'নারীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বেগম হবে ডিজিটাল বাংলাদেশের নিরেট মঞ্চ' - ফিনটেক বাংলা
You are here
Home > অন্যান্য > ‘নারীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বেগম হবে ডিজিটাল বাংলাদেশের নিরেট মঞ্চ’

‘নারীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বেগম হবে ডিজিটাল বাংলাদেশের নিরেট মঞ্চ’

রাখশান্দা রুখাম তরুণ নারী উদ্যোক্তাদের একজন যিনি প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করছেন মাত্র ২১ বছর বয়স থেকে। রাখশান্দা ‘উইমেন টেকমেকার্স বাংলাদেশ’ এর একজন অগ্রদূত এবং ৩০০০ এর বেশি সদস্য রয়েছে যারা বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে নিয়ে যাওয়ার জন্য মুখ্য ভূমিকা পালন করছে।

তিনি ‘বেগম.কো’ নামে একটা সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন যার মাধ্যমে বাংলাদেশের সমস্ত নারীদের কে সহায়তা করে থাকেন প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে, সুন্দর জীবন যাপন করতে এবং নির্ভয়ে নিরাপদে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে। এই ধরণের প্ল্যাটফর্ম প্রবর্তন করার কারণে রাখশান্দা ‘সিডস্টার্স ঢাকা’ তে টপ উইমেন ফাইনালিস্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং ‘ব্র্যাক মন্থন ডিজিটাল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড ২০১৬’ পেয়েছেন তার অসাধারণ কাজের জন্য। তাছাড়া, রাখশান্দা গুগল ডেভেলপার সামিট ২০১৬ তে শীর্ষ বক্তা নির্বাচিত হয়েছেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়েছিল সানফ্রান্সিসকোতে।

বর্তমানে তিনি প্রেনেয়ার ল্যাবে ভেঞ্চার ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। প্রেনেয়ার ল্যাব এমন একটি কোম্পানি যার একটি সফটওয়্যার রয়েছে ‘দোস্ত বট’ নামে এবং এই দোস্ত বটের মাধ্যমে সদস্যরা বয়ঃসন্ধিকালীন নারীদেরকে তাদের সুপ্ত সমস্যাগুলোর সমাধান দিয়ে থাকে।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত বেসিস  সফ্টএক্সপো ২০১৮ এর ৪ দিন ব্যাপি মেলার  শেষ দিবসে ফিনটেক সদস্যদের সাথে কথা হয়। তরুণ বয়সে তার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পেছনের গল্প ফিনটেক পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন অনন্য রাজ্জাক

ফিনটেক: আপনার এবং আপনার শিক্ষাজীবন সম্পর্কে কিছু বলুন। আপনার কি কখনো ভেবেছিলেন আপনি একজন উদ্যোক্তা হবেন এবং নারীদের নিয়ে কাজ করবেন যখন আপনি  পড়াশুনা করতেন? 

রাখশান্দা রুখাম: আমি রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে পড়াশুনা করেছি। ইন্টার মিডিয়েট পাশ করে আমি স্নাতক করি দিনাজপুরে। আমি সিএসই বিভাগে পড়াশুনা করি আর আমার টেলিকম বিষয় ছিল। সেই সময় পড়াশোনা করতে করতে আমার মনে হতে থাকে যে আমি কিছু একটা করবো। আমরা তখন মেয়েরা মিলে বিভিন্ন কাজ করতাম, সংগঠন করতাম ইউনিভার্সিটিতে। দিনাজপুরের মতো জায়গায় ঢাকার মতো সুযোগ সুবিধা পৌঁছায় নি। অনেক তথ্য, প্রযুক্তিগত কার্যাবলী আমরা সহজেই জানতে পারতাম না বা আমাদের বিদ্যাপীঠেরই অনেক মেয়েরা অনেক কিছু সম্পর্কে জানতো না বা পিছিয়ে ছিল।  তাই আমার মনে হলো, তারা অনেক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মেয়েদের এই সুযোগগুলো দেয়া দরকার, তাদের অনেক কিছু সম্পর্কে জানা দরকার। এবং তারা যেন ওই সুযোগ সুবিধাগুলো পেতে পারে যেগুলো ঢাকায় বা অন্যান্য দেশগুলোতে মেয়েরা পেয়ে থাকে। আমি যদি কোনো চাকরিতে চলে যাই, তাহলে আমি সেভাবে স্বপ্নগুলোকে হয়তো পূরণ করতে পারবো না। কেননা এই ধরণের কাজগুলোকে একমাত্র উদ্যোক্তাই পারে সফল করতে। পড়াশোনা করতে করতেই আমি একটা প্রকল্প হাতে নেই মেয়েদের নিয়ে কাজ করার জন্য আর সেই প্রকল্পটা হলো ‘বেগম’। তখন থেকেই আমার উদ্যোক্তা হিসেবে পথ চলা শুরু হয়।

ফিনটেক: আপনি পড়াশোনা করতে করতেই ‘বেগম’ এর ধারণা পান। বেগমের মাধ্যমে আপনি কি করেছিলেন এবং কিভাবে শুরু করলেন – সে সম্পর্কে জানতে চাই।    

রাখশান্দা রুখাম:  আমি নিজেও একজন নারী। নিজের কিছু অভিজ্ঞতা থেকে আমার মনে হলো, যারা ক্যারিয়ার এক্সপার্ট বা বিভিন্ন প্রফেশনে আছেন বা আমাদের যারা শিক্ষক শিক্ষিকা আছেন তাদের সাথে আমাদের একটা দূরত্ব আছে।  বিশেষ করে মেয়েদের সাথে প্রফেশনাল দিকগুলোতে কোথায় যেন একটা প্রতিবন্ধকতা আছে।  তখন আমার মনে হলো, শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করা উচিৎ।    কিন্তু কিভাবে সেটা বাস্তবায়ন করবো সেটা ভাবছিলাম কারণ আমি নিজেও তখন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করি। তবুও আমি চেষ্টা করলাম কিছু একটা আমি করবো যেন মেয়েরা সহযোগিতা পায়।  আমি প্রথমে বেগমের ওয়েবসাইট শুরু করি, শুরু করে অনেকের সাথে কানেক্টেড হতে থাকি এবং ব্লগে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালিখি শুরু করি যেন সচেতনতাটা বাড়ে। লেখালিখির পাশাপাশি মেয়েদেরকে আমরা ছোটোখাটো প্রশিক্ষণ দিতাম মানে কোর্স করাতাম যেন মেয়েরা পড়াশুনার পাশাপাশি কিছু করতে পারে। এমন কি আমরা ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থাও করে থাকি। ঘরে বসে কেউ কাজ করতে চাইলে তাদেরকে আমরা সহোযোগিতাটা করে থাকি।  তখন থেকেই আসলে বেগমের জন্য চিন্তা ভাবনা শুরু হয়। 

২০১৬ এর শেষের দিকে আমরা একটা অপশন রাখলাম যেখানে যে কেউ কোনো সমস্যায় পড়লে জিজ্ঞেস করবে এবং আমরা তার সমাধান দেয়ার চেষ্টা করবো। এই ব্যাপারটা নিয়ে আমরা বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির সাথে কথা বলেছি, কর্পোরেট সেক্টরে গিয়ে আলাপ করেছি এবং তাদের মধ্যে যারা বিষয়গুলো ভালো বোঝেন তারা যেন কাউন্সিলর হিসেবে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন।

যেমন আমাকে সেদিন একটা মেয়ে প্রশ্ন করলো, “আমি সাত বছর ধরে ব্যাংক জব করছি, আমি এখন জব সুইচ করতে চাচ্ছি।  আমার কি করা দরকার? সুইচ করা ঠিক হবে কি না ? আসলে এ ধরণের প্রশ্নের উত্তর হাসব্যান্ড বা বাবা মা’দের  কাছে পাই না। আর বয়োজ্যেষ্ঠদের  কাছে জানতে চাইলে থেকে যেতে বলেন। আসলে কোনটা ঠিক ?

অর্থাৎ তারা কিন্তু স্বাধীন বা প্রকৃত উত্তরটা পাচ্ছে না। আর এই ব্যাপারগুলো মাথায় রেখে ‘বেগম’ এর যাত্রা পুরোপুরিভাবে শুরু হয়।

ফিনটেক: আচ্ছা, প্রশ্নোত্তরের ক্ষেত্রে কি শুধু মেয়েরাই প্রশ্ন করে? মানে এটা কি শুধু মেয়েদেরকে নিয়েই করা?

রাখশান্দা রুখাম: হা হা হা হা… আসলে কনসেপ্টটা কিন্তু মেয়েদের কথা মাথায় রেখেই করা হয়েছিল। তবে বেগম আলাদা করে শুধু মেয়েদের জন্যই করা নয়। অনেক ছেলেরাও আছে যারা অনেক কিছু জানতে চায়, সে ক্ষেত্রে তারা অবশ্যই বেগমে প্রশ্ন করতে পারে। আমরা সেই অপশন রেখেছি তবে মেয়েরাই বেশির ভাগ সময় প্রশ্ন করে থাকে।   

ফিনটেক: আপনি ইন্টার্নশিপের কথা বলছিলেন। আপনারা কি বিভিন্ন কোম্পানিতে সরাসরি ব্যবস্থা করে দিয়ে থাকেন?

রাখশান্দা রুখাম: হ্যাঁ, আমরা একটা নেটওয়ার্ক তৈরী করে দিচ্ছি বিভিন্ন কোম্পানিতে। তাছাড়া আমাদের এখানেও ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করে দেই। পাশাপাশি খুব অল্প টাকার বিনিময়ে আমরা অন লাইন, অফ লাইন কোর্স করিয়ে থাকি তাদের জন্য। আমরা বেগম কে বলে থাকি ‘বেগম ইজ দ্য ৩৬০ ডিগ্রি সলুশন ফর উইমেন ইমপাওয়ারমেন্ট’। আমরা বেগমের ব্লগের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, যৌন, পুষ্টি নিয়ে লেখালিখি করি। আমাদের ফেইসবুক গ্রূপে প্রায় ১০০০ মেয়ে কানেক্টেড আছে। তাছাড়া আমরা অনুপ্রাণিত করে থাকি মেয়েদের এখানে লেখালিখি করার জন্য। তারা এখানে এসে অনেক কিছু শিখতে পারে, জানতে পারে এবং জীবনের জন্য কাজে লাগাতে পারে।  এছাড়াও ২০১৮ তে কি কি চাকরি আছে সে সম্পর্কে জানানো হয় বেগমের মাধ্যমে এবং ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল নিয়েও লিখা লিখি করে থাকি। আসলে আমরা চাচ্ছি, মেয়েরা যেন পিছিয়ে না থাকে, তাদের  জীবন কে উন্নতি করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এবং এর জন্য যা যা করণীয় আমরা করছি।

ফিনটেক: আপনারা যে মেয়েদের নিয়ে এরকম একটা সুন্দর কাজ হাতে নিয়েছেন সেখানে কি কোনো নির্ধারিত বয়স সীমা আছে?

রাখশান্দা রুখাম: আমরা যেকোনো বয়সের যেকোনো নারীদের নিয়েই কাজ করছি। কোনো নির্ধারিত বয়স সীমা নেই। শুধু যে তরুণীরাই থাকবে, বা অসহায় নারীরাই কাজ করবে তা না। প্রতিটা শ্রেণীর প্রতিটা নারীদের নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই এবং আমরাও তাদেরকে কানেক্ট করে থাকি আমাদের এই বেগমে।

ফিনটেক: বেগম এর পথচলা প্রধানত কবে থেকে শুরু হয়?

রাখশান্দা রুখাম: ব্লগ পেইজটা শুরু করেছিলাম ২০১৫ তে। পরবর্তীতে প্রশ্নোত্তর, বিভিন্ন কোর্স চালু করেছিলাম ২০১৬ তে। মূলত আমরা বেগমের কাজ শুরু করে থাকি ২০১৫-তেই। আর তখন আমরা নিজেরাই অনেক দূর দূরান্তে চলে যেতাম মানে খুব রিমোট এলাকা গুলোতে, সেখানে গিয়ে মহিলাদের কাজ শিখিয়েছি, বুঝিয়েছি, স্বাস্থ্য সচেতন করেছি এমনকি ঢাকাতেও অনেক সুবিধাবঞ্চিত নারীদের কাজ শিখিয়েছি যেন তারা কিছু করতে পারে।

ফিনটেক: ব্লগ বা বিভিন্ন সাইট যেটাই বলি না কেন, আইটি বা কর্পোরেট সেক্টরে মেয়েদের বিচরণ খুব কম – এটার কারণ কি বলে মনে হয় আপনার? তারা আইটি সেক্টরে কেন প্রবেশ করছে না?

রাখশান্দা রুখাম: ২০১৬ তে প্রথম আলোতে আমাদের একটা ফিচার বের হয়েছিল যেখানে একটা তথ্য ছিল যে আইটি সেক্টরে বাংলাদেশী মেয়েদের সংখ্যা ১০% এর নিচে। আসলে ব্যাপারটা কি জানেন, আমাদের মেয়েদের মধ্যে ভয়টা বেশি কাজ করে। যেমন সায়েন্স বা টেকনোলজি বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে বেশ ভয় পায়, এমন কি গণিতেও ভালো করতে পারছে না এবং আগ্রহ পাচ্ছে না। এর প্রধান সমস্যাটা হচ্ছে আমাদের মেয়েদের ‘মাইন্ডসেট’। ঢাকাতে নেটওয়ার্কিং-এর অনেক সুযোগ আছে যেটা ঢাকার বাইরে কিন্তু কম। আমরা যদি মেয়েদেরকে ভয় কাটিয়ে নিয়ে আসতে পারি, এটার পরিসর ধীরে ধীরে বাড়বে। প্রচারণা দরকার অনেক বেশি।

ফিনটেক: মেয়েদের জন্য সামাজিক প্রতিবন্ধকতা অনেক বড় একটা সমস্যা বিশেষ করে জব সেক্টরে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বেগম’ কি ধরণের ভূমিকা রাখছে ?

রাখশান্দা রুখাম: কর্পোরেট সেক্টর, বিশেষ করে আইটি সেক্টর গুলোতে অনেক ধরণের কাজ আছে, যেগুলো করতে করতে অনেক সময় লেগে যায়, এমন কি বাড়িতে বসেও কাজ করতে হয়। কাজ করতে করতে অনেক সময় রাত হয়ে যায়। আমাদের সমাজে মেয়েদের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারগুলো ভালো চোখে দেখা হয় না। এই ধারণাটা ঠিক  না কারণ আইটি সেক্টরে অনেক সুযোগ আছে। আপনি বাসা থেকে বিভিন্ন কাজ করতে পারছেন, জরুরি মেইল করতে পারছেন, ক্লায়েন্টদের সার্ভিস দিতে পারছেন।  আর কাজের এই ফ্লেক্সিবিলিটিটা আমাদের মেয়েদের জন্য বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।

আমি যখন এই ব্যাপারগুলো লক্ষ্য করলাম, তখন দেখলাম এই ধরণের ভ্রান্ত ধারণাগুলোর পরিবর্তন আনা উচিৎ। তখন ব্লগে আমরা এই সুযোগটাও রাখলাম যে কোনো ধরণের সমস্যা হলে ব্লগে প্রশ্ন করতে। এবং যারা এই ব্যাপারে অভিজ্ঞ, যারা নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে নিজেকে অনেক দূরে নিয়ে গেছে তারা সেই সমস্যার উত্তর দিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করতো। এখনো ‘বেগম’ এই ধরণের সুযোগ করে দিচ্ছে আর প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সহযোগিতা করে চলেছে। অনেকে সাড়াও কিন্তু পাচ্ছে।

 

ফিনটেক: আপনি ‘গুগল ডেভেলাপার সামিট ২০১৬ ‘ তে ‘টপ স্পিকার’ হয়েছিলেন। সেই সম্পর্কে কিছু বলুন। 

রাখশান্দা রুখাম: গুগল ডেভেলপারে আমার স্পিকিং টপিকটা ছিল ‘ইমপাওয়ারিং থ্রি থাউজ্যান্ড এন্ড ফাইভ হান্ড্রেড উইমেন’। এটা তো টপিক ছিল, কিন্তু আমি গুগল ডেভেলপারের সাথে অনেক থেকেই কাজ করতাম। বিভিন্ন জায়গায় যেতাম, মেয়েদের সাথে কথা বলতাম।  এভাবে কাজ করতে করতে অনেক মেয়েদেরকে আমরা পেয়েছিলাম।  তখন আমরা যারা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিযোগিতা করতে এসেছিলাম, আমাদেরকে বলা হলো তোমাদের কাজ নিয়ে লেখালিখি করো। কমিউনিটি লিডার হিসেবে আমি অনেক কিছু করেছিলাম এবং আমার কাজ সম্পর্কে আমি সেগুলো ওদেরকে জানিয়েছিলাম। ওই কাজের জন্য আমি অনেক প্রশংসা পেয়েছিলাম। অনেক ভোট পেয়েছিলাম। আর গুগল হয়তো ভেবেছিলো যে আমার মধ্যে ওই সম্ভাবনা আছে, আমি হয়তো এই কাজ গুলো করে যেতে পারবো – তখন আমি সিলেক্টেড হই টপ স্পিকার হিসেবে। ওয়ার্ল্ডের মধ্যে ওই প্রতিযোগিতায় আমি সবচেয়ে বেশি ভোট পাই, আর টপ স্পিকার হতে স্বক্ষম হই। প্রায় ১৫০ টা দেশ থেকে অনেকে সামিটে অংশগ্রহণ করেছিল। আসলে আমার কাজটাকে মানুষ পছন্দ করেছিল বিধায় আমি টপ স্পিকার হতে পেরেছিলাম। 

ফিনটেক: বেগম নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি এবং বছর পর বেগমকে আপনি কোথায় দেখতে চান?

রাখশান্দা রুখাম: আমি সবসময় চেয়েছি, আমাদের দেশের মেয়েরা ক্যারিয়ারের দিক থেকে যেন এগিয়ে যেতে পারে। যারা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তারা যেন সেগুলোকে পরাস্ত করে সামনের দিকে চলতে পারে। এবং নারীদেরকে ক্যারিয়ারের দিকে নিয়ে আসতে যা যা সাপোর্ট মেয়েদেরকে দেয়া দরকার, সেটা যেন বেগম করে যেতে পারে – এটাই প্রত্যাশা। একটা স্কুল পড়ুয়া মেয়ে থেকে শুরু করে বয়স্ক মহিলা- সবাই যেন স্বাধীনভাবে নিরাপত্তার সাথে চলতে পারে, আর সেটাই হবে বেগমের একমাত্র লক্ষ্য।

আর হ্যাঁ, ৫ বছর পরে আমি বেগমকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উইমেন কানেক্টেড প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখতে চাই  সর্বস্তরের নারীদের বিচরণ থাকবে সফলতার সাথে এবং এটা হবে একটা ৩৬০ ডিগ্রি সল্যুশন যেন মেয়েদের যেকোনো ধরণের সহযোগিতার কথা আসলেই সবার মুখে একটা কথাই উচ্চারিত হবে – “বেগম”।

মন্তব্য করুন

Top