কৃত্রিম বুদ্ধিমান রোবট কি মানুষের জায়গা দখল করবে? - ফিনটেক বাংলা
You are here
Home > টেক বার্তা > কৃত্রিম বুদ্ধিমান রোবট কি মানুষের জায়গা দখল করবে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমান রোবট কি মানুষের জায়গা দখল করবে?

দিন দিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবটের চাহিদা বাড়ছে। চীন, জাপানের মত উন্নত দেশগুলোতে এর জনপ্রিয়তা যেন যেকোনো মানুষের চেয়ে বেশি। এ নিয়ে অনেকের মাঝে উদ্বেগের পাশাপাশি মানুষের বুদ্ধির প্রতিস্থাপন ও বেকারত্ব নিয়েও প্রশ্নের সৃষ্টি করছে। পিটিআইয়ের এক প্রতিবেদন থেকে এমন সব তথ্যই জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে ব্যাপক আকারে বেকারত্ব সৃষ্টির আশঙ্কা কম। কারণ, সৃজনশীলতার দিক থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমান যন্ত্রের থেকে এগিয়ে থাকবে মানুষ।

উন্নত দেশগুলোতে উৎপাদন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আশানুরূপ মুনাফা অর্জন করতে পারবে না। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে নির্মাণশিল্প, স্বাস্থ্য খাত ও ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ম্যাক্রো-অর্থনৈতিক নীতি এবং জব ইউনিটের পরিচালক এককাহার্ড আর্নেস্ট। তিনি আরো বলেন যে উন্নত দেশগুলোতে কৃষি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে সুবিধা পাওয়া যায়। এই প্রযুক্তি কৃষকদের সঠিক বাজারদর জানাসহ নানা কাজে সাহায্য করছে। এ ছাড়া জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আফ্রিকা অঞ্চলের জন্য একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করেছে, যা পোকামাকড় শনাক্ত করতে পারে।

সম্প্রতি জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার বিভাগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে একটি গবেষণা করেছে। তাতে দেখা গেছে, শ্রমবাজারে প্রযুক্তির দারুণ প্রভাব রয়েছে। তবে সবখানে যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যাও রয়েছে। যেমন যন্ত্র চালানোর মতো দক্ষ জনবল নেই, অবকাঠামো ও ব্রডব্যান্ড সেবা দুর্বল, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ভাল না। এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতের মতো স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ। এতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার কে নিবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাই অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে মানুষের উন্নতির লক্ষ্যেই মানুষকে এখন ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। যন্ত্রের সঙ্গে কথা বলতে হবে। সাধারণ গাড়ির বা দরকারি কুড়ালের মতো সাধারণ যন্ত্র ভেবে এগুলো ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

সঠিকভাবে যন্ত্রের প্রয়োগ করলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে চাকরি হারানোর চেয়ে চাকরি ক্ষেত্রের পরিবর্তন দেখা যাবে। এসব কাজ রুটিনওয়ার্ক বা নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে এআই অ্যালগরিদম দিয়ে করা যাবে। এক্ষেত্রে একঘেয়েমি কাজগুলো সহজেই রোবট বা যন্ত্র করবে। শুধু তাই নয়; রোবট দিয়ে ঘরের বেশিরভাগ কাজও যেন করানো যায় সেরকম স্মার্ট রোবট তৈরি করার ব্যবস্থা করতে হবে। এতে মানুষ আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক, সামাজিক ও আন্তরিক দক্ষতার অংশ হতে পারবে সেই সাথে মানুষের উদ্বেগও অনেকখানি কমবে।

মন্তব্য করুন

Top