শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স ব্যবসা ও বাংলাদেশ - ফিনটেক বাংলা
You are here
Home > অন্যান্য > শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স ব্যবসা ও বাংলাদেশ

শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স ব্যবসা ও বাংলাদেশ

পৃথিবী যত উন্নতি করছে এর যোগাযোগের পরিধি ততই ছোট হয়ে আসছে। আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে প্রচলিত এবং জনপ্রিয় বিষয়বস্তু হল ইন্টারনেট। এখন যেকোনো বয়সী মানুষেরাই কারনে অকারনে ইন্টারনেট ব্রাউজ করে। এমনকি ব্যবসার জন্যও মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। মানুষের সুযোগসুবিধার কথা চিন্তা করেই সৃষ্টি করা হয়েছে ই-কমার্স (ইলেক্ট্রনিক-কমার্স)।  

ই-কমার্স হচ্ছে অনলাইন সেবা যেখানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্য ক্রয় বিক্রয় করা হয়। গ্রাহকেরা বর্তমানে ছোট থেকে ছোট জিনিসপত্র এখন অনলাইনেই কেনাকাটা করছে। এর অনেক বড় একটা কারণ হল ই-কমার্স মানুষের সময় বাঁচাতে সক্ষম হচ্ছে। বিগত বেশকিছু বছরে বিশ্বজুড়ে এটি দারুণ প্রভাব ফেলেছে। বহির্বিশ্বে ই-কমার্স অনেক আগেই নিজের আধিপত্য বিস্তার করলেও বাংলদেশে ২০০৯ সালে ই-কমার্স প্রবেশ করে। সেবছর বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথম অনলাইন পেমেন্টের অনুমোদন দেয়। এরপর কিছু সময় ই-কমার্স বাংলদেশে তেমন সক্রিয় ছিল না। ২০১৫ সালের শেষ দিক থেকে অনলাইন ব্যবসা পুরোদমে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে ফেসবুকে প্রায় আট হাজার ছোট বড় বাংলাদেশি ই-কমার্স পেজ রয়েছে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সরকার দেশের প্রতিটি জেলার জন্য ই-কমার্স সাইট খোলার ব্যবস্থা করেছে। এছাড়াও ব্যক্তিগত সাইটগুলোও তাদের বিনিয়োগের উপর ভিত্তি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য সরবরাহ করার ব্যবস্থা রাখছে।

ই-কমার্স এখন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যেখানে মানুষ তাদের পছন্দের বস্তুগুলো অর্ডার দেওয়া মাত্রই নিজের হাতে পাচ্ছে। ফলে দিন দিন ই-কমার্সের উপর মানুষ অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তবে সবকয়টি ই-কমার্স সাইট যে মানুষের কাছে সমান প্রধান্য পায়; তা নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গ্রাহকরা কিছু বাছাইকৃত অনলাইন সাইটের উপর বেশি আস্থা রাখে। কারণ দেশে হাজার হাজার স্থানীয় অনলাইন শপ থাকলেও খুব কম কোম্পানি তাদের বিনিয়োগের তুলনায় মুনাফা অর্জন করতে পেরেছে। চলুন দেখে নেওয়া যাক দেশের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলোঃ

দারাজঃ

দেশে অনলাইন শপ বললেই বেশিরভাগ মানুষের মাথায় সবার আগে দারাজ.কম এর কথা চলে আসে। এটি এমন একটি ই-কমার্স সাইট যেখানে সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। ২০১৫ সালে এটি বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে। তবে তখন তাদের পরিসর যথেষ্ট ছোট ছিল। মাত্র দুই বছরে তারা নিজেদের শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ইলেক্ট্রনিক্স, ফ্যাশন, হোম অ্যাপ্লিকেশন সহ বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্যও তারা বিক্রি করছে। দারাজ গ্রাহকদের কেনা পণ্যগুলির ক্ষেত্রে বিনামূল্যে রিটার্ন সুযোগ দেয়। এছাড়াও বিভিন্ন উপলক্ষে তারা পণ্যের উপর ডিসকাউন্ট দেয়। গ্রাহকরা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ কিংবা নগদ টাকা দিয়ে পন্য ক্রয় করতে পারে। গ্রাহকদের সবচেয়ে ভাল পণ্য প্রদান করে বলে তারা দাবি করে।  

আজকেরডিলঃ আজকেরডিল.কম শুনলে আশেপাশে অনেক গ্রাহকই পাওয়া যায়। প্রতিদিন যেসকল বস্তু বা সামগ্রী প্রয়োজনে আসে তার মোটামুটি সবকিছুই আজকেরডিল বিক্রি করে। তারা নিয়মিত তাদের নতুন অফারগুলো আপডেট করে। তারা ডেলিভারি, বিকাশ, ডিবিবিএল, মাস্টারকার্ড, ভিসা কার্ড ইত্যাদি বিভিন্ন উপায়ে নগদ অর্থ গ্রহণ করে। আজকেরডিল দাপ্তরিক সামগ্রীও বিক্রয় করে।

রকমারিঃ

রকমারি দেশের অন্যতম বড় একটি অনলাইন পণ্য বিক্রয় কেন্দ্র। ২০১২ সালে তারা শুরুতে কেবল বই বিক্রি করলেও পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি তারা তাদের পণ্যের ধরন পরিবর্তন করে ইলেক্ট্রনিক পণ্য রাখে। ঢাকায় তাদের নিজস্ব হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা রয়েছে। তারা ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম ও রংপুরেও হোম ডেলিভারি করে। তারা বিকাশ, মাস্টার কার্ড, ভিসা কার্ড, ক্যাশ অন ডেলিভারির মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে।

প্রিয়শপঃ  প্রাথমিক পর্যায়ে প্রিয়শপ একটি সংবাদ ওয়েবসাইট ছিল। বিভিন্ন ধরনের দৈনিক পত্রিকা ও এজেন্সি থেকে তারা খবর সংগ্রহ করে নিজেদের সাইটে আপডেট করত। যখন সংবাদ সাইটগুলির পোস্ট নিয়ে কাজ শুরু হল তখন তারা তাদের নীতি পরিবর্তন করেছে। তারা তাদের বিষয়বস্তু ইংরেজি থেকে বাংলা ভাষায় রূপান্তর করে। অনেক বছর পরে এটি একটি অস্ট্রেলিয়ান বিনিয়োগ তহবিল থেকে মূলধন পেয়েছে। তারপর তারা প্রিয়শপ.কম নামে ই-কমার্স সাইট চালু করেছে।  

অথবাঃ প্রান-আরএফএল গ্রুপের একটি যৌথ উদ্যোগের নাম অথবা.কম। অথবা শপে নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছাড়াও চিকিৎসার জিনিসপত্রও বিক্রি করে। তাদের বিশেষত্ব হল তারা প্রায় অন্যয় সকল অনলাইন শপের তুলনায় যথেষ্ট কম মূল্যে পণ্য বিক্রি করে।  

চালডালঃ

চালডাল হল বাংলাদেশের ভার্চুয়াল মুদিখানা। ঘরে বসে কেনাকাটা করতে গৃহিণীদের জন্য সবচেয়ে উত্তম উপায় হল চালডাল। চাল, ডাল, মাছ-মাংস, রান্নার অন্যান্য দ্রব্যাদি, ঘর পরিষ্কার করার বস্তু, এমনকি পোকা মারার ঔষধ এবং পোষা প্রাণীর জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ পাওয়া যায়। এছাড়াও তারা শিশুদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী, দাপ্তরিক পণ্য সবই এখন চালডাল তাদের নিজেদের দোকানে রাখে। তবে অল্প খরচে কম সময়ে পছন্দমত পন্যসমূহ পায় বলে চালডালের বেশকিছু নিয়মিত গ্রাহক আছে। তারা ক্যাশ, কার্ড, নগদ উপায়ে তাকা গ্রহণ করে।

 বাগডুমঃ বাগডুম বর্তমানের একটি ট্রেন্ডি সাইট। বাগডুম হল এখনি.কম এর নতুন সংস্করণ। তারা হাল ফ্যাশনের যাবতীয় সব ধরনের পণ্যই বিক্রি করছে। তাদের মূল লক্ষ্য তরুণ সমাজকে নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করা। তারা একটি নিজস্ব ব্লগ চালায় যা জীবনধারা সম্পর্কিত বিষয় বিভিন্ন নিবন্ধ আপডেট দিতে থাকে। ফলে পাঠকরা ওখান থেকে বিভিন্ন পোশাক কিংবা অন্যান্য আনুষাঙ্গিক উপকরণ সম্পর্কে জেনে নিয়ে সরাসরি বাগডুম থেকেই পছন্দসই সামগ্রীগুলো কিনতে পারে।

ক্লিকবিডিঃ

ক্লিকবিডি বাংলাদেশের একটি অনলাইন সাইটের নাম যা অন্যান্য বিজ্ঞাপনদাতাদের বিজ্ঞাপন হিসাবে তাদের প্রচারণা করে। তাই এরা সাধারণত বিভিন্ন কোম্পানির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। তবে তারা এখন অন্যান্য অনলাইন শপের মত বিভিন্ন পণ্য বিক্রির অফার দিচ্ছে।

বিক্রয়.কমঃ

এটি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন শপ। এই সাইটে ব্যবসার যে ধরন এটি একটি আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা। এটি একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট যেখানে আপনি সমগ্র দেশে সব সময়ে বেচাকেনা করতে পারেন। স্থানীয় বিক্রয় জন্য, আপনি এটি সেরা প্ল্যাটফর্ম হিসাবে নিতে পারেন। কারণ এখানে পঞ্চাশটি আলাদা বিভাগ রয়েছে কেনাবেচার জন্য। এখানে পণ্যের মানের সাথে মিলিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়ার নীতি প্রচলিত আছে।

 

মন্তব্য করুন

Top