আপনার তথ্যগুলো গোপন থাকছে তো? - ফিনটেক বাংলা
You are here
Home > টেক বার্তা > আপনার তথ্যগুলো গোপন থাকছে তো?

আপনার তথ্যগুলো গোপন থাকছে তো?

বর্তমান প্রজন্মের কাছে স্মার্টফোনের গুরুত্ব অপরিসীম। সকালে ঘড়ির অ্যালার্ম থেকে শুরু করে রাতে গেম খেলা সব কিছুর জন্যই স্মার্টফোন ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিটি আলাদা ব্যবহারের জন্য ইন্সটল করা হচ্ছে বিভিন্ন অ্যাপ। কিন্তু কেউ কি জানে প্রকৃতপক্ষে কোন অ্যাপগুলো গোপনীয়তা কিংবা নিরাপত্তা নষ্ট করছে? হ্যাঁ; আপনার ফোনের কিছু অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপই হয়তো আপনার কথা শুনছে, অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করছে, গোপনে ডিভাইসে নানা তথ্যের স্ক্রিনশট রাখছে আর সেগুলো তৃতীয় পক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

সাধারণত স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা তাদের বিভিন্ন ব্যক্তিগত ডাটা যেমন ইউজারনেইম, পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট কার্ড নাম্বার ইত্যাদির স্ক্রিনশট নিয়ে রাখে অথবা কোন ফোল্ডারে সেভ করে। ফোনে বেশকিছু অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ব্যবহারের ফলে ব্যবহারকারীর তথ্যগুলো তৃতীয় পক্ষের নিকট চলে যাচ্ছে নীরবে। গবেষকরা এমনই কিছু উপাত্ত পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এই গবেষণার ফলাফল স্পেনের বার্সালোনায় প্রাইভেসি এনহান্সিং টেকনোলজি সিমপোজিয়াম কনফারেন্সে উপস্থাপন করা হয়েছে আইএএনএস-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন-এর নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাপক ডেভিড শফনেস বলেন, “আমরা দেখেছি যে আপনি যা টাইপ করেন আর আপনার ডিভাইসের স্ক্রিনে যা আছে তা রেকর্ডের ক্ষমতা আছে প্রায় প্রতিটি অ্যাপের।” এই গবেষণায় গবেষরা ১৮০০০ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ বিশ্লেষণ করেন। তার মধ্যে অর্ধেক অ্যাপেই স্ক্রিনশট নেওয়ার সম্ভাবনা দেখা গিয়েছে। কত সহজে অন্যের লাভের জন্য একটি স্মার্টফোনের প্রাইভেসি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটতে পারে সেদিকেই জোর দেওয়া হয়েছে এই গবেষণায়।

বিশ্ববিদ্যালয়টির অধ্যাপক ক্রিস্টো উইলসন বলেন, “অ্যাপগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্রিনশট নিয়ে সেগুলো তৃতীয় পক্ষের কাছে পাঠাচ্ছে। এটি অনেকটা নিশ্চিতভাবেই ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে।”

ফোনে অ্যাপ ইনস্টল করার সময়ই প্রয়োজনে ডাটা ব্যবহার করার অনুমতির কথা তারা পরোক্ষভাবে বলে থাকে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীরা ব্যাপারটি লক্ষ্য করে না। শুধু অ্যান্ড্রয়েড ফোন নিয়ে এই গবেষণা করা হলেও অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমচালিত স্মার্টফোনগুলোর প্রাইভেসি লঙ্ঘনের ঝুঁকি কম এমনটা মনে করার কারণ নেই বলে মত গবেষকদের। ‘হেডেক: দ্য জার্নাল অফ হেড অ্যান্ড ফেইস পেইন’ নামের এক জার্নালে প্রকাশিত আরেক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ব্যবহারকারীদের মাইগ্রেইনের ব্যাথা পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত অ্যাপগুলো অনেক সময় তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করে। চিকিৎসাবিষয়ক অ্যাপ থেকে তৃতীয় পক্ষের কাছে তথ্য পাঠানো নিয়ে আইনি সুরক্ষা খুবই কম থাকায় এক্ষেত্রে প্রাইভেসি লঙ্ঘনে ঝুঁকি ‘কম’ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গবেষণায় কোন ধরনের অডিও ফাঁস হওয়ার তথ্য পাওয়া না গেলেও নিকট ভবিষ্যতে এর সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই গবেষকরা স্মার্টফোনে অ্যাপ ব্যবহারে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।  

মন্তব্য করুন

Top