শুদ্ধাচার পুরস্কারের আওতায় দেশের ব্যাংকসমূহ - ফিনটেক বাংলা
You are here
Home > ব্যবসা ও বাণিজ্য > শুদ্ধাচার পুরস্কারের আওতায় দেশের ব্যাংকসমূহ

শুদ্ধাচার পুরস্কারের আওতায় দেশের ব্যাংকসমূহ

বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকারদের শুদ্ধাচার পুরস্কার দিতে একটি নীতিমালা করেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যাংকাররাও যদি এই পুরষ্কারের আওতাভুক্ত হয় তাহলে কাজের গতি বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য দিকেও এর সুফল পাওয়া যাবে বলে এই উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

চলতি মাসের ৯ তারিখ এই পুরস্কার চালুর জন্য ‘শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান’ শীর্ষক এই নীতিমালা সরকারি, বেসরকারি সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ২০১২ সালে সরকার জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছিল। এর মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নেতৃত্বে সকল মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল ভিত্তিক কার্য-পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করছে। শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান নীতিমালা প্রণয়ন করার পর ২০১৭ সালেই প্রথম সিনিয়র সচিব ও সচিব পর্যায়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে শুদ্ধাচার পুরস্কার দেওয়া হয়।

কিন্তু এখন পর্যন্ত দেশের ব্যাংকগুলো এর তালিকাভুক্ত হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৮ সাল থেকেই এ পুরস্কার চালু করতে অন্যান্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে।

ব্যাংকের পুরস্কারের নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে যে শুদ্ধাচারের ২০টি সূচকের ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই পুরস্কারের জন্য বাছাই করা হবে। প্রতিটি সূচকের নম্বর থাকবে ৫।

এগুলো হল- পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা, সততার নিদর্শন, নির্ভরযোগ্যতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা, শৃঙ্খলাবোধ, সহকর্মীদের সঙ্গে আচরণ, সেবা গ্রহীতার সঙ্গে আচরণ, প্রতিষ্ঠানের বিধি-বিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা, সমন্বয় ও নেতৃত্বদানের ক্ষমতা, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শিতা, পেশাগত, স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক নিরাপত্তা সচেতনতা, প্রতিষ্ঠানের প্রতি অঙ্গীকার, উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা চর্চা, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে তৎপরতা, সোশাল মিডিয়া ব্যবহার, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা, উপস্থাপন দক্ষতা, প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নে আগ্রহ, অভিযোগ প্রতিকারে সহযোগিতা, সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধানবলি সম্পর্কে আগ্রহ ও পরিপালনে দক্ষতা এবং কর্তৃপক্ষ থেকে ধার্যকৃত অন্যান্য কার্যক্রম। একজন কর্মকর্তা ওই সব সূচকে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৮০ পেলে  পুরস্কারের জন্য মনোনীত হবে। পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের একটি সার্টিফিকেট এবং এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়া হবে।

এখানে বিশেষভাবে বলা হয়েছে যে পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হতে হলে একজন কর্মীকে অন্তত তিন বছর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে চাকরি করতে হবে। এছাড়া কেউ এক বছর শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলে পরের তিন বছর আর তিনি পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন না।

মন্তব্য করুন

Top