প্রযুক্তিতে সবচেয়ে ক্ষমতাধর পাঁচ নারী - ফিনটেক বাংলা
You are here
Home > অতুলনীয় নারী > প্রযুক্তিতে সবচেয়ে ক্ষমতাধর পাঁচ নারী

প্রযুক্তিতে সবচেয়ে ক্ষমতাধর পাঁচ নারী

শেরিল স্যান্ডবার্গ (সিওও, ফেসবুক)

অনুবাদ: সৈয়দা তাসমিয়াহ্ ইসলাম

শেরিল স্যান্ডবার্গ

-সিওও, ফেসবুক

২০১২ সালের জুন মাসে শেরিল স্যান্ডবার্গ ফেসবুকের পরিচালনা পরিষদের প্রথম মহিলা হিসেবে মনোনীত হন। একই বছর তিনি টাইমসের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে তালিকাভুক্ত হোন। ফেসবুকে তার কাজ করার পূর্বে শেরিল মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি এর প্রধান ছিলেন এবং পরবর্তীতে গ্লোবাল অনলাইন বিক্রয় ও অপারেশন এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে গুগলে নিযুক্ত হোন।

তিনি লিন ইন: উইমেন, ওয়ার্ক এবং উইল টু লিড গ্রন্থের লেখক যেখানে তিনি নারীবাদী মতবাদ, কর্মক্ষেত্রে যৌনতা এবং পেশাদার জগতে লিঙ্গ সমতাতে সামাজিক বা ব্যক্তিগত বাঁধাগুলির সমালোচনা করেছেন। এটি বিক্রিত বইয়ের তালিকার শীর্ষস্থানে ছিল এবং এক মিলিয়নের বেশি  কপি বিক্রি হয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনগুলির মতে, বর্তমানে শেরিল স্যান্ডবার্গের সম্মিলিত অর্থের পরিমাণ এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চেয়ে বেশি।

সুজান ওয়াজাস্কি (ইউটিউবের সিইও)

সুজান ওয়াজাস্কি 

-ইউটিউবের সিইও

 সুজান ১৯৯০ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস ও সাহিত্যে সম্মানের সাথে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। মূলত, তার পরিকল্পনা ছিল অর্থনীতিতে পিএইচডি অর্জন করে অর্থনীতি সম্পর্কিত কোন একাডেমীতে কাজ করবেন। কিন্তু প্রযুক্তিতে আগ্রহী হওয়ার পর তিনি তার পড়ার কোর্স পরিবর্তন করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি গুগলে প্রথম মার্কেটিং ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগদান করেন এবং বিজ্ঞাপন ও বাণিজ্যের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে কাজ করেন। কিছুদিনের জন্য গুগল ভিডিও দেখাশোনা করার পর সুজান ইউটিউবকে কেনার প্রস্তাব করেন তাদের কোম্পানিকে। ২০০৬ সালে তিনি ১.৬৫ বিলিয়ন ক্রয় পরিচালনা করেন। একই বছরে তার তত্ত্বাবধায়নে গুগল  ৩.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে ডাবলক্লিক কিনে নেয়। পরবর্তীতে তিনি নিজেই যথাক্রমে ২০০৬ ও ২০০৭ সালে গুগলের সবচেয়ে বড় অর্জন ইউটিউব এবং ডাবলক্লিক পরিচালনা করেন। ২০১৪ সালে সুজান ইউটিউবের সিইও হিসেবে নিযুক্ত হোন। পাঁচ সন্তানের জননী সুজান সুনিপুণভাবে তার পরিবার ও কর্মজীবনে সুষমতা বজায় রাখেন। শেরিল স্যান্ডবার্গের মত তিনিও ২০১৫ সালে বিশ্বের ক্ষমতাসীন ১০০ ব্যক্তিবর্গের মাঝে নিজের স্থান অর্জন করে নেন।

গিনি রোমেটি (সিইও, আইবিএম)

গিনি রোমেটি

-সিইও, আইবিএম

 গিনি একই সাথে আইবিএমের চেয়ারম্যান, প্রেসিডেন্ট এবং সিইও-এর ভূমিকা পালন করেন। তিনিই প্রথম নারী যিনি একই সাথে এতগুলো পদের দায়িত্বে আছেন। ১৯৯১ সাল থেকে তিনি এখানে বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং পরবর্তীতে ২০১১ সালে তিনি সিইও এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে আসন গ্রহণ করেন। দশ বছর ধারাবাহিকভাবে তিনি ফর্চুন ম্যাগাজিনে “৫০ জন সর্বাধিক ক্ষমতাসীন ব্যবসায়ী নারী” হিসেবে নিজের অবস্থান অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হয়েছেন। ২০১৪ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনে তিনি শীর্ষ ১০০ জন ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের একজন হিসেবে স্থান অর্জন করেন।

 

মেগ হুইটম্যান (সিইও হিউলেট প্যাকার্ড)

মেগ হুইটম্যান

-সিইও হিউলেট প্যাকার্ড

মেগ হুইটম্যান একটি দীর্ঘ এবং বৈচিত্রপূর্ণ কর্মজীবনে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এবং বিভিন্ন নামকরা প্রতিষ্ঠানে এক্সিকিউটিভ হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮০ এর দশকে তিনি ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানিতে স্ট্র্যাটেজিক প্লানিংএর ভাইস প্রেসিডেন্টের পদলাভ করেন। ১৯৯০ সালে তিনি ড্রিমওয়ার্কস, প্রোক্টর এন্ড গ্যাম্বল, হাসব্রোতে কাজ করেন। এরপর ১৯৯৮ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি ই-বের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্বের সেরা ১০০ মহিলাদের মধ্যে ফোর্বসের ২০১৪ সালের তালিকাতে মেগ ২০তম স্থানলাভ করেছিলেন।

 

মারিসা মেয়ার (সিইও, ইয়াহু)

মারিসা মেয়ার

-সিইও, ইয়াহু

২০১২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মারিসা ইয়াহুর প্রেসিডেন্ট এবং সিইও হিসেবে নিযুক্ত আছেন। পূর্বে তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গুগলে একজন এক্সিকিউটিভ ও মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৩ সালে, মারিসা টাইমসের ১০০ জন ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের তালিকায় নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে ২০১৪ সালে ফর্চুন ম্যাগাজিনের অনূর্ধ্ব চল্লিশ ক্ষমতাসীন নারীদের তালিকায় তিনি ছিলেন ষষ্ঠ এবং সর্বাধিক ক্ষমতাবান ব্যবসায়ী নারীদের তালিকায় তিনি ১৬তম স্থান অর্জন করেছিলেন।

 

মন্তব্য করুন

Top