বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাংকিং শিল্পের চাহিদা - ফিনটেক বাংলা
You are here
Home > ব্যবসা ও বাণিজ্য > বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাংকিং শিল্পের চাহিদা

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাংকিং শিল্পের চাহিদা

উন্নয়নশীল দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে সরকারি, বেসরকারি, স্থানীয়, বিদেশি, বাণিজ্য সংক্রান্ত ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় একশত। তারপরেও ব্যাংকের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই অনেকে ছোট ছোট উদ্যোগে বেসরকারিভাবে ব্যাংক চালু করার ব্যবস্থা করছে। শুধু তাই নয়; এখন বাংলাদেশের সরকার একই সময়ে দেশে ব্যাংকের সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে এবং ইতোমধ্যে এই সংক্রান্ত কিছুকাজ শুরু হয়েছে।   

সাত মাস আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দুইটি নতুন প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের জন্য ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে অন্যান্য সরকারি সংস্থা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে নতুন ব্যাংক চালুর প্রস্তাব পেশ করেছেন। যদিও দেশে ৫০টিরও বেশি সক্রিয় বাণিজ্যিক ব্যাংক আছে, সরকার বিশ্বাস করে যে আরো কিছু ব্যাংক সচল থাকলে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের প্রসার বাড়বে।

আমাদের দেশে এখনো অনেক জনগণ পর্যাপ্ত অর্থের মালিক হওয়ার পরেও ব্যাংকের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। তাই সরকার ব্যাংকের সাথে সাধারণ জনগণের সংযোজনকরণের আইনগুলো আপডেট করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যাতে ব্যাংকগুলিকে বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না হয়।

সূত্রমতে, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকে ৭০টির বেশি লেনদেনের আবেদনপত্র জমা দিয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনটিই অনুমোদন পায়নি তবে আশা করা যাচ্ছে যেসকল বিনিয়োগকারীরা লেনদেনের শর্তগুলো সঠিকভাবে পূরণ করতে পারবে তারা সহসা অনুমোদন পাবে। ব্যাংকের কর্মকর্তারা অনেকেই বলেন যে নতুন ব্যাংক চালু করার জন্য অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সচেতন থাকা প্রয়োজন কয়েকটি বিষয় নিয়ে। প্রথমত, আমরা যাদের অনুমোদন দিব তারা পেশাগত দিক দিয়ে কতটুকু দক্ষ এবং দ্বিতীয়ত, যে স্থানে ব্যাংক চালু করা হবে তার আশেপাশের এলাকার মানুষ কি পরিমাণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে ব্যাংকগুলো থেকে তা খতিয়ে দেখতে হবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, কয়েকটি ব্যাংক চালু করা হয়েছে যা কেবল নির্দিষ্ট পেশাদার ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সুবিধা বহন করছে। যেমন সেনাবাহিনীর ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড ছাড়া অন্য কেউ বাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। অন্যদিকে ২০১৭ সালের শেষ দিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে সরকার শীঘ্রই বাংলাদেশ পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য একটি ব্যাংক চালু করার অনুমোদন দিবে। এছাড়াও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে যেসকল আবেদন জমা আছে সে তালিকা থেকে দেখা গেছে যে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীও তাদের জন্য নিজস্ব ব্যাংক চালু করতে চায়।

অন্যদিকে সাধারণ জনগণের সুবিধা এবং চাহিদার উপর গুরুত্বআরোপ করে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন কিছু ব্যাংক চালু করার অনুমোদন দিয়েছে। ইউনিয়ন ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক ইত্যাদি সম্প্রতি লাইসেন্সপ্রাপ্ত সচল ব্যাংকগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

মন্তব্য করুন

Top