে। তাছাড়া প্রতিটি কন্টেন্টর উপস্থাপনা চিত্তাকর্ষক হতে হবে। প্রতিবার দর্শককে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার, সাবস্ক্রিপশন এবং ফোলো করার ব্যাপারটি বলার ব্যবস্থা করবেন। ভিডিওতে কিছু কি-ওয়ার্ড দিয়ে রাখবেন যেন সার্চ করতে সহজ হয়। কন্টেন্ট আপলোড করার সময়ের প্রতি মনযোগী হতে হবে। এক্ষেত্রে সকাল, সন্ধ্যা, রাত উত্তম সময়।                     

প্রোমোটিং সিস্টেম রাখতে হবে। ফেসবুক, টুইটার এর জন্য দারুন সহায়ক। প্রোমোটের উপর নির্ভর করে দর্শক বা সাবস্ক্রিপশন নির্ভর করবে যা দ্বারা আপনি আয় করবেন। তাই ইউটিউবে ভিডিও আপলোডের সময় এন্ড স্ক্রিনে অন্য ভিডিও বা প্লে লিস্ট যুক্ত করুন। সঠিক ভিডিও ডেসক্রিপশন যোগ করুন। বিভাগ অনুসারে ভিডিওগুলো প্লে লিস্টে সাজান। প্রাসঙ্গিক ভিডিও ট্যাগ ব্যবহার করুন। ট্যাগ রিসার্চে টিউববাড্ডি (TubeBuddy) আথবা ভিডআইকিউ (VidIQ) এর মতো টুলগুলো ব্যবহার করতে পারেন। তা ছাড়া আপনি পেইড বুস্টও করতে পারবেন।

ইউটিউব মূলত প্যাসিভ ইনকাম সোর্স। ভিউয়ার বাড়লেই যে আয় হবে তা নয়; ইউটিউব থেকে আয় করতে আপনাকে ইউটিউবের পার্টনার প্রোগ্রামে অংশ নিতে হবে। আপনার চ্যানেলটিতে ১২ মাসে কমপক্ষে এক হাজার সাবস্ক্রাইবার ও চার হাজার ঘণ্টা ওয়াচটাইম থাকলে তা মনিটাইজেশনের জন্য আবেদন করা যাবে। তবে আপনার চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার বেশি থাকলে এবং ভিডিও ভিউ অনেক বেশি হলে ইউটিউবের আয়ের বাইরে আপনি স্পন্সর জোগাড়ের চেষ্টা করতে পারেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন পণ্যের রিভিউ বা পর্যালোচনা করেও আয় করা যেতে পারে। তবে মনে রাখবেন কপিরাইট ও কমিউনিটি গাইডলাইনগুলো আপনাকে মানতে হবে। এ নির্দেশনাগুলো না মানলে আপনার আয় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনকি আপনার চ্যানেলটি বন্ধও হতে পারে। কপিরাইট ও কমিউনিটি গাইডলাইনের তিনটি স্ট্রাইক থাকে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একেকটি স্ট্রাইকের জন্য ভিডিও মুছে যাওয়া, লাইভ স্ট্রিমিং বন্ধ হওয়া, ভিডিও আপলোড করতে না পারার মতো ঘটনা ঘটে। আর তৃতীয় স্ট্রাইকে চ্যানেল বন্ধ করা হয়। তবে আপনি যদি মনে করেন, আপনার কপিরাইট স্ট্রাইকটি ভুল করে দেওয়া হয়েছে তাহলে কাউন্টার নোটিফিকেশন দিতে পারেন। তখন কর্তৃপক্ষই আপনার হয়ে ব্যবস্থা নিবে।              

 

মন্তব্য করুন

Top