বাংলাদেশে নব্য অর্থনৈতিক মেরুকরণ এবং আইসিটি বিভাগ - ফিনটেক বাংলা
You are here
Home > লোকাল ইভেন্টস > বাংলাদেশে নব্য অর্থনৈতিক মেরুকরণ এবং আইসিটি বিভাগ

বাংলাদেশে নব্য অর্থনৈতিক মেরুকরণ এবং আইসিটি বিভাগ

তথ্য ও প্রযুক্তির উন্নয়ন বিশ্ব বাণিজ্যের প্রকৃতিতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন এনেছে। সেই সাথে বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্যে বেশকিছু নতুন ধারার সৃষ্টি করেছে। প্রযুক্তির উন্নয়ন কেবল দ্রুত গতিতে বহিঃবিশ্বের সাথে নিজেদের সংযোগ করে না বরং প্রযুক্তির উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় সঠিক তথ্য সংগ্রহ, পণ্যের গুণগত মান বর্ধিতকরন, অতিরিক্ত মূল্যহ্রাস ইত্যাদি কাজও সম্পন্ন করে। বর্তমান পৃথিবীতে প্রযুক্তি মানুষের মৌলিক চাহিদার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু বছর আগেও মানুষের কাছে যা স্বপ্নের মত ছিল আজ টা হাতের মুঠোয়। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও তথ্য ও প্রযুক্তির উন্নয়ন লক্ষণীয় ভূমিকা পালন করছে। এসকল অবদানের মধ্যে অন্যতম একটি হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন।

ডিজিটাল বাংলাদেশে আইসিটি বিভাগ প্রযুক্তির দ্রুততর পরিবর্তন, নতুন সুযোগ সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন ইত্যাদি ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। সম্প্রতি, এটি স্থানীয় উদ্যোক্তা, নব্য কমিউনিটি বিল্ডারস্‌, টেলকো, বিভিন্ন একাডেমীসমূহ এবং উন্নয়নশীল সংস্থাগুলির সাথে স্টার্টআপ সার্কেল নামে একটি গোল টেবিল বৈঠক করেছে। স্টার্টআপ ঢাকা তার ব্যবস্থাপনা দল, মুস্তাফিজুর আর খান, ফায়াজ তাহের এবং সামাদ মিরালির সাথে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

যেহেতু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সাধ্যমত বিভিন্ন স্তরে উন্নয়নমূলক কাজ করছে তাই সভায় ডিজিটাল বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রেখে আরও নতুন নতুন কাজ করার জন্য কিভাবে অন্যদের আগ্রহী করে তোলা যায় সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে। কারণ আইসিটি বিভাগের এই নতুন উদ্যোগের উপর বাংলাদেশের অর্থনীতি নির্ভর করছে।

দেশের তথ্য প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনায়েদ আহমেদ পলক আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন এবং জ্ঞান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে নতুন সংস্কৃতি তৈরির জন্য গুরুত্ব দেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন যেমন আইসিটি মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে কিছু নতুন প্লাটফর্ম তৈরি করেছে যা আমাদের উদ্যোক্তাদের পরামর্শ, তহবিল, সহকর্মী, বাণিজ্য ও আইন ইত্যাদি বিভিন্ন প্রয়োজনীয় দিক দিয়ে সহায়তা প্রদান করবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে তিনি সভায় উপস্থিত সকলকে সঙ্গবদ্ধ হয়ে কাজ করার জন্য আহ্বান করেছেন।

তিনি আরও বলেন যে দেশে একটি নতুন বাস্তুতন্ত্র তৈরি করতে এবং এর জন্য বিভিন্ন দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন সাহায্যের প্রয়োজন। তার মতে, দেশে জনবল থাকা সত্ত্বেও মানুষ একত্রিত হয়ে কাজ করছে না। সবাই মিলিত হয়ে পরস্পরকে সাহায্য করলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, অর্থায়নের দিক দিয়েও বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাবে। বর্তমানে ২২টি সংগঠন এই ক্ষেত্রে কাজ করছে। তাই প্রতিমন্ত্রী পলক আশা করেন যে এখন কেবল সময়ের ব্যাপার যখন আইসিটি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ সমর্থন সহ একসঙ্গে সকল সংগঠন পরিপূর্ণভাবে কাজ শুরু করবে।

আইসিটিটি স্টার্টআপ বাংলাদেশের চারটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আছে। সেগুলো হল যোগাযোগ, ই-গভর্নেন্স, মানব সম্পদ উন্নয়ন এবং আইসিটি শিল্প যেগুলো বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী আইসিটি সেক্টর তৈরি করতে সহায়তা করবে। এই বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ব্যাংকিং সেক্টর এবং গার্মেন্টস শিল্পের কথা উল্লেখ করেছে। পূর্বে ব্যাংকিং সেক্টর ও গার্মেন্টস শিল্প আন্তর্জাতিক পর্যায়ের থাকলেও বর্তমানে ব্যাংকিং সেক্টর স্থানীয় উদ্যোক্তাদের দ্বারা পরিচালিত হয়। তিনি মনে করেন অদূর ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ব্যবসার প্রধান কোম্পানি হয়ে উঠবে। তিনি আরো বলেন, যদিও বস্ত্র খাত আমাদের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখে কিন্তু এইচএন্ডএম, জারা প্রভৃতির মতো একক ব্র্যান্ড উত্পাদন করতে ব্যর্থ হয়। গার্মেন্টস শিল্প বৃহত্তর ব্র্যান্ডের কাছে বন্দী হয়ে আছে ফলে তুলনামূলকভাবে কম মূল্য প্রদান করেছে যা দীর্ঘমেয়াদী টেকসই নয়।

সভায় উপস্থিতও সবার উদ্দ্যেশে তিনি বলেন যে, আমরা যদি ভবিষ্যতের জন্য মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। অথবা আইসিটি শিল্প নির্মাণের জন্য বিলিয়ন ডলার হস্তান্তর করতে হবে যেমনটা ভারত তাদের স্থানীয় ব্যবসা উবার ও ওলার ক্ষেত্রে করেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা কোঁড়ার মত আমাদের কোন শক্তিশালী স্থানীয় কারিগরি সংস্থা নেই। তাই এখন  স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের ব্র্যান্ডকে সম্বৃদ্ধ করার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে যেন আমরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করে সফলতা অর্জন করতে পারি।

জনাব পলক পুনর্ব্যক্ত করেন যে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে তখন প্রযুক্তির বিভিন্ন সেবার চাহিদা বাড়বে। সেই সময় আজকের স্টার্টআপ কোম্পানিগুলো মানুষকে নিজেদের কাছে নিয়ে আসতে সক্ষম হবে। তাই এখন থেকে যদি সংগঠনগুলো নিজেরা পরস্পরকে অর্থ, জনবল, অভিজ্ঞতা দিয়ে সাহায্য করে তবে ভবিষ্যতে দাতা ও ভোক্তা যার যার ক্ষেত্র থেকে সুফল ভগ করতে পারবে এবং আমাদের দেশ যথেষ্ট সাবলীলভাবে বিভিন্ন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধান করতে পারবে।

আইসিটি বিভাগ যত আগ্রসর হবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব তত বেশি প্রস্ফুটিত হবে। দেশের স্বার্থে আমাদের সচেতন ভাবে অর্থ ব্যয়ের ঝুঁকি কমাতে হবে। এক্ষেত্রে আইসিটি বিভাগ পরবর্তীতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের উন্নতি সাধন করতে পারবে।

 

 

মন্তব্য করুন

Top