হাইকিং অ্যাপ্লিকেশন এবং গ্যাজেটঃ দুর্গম পথের ডিজিটাল সহায়ক - ফিনটেক বাংলা
You are here
Home > টেক বার্তা > হাইকিং অ্যাপ্লিকেশন এবং গ্যাজেটঃ দুর্গম পথের ডিজিটাল সহায়ক

হাইকিং অ্যাপ্লিকেশন এবং গ্যাজেটঃ দুর্গম পথের ডিজিটাল সহায়ক

সৈয়দা তাসমিয়াহ্‌ ইসলাম

জানার আগ্রহ মানুষকে বহুদূর নিয়ে যায়। আগ্রহী মানুষদের জন্যই আমাদের পৃথিবী আদিম রূপ থেকে ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক রূপ ধারণ করেছে। পূর্বে অনেক কিছুই অসম্ভব ছিল যা আজ হাতের মুঠোয়। তাই বলে মানুষ থেমে থাকেনি। প্রকৃতিপ্রেমীদের কিভাবে প্রকৃতির দিকে নিয়ে যাওয়া যায়, কিভাবে তাদের স্মৃতিগুলো ধরে রাখা যায়, প্রয়োজনে কিভাবে জরুরী অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব এই সবই ডিজিটাল যুগের আশীর্বাদ। কিছুকাল আগেও হাইকিং যাওয়া মানে মানচিত্র, কাগজ, পেন্সিল, স্কেল, কম্পাস, কাচি, ছুরি, দড়ি, কাপড়, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি বিভিন্ন গ্যাজেট নিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে যাত্রা করতে হত। দুর্গম পথে এতকিছু বোঝাই করে নেওয়া ছিল বেশ কষ্টকর এবং নষ্ট হওয়া অথবা হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকত। তাই আধুনিককালের বিজ্ঞানীরা হাইকিং-এর জন্য সহায়ক এমন বেশকিছু অ্যাপ ও গ্যাজেট তৈরি করেন যা অচেনা দূরযাত্রাকে যথেষ্ট সহজলভ্য করে তুলেছে। আজ আমরা এমনই কিছু হাইকিং অ্যাপ্লিকেশন এবং গ্যাজেট নিয়ে আলোচনা করবঃ

 

অলট্রেইলস্:

এর প্লাটফর্ম মূলত আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড। এটি সর্বাধিক জনপ্রিয় হাইকিং অ্যাপ্লিকেশানগুলির একটি যা সারা বিশ্বের প্রায় ৫০০০০ মানচিত্র ধারণ করতে পারে। এর ফ্রি ভার্শন আপনাকে জিপিএস ট্র্যাকিং, ফটো এবং টেক্সট দিয়ে আপনার নিজস্ব ট্রেইল তৈরি করে সেভ করতে এবং অন্যদের সাথে শেয়ার করতে সাহায্য করে। এছাড়াও বছরে পঞ্চাশ ডলার খরচ করে এর সদস্যপদ নিলে  ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক মানচিত্রের সাথে অংশীদারিত্বের সুবিধাগুলি, এবং মানচিত্রগুলি মুদ্রণ ও সম্পাদনা করার কার্যধিকার প্রদান করে।

অ্যামাজন ট্যাপঃ

অ্যামাজন ট্যাপ একটি পোর্টেবল ব্লুটুথ এবং ওয়াই-ফাই সক্রিয় স্পিকার যা আপনাকে সমৃদ্ধ, নির্দিষ্ট পরিসীমায় শব্দ প্রদান করে। একে আলেক্সা নিয়ন্ত্রিত ইকো স্পিকারও বলে। ইন্টারনেট চালু করে কোন ব্যক্তি আলেক্সাকে যেকোনো প্রশ্ন করলে অথবা আদেশ দিলে এটি তড়িৎ জবাব দিতে সক্ষম। আলেক্সা প্রতিদিনই স্মার্ট এবং নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন দক্ষতা অর্জন করছে।

 

কেইর্নঃ

অফলাইনে মানচিত্র ব্যবহার করার অন্যতম একটি মাধ্যম হল কেইর্‌ন। এর জন্য মানচিত্রগুলো আগে থেকেই ডাউনলোড করে রাখতে হয়। এছাড়াও এটি আপনার গন্তব্য সম্পর্কে আপডেট দিতে সক্ষম। আপনি যদি এর প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন ক্রয় করেন তবে বছরে প্রায় ২৭ ডলারের মওতও খরচ পড়বে।

 

হান্টস্ম্যান পকেট নাইফঃ

হাইকিং-এর জন্য ছুরি, কাঁচির মত বিভিন্ন কাটারের প্রয়োজন। তাই এসব কাজের সুবিধার জন্য সুইস আর্মিরা হান্টস্‌ম্যান পকেট নাইফ নামে একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছে। এর নকশায় পনেরটি স্টেইনলেস স্টীলের সরঞ্জাম রয়েছে। এতে রয়েছে একটি ২.৪৫ ইঞ্চি ব্লেড, কর্কস্ক্রু, স্ক্রু ড্রাইভার, কাঠ কাটার, কাঁচি। এর দৈর্ঘ্য ৯১ মিমি, উচ্চতা ৮.২৭ ইঞ্চি। তাই এটি বহন করাও সুবিধাজনক।

 

স্পাইগ্লাসঃ

পূর্বে মানুষ হাইকিং-এ গিয়ে হিসেব কষার জন্য কাগজ, পেন্সিল, স্কেল, কম্পাস ব্যবহার করত। এটি বেশ কষ্টকর ও সময় সাপেক্ষ ছিল। তাই এই ঝামেলা দূর করার লক্ষ্যে স্পাইগ্লাসের সৃষ্টি। আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েডে ডাউনলোড করে সহজেই এটি অফলাইনে ব্যবহার করা যায়। এতে একটি ডিজিটাল কম্পাস এবং একটি পূর্ণ জিপিএস টুলকিট রয়েছে যা সুশৃঙ্খলভাবে বিভিন্ন সহজ ট্রিক্স প্রদর্শন করে। এটি বেশ ভাল গাইড হিসেবে কাজ করে।

 

গার্মিন ফেনিক্স ৫এক্স সাফায়ারঃ

এটি একটি স্মার্ট ঘড়ি। এতে আছে ১.২ ইঞ্চি কালার ডিসপ্লে ও সাফায়ার লেন্স, কব্জি ভিত্তিক হার্ট রেইট মনিটর, মাল্টি-স্পোর্টস ট্র্যাকিং, টোপো ম্যাপিং। এটি একটি দরকারী অন্তর্নির্মিত মানচিত্র। এর ব্যাটারি বেশ উন্নতমানের এবং এটি নির্দিষ্ট সংযুক্ত ফোনের বিজ্ঞপ্তিগুলি প্রদর্শন করতে পারে।

 

পিকফাইন্ডার এআরঃ

পর্বতে হাঁটার জন্য এটি উপকারী বন্ধুর মত আপনাকে সাহায্য করতে পারে। এটি যেকোনো স্থানে অফলাইনে ব্যবহার করা যায়। ডিজিটাল টেলিস্কোপ, দর্শনীয় স্থান জিপিএস দ্বারা নির্বাচন করা যায়, এটি কম্পাস এবং মোশন সেন্সর ব্যবহার করতে পারে। পর্বত বা শৃঙ্গের ডিরেক্টরিগুলো পর্বটি সপ্তাহে আপডেট হয়।

 

কেডরন সৌর চার্জারঃ

যখন আপনি জিপিএস ব্যবহার করছেন তখন স্মার্টফোনের ব্যাটারির চার্জ দ্রুত কমে আসে, বিশেষ করে যখন আপনি কোন দুর্গম এলাকায় ভ্রমণ করছেন। সেসময় কেডরন সৌর চার্জার আপনাকে সাহায্য করবে। এটি ২২০০০ মিলিআম্পিয়ার এক্সটারনাল পোর্টেবল চার্জার পাওয়ার ব্যাংক। এটি উন্নতমানের নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এর ক্রয়মূল্য প্রায় ৪০ ডলার এবং এর ওয়ারেন্টি প্রায় ২৪ মাস পর্যন্ত থাকে।

 

ম্যাপ মাই হাইকঃ

বিভিন্ন হাইকিং ম্যাপের মধ্যে এটি বেশ উন্নতমানের। আপনি কতটুকু ভ্রমণ করছেন, আপনার চলার রাস্তার দূরত্ব, পারিপার্শ্বিক অবস্থা সবকিছুই এটি প্রদর্শন করে। পর্বটি বছরে ৩০ ডলার ব্যয় করে আপনি সহজেই  প্রিমিয়াম সদস্য হিসেবে যোগ দিতে পারবেন।

 

ডিজেআই স্পার্কঃ

পোর্টেবল মিনি ড্রোন। ইন্টেলিজেন্ট ও স্মার্ট ফ্লাইট মোড; উড়ার ক্ষমতা অসাধারণ, গতি পর্যাপ্ত ও নিয়ন্ত্রিত। ২- এক্সিস ক্যামেরা ব্যবহার করে ভিডিও করার জন্য যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য। একজন দূর পথের যাত্রীর জন্য এটি বেশ উপকারী গ্যাজেট।

পৃথিবী যত উন্নত হচ্ছে জীবনযাত্রার মান তত বাড়ছে। আর জীবনকে সহজতর করার পথে ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন এবং গ্যাজেটগুলোর চাহিদা ও উপকারিতা অপরিসীম হোক সেটা শহরাঞ্চলে অথবা পর্বতচূড়ায়।

মন্তব্য করুন

Top