গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর প্রাইমারি গ্রাউন্ড স্টেশন উদ্বোধন - ফিনটেক বাংলা
You are here
Home > লোকাল ইভেন্টস > গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর প্রাইমারি গ্রাউন্ড স্টেশন উদ্বোধন

গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর প্রাইমারি গ্রাউন্ড স্টেশন উদ্বোধন

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

আগামীকাল মঙ্গলবার গাজীপুরে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর প্রাইমারি গ্রাউন্ড স্টেশন উদ্বোধন করা হবে। একইদিনে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর সফল উৎক্ষেপণ উদযাপিত হবে। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন যে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স সেন্টার থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করবেন। তিনি আরো জানান মঙ্গলবার সকাল ১০টায় গাজীপুরের তেলীপাড়ার গ্রাউন্ড স্টেশন ক্যাম্পাস থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঐ অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গ্রাউন্ড স্টেশনে উপস্থিত থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হবেন এবং পরবর্তী বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কনফারেন্সে যুক্ত থাকাকালীন সময়ে এই বেক-আপ গ্রাউন্ড স্টেশনটিও উদ্বোধন করা হবে।

উৎক্ষেপণের পর স্যাটেলাইটটি সম্পূর্ণভাবে চালু হওয়ার পরে এর নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের গ্রাউন্ড স্টেশনে হস্তান্তর করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এখন গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে সংকেত দিচ্ছে ও নিচ্ছে। সার্বক্ষণিক গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে স্যাটেলাইটটির অবস্থান এবং গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সেই সাথে গাজীপুর থেকে অবিরত ট্র্যাকিং ও কন্ট্রোলিংয়ের কাজ হচ্ছে। ফুল সিস্টেমটির টেস্টিংও চলছে নিয়মিত। এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার সমস্যা দেখা দেয়নি। মূলত টেস্ট ও ট্র্যাকিংয়ের কাজ সফলভাবে সমাপ্তির পর সবকিছু ঠিক থাকলে স্যাটেলাইট-১-এর অগাস্ট বা সেপ্টেম্বর থেকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা হবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ হলো কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট। এর গ্রাউন্ড স্টেশনে অনেক সিস্টেম ইন্সস্টল করা হয়েছে। এখানে ভেতরে স্থাপিত আলাদা আলাদা ইকুইপমেন্ট ছাড়াও বাইরের পুরো সিস্টেমটিকে ক্রমে ছোট ছোট ইউনিটে ভাগ করে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টেস্ট করা হবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর সিস্টেম ইউনিট

এই স্যাটেলাইটটিতে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার আছে। ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থেকে প্রায় এক হাজার ৪৪০ মেগাহার্টজ পরিমাণ বেতার তরঙ্গপাওয়া যাবে। তন্মধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে ব্যবহার করবে ২০টি ট্রান্সপন্ডার। বিদেশি রাষ্ট্রের কাছে ভাড়া দেয়ার জন্য রাখা হবে ২০টি ট্রান্সপন্ডার। ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ১৪টি সি ব্যান্ডের এবং ২৬টি হচ্ছে কেইউ ব্যান্ডের। নিয়ন্ত্রন থাকবে বাংলাদেশে স্থাপিত দুটি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রে অর্থাৎ প্রধান কেন্দ্র গাজীপুর ও বিকল্প কেন্দ্র বেতবুনিয়ায়। গাজীপুর ও বেতবুনিয়ায় গ্রাউন্ড স্টেশনের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ স্থাপন করা হয়েছে। যেমন- অপারেটর মেশিন, এন্টনা, নেটওয়ার্কিং সিস্টেম। এই ইকুইপমেন্টগুলোকে ছোট ছোট ইউনিটে ভাগ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রাউন্ড স্টেশন ও এন্টেনা টেস্ট করা সম্পন্ন হয়েছে। এগুলো এখন পুরোপুরিভাবে ফাংশনাল।

এই স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া যাবে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ। ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার করে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা চালু করা সম্ভব হবে শহর ও গ্রামাঞ্চল ব্যতীত দেশের দুর্গম দ্বীপ, নদী ও হাওর এবং পাহাড়ি অঞ্চলেও। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে স্বাভাবিক টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও উদ্ধারকর্মীরা স্যাটেলাইট ফোনে যোগাযোগ রেখে দুর্গত এলাকায় কাজ করতে সক্ষম হবেন। বাকি ২০টি ট্রান্সপন্ডার ভুটান, নেপাল ও এশিয়ার অন্য অংশে কিরগিস্তান, তাজিকিস্তানের মতো দেশেও ভাড়া দেয়া যাবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আয় করতে সামর্থ্য হবে।

মন্তব্য করুন

Top