মুভি রিভিউ - অ্যালগরিদম - ফিনটেক বাংলা
You are here
Home > মুভি রিভিউ > মুভি রিভিউ – অ্যালগরিদম

মুভি রিভিউ – অ্যালগরিদম

– সৈয়দা তাসমিয়াহ্‌ ইসলাম

আপনি কি সেইসব চলচ্চিত্র নির্বাচকের একজন, যারা বিভিন্ন সাইট থেকে রেটিং দেখে চলচ্চিত্র নির্বাচন করে থাকেন? যদি তাই হয়ে থাকে, তবে এই সিনেমা আপনার জন্য নয়। এই ছবিটি একটি স্বল্প বাজেট বা দুর্বল স্ক্রিপ্টের হলেও এর রেটিংগুলি আপনাকে চলচ্চিত্রের একটি সত্যিকারের প্রতিফলন প্রদান করবে।

তবে আপনি যদি একজন প্রযুক্তি কুশলী হয়ে থাকেন তাহলে আপনি আপনার যে মূল্যবান সময়টা এই চলচ্চিত্রের পিছনে ব্যয় করতে যাচ্ছেন, তা হবে “পুরষ্কারস্বরূপ”। বিশেষ করে, আপনি যদি একজন হ্যাকার হয়ে থাকেন কিংবা একজন হ্যাকার হতে চান, তাহলে এই সিনেমাটি আপনার জীবনের লক্ষ্য পূরণের একটি প্রভাবক হিসাবে কাজ করবে।

ঘটনাটি কিন্তু বেশ সহজবোধ্য। স্ব-বর্ণিত হ্যাকার লুসার (কোড নাম); উইল স্টিভেনস (চলচ্চিত্রের নাম) একজন হ্যাকার যে নিরাপদ সিস্টেমগুলিকে ভঙ্গ করার জন্য পারদর্শী। কেবলমাত্র আনন্দ লাভের জন্য সে ২০ ফুট ব্যাসার্ধের মধ্যে অবস্থিত সবগুলো কম্পিউটার সিস্টেমকে ভাঙতে পারে। সে টেলিফোন কোম্পানির সিস্টেম হ্যাক করে যাতে সে যতদিন চায় ততদিন তার নিজের মত করে ব্যবহার করতে পারে এবং অনেক লোকের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে হ্যাক করেন শুধুমাত্র ঝামেলার সৃষ্টি করার জন্য। লুসার নিজেকে একটি তথ্য প্রকাশক মনে করে কারন সে স্বাধীন ইচ্ছার মতবাদে বিশ্বাস করে। সে রাজনীতি কিংবা সম্পত্তি কোন কিছু নিয়েই চিন্তা করে না। সকল হ্যাকারদের মত সেও বলে, “তথ্য বিনামূল্যে হতে হবে”।

সিনেমাটির মূল ঘটনা শুরু হয় যখন একজন লোক তার স্ত্রীর পরকীয়া ধরার জন্য একজন হাই প্রোফাইল সিটিও এর এনএসএর গোয়েন্দা ভাড়া করে, যে লোকটিকে বেশ কয়েকটি প্রোগ্রাম ডাউনলোড করতে বলে, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি প্রোগ্রামের নাম হল “শেপার্ড”। এবং পরে আমরা জানতে পারি শেপার্ড ভবিষ্যত প্রজন্মের সর্বশ্রেষ্ঠ ট্র্যাকিনং প্রোগ্রাম।

তারপর ধীরে ধীরে অনেকগুলি ঘটনা ঘটে এবং পরিশেষে আমরা জানতে পারি যে লোকটি তার স্ত্রীর প্রতারনার ব্যাপারে জানতে চেয়েছিল সে অপরাধীদের জন্য কাজ করে। ২০ দিন গভীর পর্যবেক্ষনের পর লুসার কে তার বন্ধুদের জিম্মায় মুক্তি দেয়া হয় এবং এর পর লুসারকে একজন লোক ভাড়া করতে চায়। তারপর সিনেমাটি শেষ হয়ে যায় কিন্তু আমরা জানতে পারিনি, লুসার সেই লোকটির প্রস্তাবে রাজি হয়েছিল কিনা।

অভিনয় শিল্পীরা তাদের কাজ দ্বারা বেশ গুছানো ও সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলেছে জন শিফারের লিখিত ও পরিচালিত অ্যালগরিদম সিনেমাটি। তবুও কিছু কিছু অপূর্ণতা আছে সিনেমাটিতে। শিল্পীরা বিভিন্ন ইমোশনগুলো ঠিকমত প্রকাশ করেনি। চরিত্রগুলোর আভ্যন্তরীণ রসায়ন অসামাঞ্জস্য ছিল।

উদাহরণস্বরূপ; শেষের কাছাকাছি, যখন লুসার, হাশ একটি গোপন কারাগারে চলে যাচ্ছিল তখন বিচেন (লুসারের পনের বছরের পুরনো বান্ধবী) নিরবে কাঁদছিল। লুসারের  ঘনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও এই ধরনের প্রতিক্রিয়া প্রশ্নের সৃষ্টি করে।

হ্যাকাররা স্বভাবগতভাবে ক্ষতিকারক মানুষ, তারা কোন কিছু অথবা অন্যদের বিশ্বাস করে না। অথচ এই সিনেমায় দেখা গেছে সবাই তাদের অপরাধমূলক কাজগুলো অকপটে প্রকাশ করছে। পুরো সিনেমায় সবচেয়ে ভাল ব্যাপার হচ্ছে একজন এজেন্ট বন্দীদের মুক্ত করে দেয়। জন গিলিগ্যান দ্বারা অভিনীত এই চরিত্রটি বেশ সাবলীল ছিল।

গোপনীয়তা, মানবাধিকার, সরকার তার নাগরিকদের জীবনযাপনের উপর ভিত্তি করে তৈরি এই চলচ্চিত্রটি ২০১৪ সালে মুক্তি পায়।

হ্যাকার কি করতে পারে তা অধিকাংশ মানুষই কোন ধারণা নেই। হ্যাকাররা বাঁধাগুলিকে বাঁধা হিসেবে দেখে না; তাদের জন্য এটি একটি বিনোদন। অধিকাংশ ফ্রিল্যান্স কম্পিউটার হ্যাকার গোপনীয়তা বা আইন পরোয়া করে না। তারা কেবল একটি নিয়ম মেনে চলেঃ “তথ্য বিনামূল্যে হতে হবে, সবকিছু সহজপ্রাপ্ত হতে হবে”।

 

মন্তব্য করুন

Top