‘প্রযুক্তির কল্যানে স্বাস্থ্য খাতে প্রতিটি মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাই হবে আমাদের প্রতিশ্রুতি’ - ফিনটেক বাংলা
You are here
Home > ইন্টারভিউ > ‘প্রযুক্তির কল্যানে স্বাস্থ্য খাতে প্রতিটি মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাই হবে আমাদের প্রতিশ্রুতি’

‘প্রযুক্তির কল্যানে স্বাস্থ্য খাতে প্রতিটি মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাই হবে আমাদের প্রতিশ্রুতি’

সাজিদ রহমানের সাথে সাক্ষাৎকার।  সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মিজানুর রহমান ও সাকিব সরকার। মূল সাক্ষাৎকারটির অনুবাদ করেছেন অনন্য রাজ্জাক। 

সাজিদ রহমান বিশ্বের ইমার্জিং মার্কেটে একজন নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়ী যিনি বর্তমানে টেলিনর গ্রূপের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং টেলিনর হেলথের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন।এছাড়াও তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,এশিয়া এবং যুক্তরাজ্যে প্রযুক্তি ও শক্তি সংস্থার জন্য পরামর্শদাতা বোর্ড সদস্য এবং বিনিয়োগকারীদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। তিনি বাংলাদেশে প্রথম প্রযুক্তি প্রজেক্টর প্রোগ্রাম এবং গ্রামাঞ্চলে অ্যাক্সিলার প্রোগ্রাম নির্মাণ করেছেন। সাজিদ রহমান শ্রেষ্ঠত্বের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি এবং নতুন ব্যবসায় সুযোগ তৈরির জন্য একজন অনুঘটক হিসেবে কাজ করে চলেছেন। চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার অসাধারণ ক্ষমতা তাকে অতুলনীয় করেছে সারা বিশ্বের কাছে।  সম্প্রতি তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের কল্যানে ফান্ড বাড়ানোর জন্য “ফোর ম্যারাথন সিরিজ” সম্পন্ন করেছেন।

ফিনটেকের সুযোগ হয়েছিল এই অনন্য সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলার, তার সম্পর্কে জানার। ফিনটেক পাঠকদের জন্য সাজিদ রহমানের সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো।

ফিনটেক: আপনার সম্পর্কে নতুন করে কিছু জানার নেই। তবুও একটা আনুষ্ঠানিকতা আছে বিধায় আমরা জানতে চাই আপনার ছাত্রজীবন থেকে আপনার ক্যারিয়ার জীবনের পথ চলার গল্প।

সাজিদ রহমান: আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করেছি মার্কেটিং থেকে। আমার মেজর ছিল মাস্টার অভ কমার্স। তখন যারা ফার্স্ট ক্লাস নিয়ে বের হতো, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সুযোগ থাকে। আমারও ফার্স্ট ক্লাস ছিল এবং সুযোগ হয়েছিল শিক্ষকতা করার। কিন্তু আমার ইচ্ছে ছিল আমার প্রফেশনাল জীবনটা হবে অন্যরকম। তো শিক্ষকতায় যাই নি, প্রথম জীবনে গ্রিন্ডলেইস ব্যাংকে আমার ক্যারিয়ার জীবন শুরু করি।  সেখানে কাজ করতে করতে আমার একটা প্রজেক্ট এ কাজ করার সুযোগ হয়। আজকে আপনারা যেই ক্রেডিট কার্ডের প্রচলন দেখছেন, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে কার্ড ব্যবহার করছেন, সেই ক্রেডিট কার্ডের সূচনা আমার প্রজেক্টের মাধ্যমেই হয়। তারপর আমি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে চলে আসি। শেষ পর্যন্ত স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড এর কনজিউমার প্রোডাক্টের সাথে কাজ করতে থাকি। আপনারা হয়তো জানেন যে, বাংলাদেশে ‘ডাইরেক্ট সার্চ’ বলে একটা কনসেপ্ট আছে, সেটা বাংলাদেশে আমি প্রথম লঞ্চ করেছিলাম। এবং সেখানে প্রায় দেড় থেকে দু হাজার লোক কাজ করতো।

স্ট্যান চার্ট থেকে আমি দেশের বাইরে চলে যাই, এবং বিভিন্ন জায়গায় আমি কাজ করেছি। আফ্রিকাতে, মিডল ইস্টে, এবং শেষে ছিলাম ইন্দোনেশিয়াতে। ইন্দোনেশিয়াতেও আমি ব্যাংকিং এই কাজ করেছি, ব্যাঙ্কিং বিজনেস দিকটা আমি দেখতাম সেখানে। তো সেটা ছেড়ে দেয়ার পর আমি নিজের উদ্যোগে কিছু কাজ করি। আমরা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড তৈরী করি এবং সিলিকন ভ্যালিতে থেকে আমরা বিভিন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ শুরু করি।  এভাবে কাজ করতে থাকি।  আর আমার মনে হয়েছে যে আমি তিনটা সেক্টর নিয়ে কাজ করবো। প্রথম সেক্টরটা ছিল প্রযুক্তি নিয়ে। আমার তখন হয়েছিল, যত সমস্যা আছে, সেগুলো যদি আমরা প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে এসে সমাধান করতে পারি, তাহলে আমরা অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারবো। বড় বড় সমস্যা যেমন স্বাস্থ্য সমস্যা, ফিনান্সিয়াল সার্ভিস এর সমস্যা, বা অনেকের ব্যাংকে অ্যাক্সেস করতে পারে না, কিংবা শিক্ষা ক্ষেত্রে সমস্যা – এগুলোর সমাধান কিন্তু প্রযুক্তির মাধ্যমেই সম্ভব। তো সেজন্যই তখন আমরা ফান্ড তৈরী করি, বিনিয়োগ করতে থাকি। আমরা এক্সসেলারেটর প্রোগ্রাম করি। বাংলাদেশে আমরা একটা ফার্ম তৈরী করি। যারা চাকরি করে কিন্তু কোম্পানি খুলতে চায় – তাদের জন্য সাপর্ট হিসেবে কাজ করা। এটা সিলিকন ভ্যালি থেকে করা প্রোগ্রাম কিন্তু বাংলাদেশে আমরা প্রথম নিয়ে এসেছি। উনাদেরকে নিয়ে একটা ৪ মাসের প্রোগ্রাম হয়, যেখানে চাকরিজীবীরা সন্ধ্যার পর এসে কাজ করতে পারে। অনেক কিছু তাদেরকে সেখান হয় এবং কাজ করতে হয়।  মানে একদম একটা কোম্পানি ফর্মেশন থেকে শুরু করে পরিপূর্ণ কোম্পানিতে দাঁড় করানোর জন্য যা যা করতে হয়, সব তাদেরকে করতে হতো। এখন বেশ কিছু স্টার্টআপ কোম্পানি দেখা যায় যেগুলো ওই ফান্ডিং ইনস্টিটিউট থেকে এসেছে।

দ্বিতীয়ত, আমাদের ইচ্ছে ছিল, এনার্জি সেক্টরে কিছু করার। ধরুন আপনি প্লেন এ করে একটা দেশে গেছেন, এবং প্লেইন থেকে নেমে আপনি কিন্তু বুঝতে পারবেন ওই দেশে কতটা উন্নয়নের আলো জ্বলছে। সেরকম আপনি যদি উন্নয়নশীল দেশে নামেন তাহলে দেখবেন অন্ধকার।  মানে আলোর ঝলকানি নাই। তারমানে সেভাবে ইলেকট্রিসিটি সেখানে পৌঁছায়নি। তাই আমার মনে হয়েছিল বাংলাদেশে এনার্জি সেক্টরে কাজ করার। কিন্তু বাংলাদেশে সেভাবে রিসৌর্স নাই। আমরা গ্যাস দিয়ে করি, কিন্তু কিছু লিমিটেশন আছে। তাই আরেকটা অপশন থাকে যে বাইরে থেকে ইম্পোর্ট করা। আবার বাংলাদেশে রিনিউএবল এনার্জিতে যান, তাহলে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। সেজন্য আমরা একটা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছিলাম যে সোলার ইউজ না করে উইন্ড দিয়ে কাজ করা যায় কিনা।

তৃতীয়ত, চাকরিরত অবস্থায় আমার মনে হলো, স্বাস্থ্য খাতে আমার কিছু করা উচিৎ। একইভাবে, বাংলাদেশে বা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সঠিক স্বাস্থ্য খাতে মানুষের প্রবেশ নাই। অনেকে ভাবে, বড় জায়গায় থাকলে ভালো স্বাস্থ্য খাতে প্রবেশ থাকবে, অন্য জায়গায় থাকলে হবে না – এটা আমার মনে হয় ভ্রান্ত ধারণা। মানুষ হিসেবে সবারই এটা মৌলিক অধিকার। জন্ম মানুষ যেখানেই করুক না কেন, সবারই অধিকার আছে সুস্বাস্থ্যের সঠিক খাতে প্রবেশের। তাই আমার ইচ্ছে ছিল এই খাত নিয়ে কাজ করার এবং সেই সূত্র ধরে আমার টেলিনরে কাজ করতে আসা। আর বাংলাদেশে প্রথম আমরা টেলিনর হেলথ নিয়ে কাজ শুরু করেছি যেখানে মূল দর্শন হচ্ছে, যদি মানুষের কাছে মোবাইল অ্যাক্সেস থাকে, তাহলে প্রযুক্তির মাধ্যমে সবার কাছে স্বাস্থ্যের অ্যাক্সেস থাকবে না কেন? মানুষ প্রথম যখন চাঁদে গিয়েছিলো, তখন মোবাইল প্রযুক্তির সহায়তা বেশি ছিল। তো সেই মোবাইল যদি মানুষের কাছে থাকে, তাহলে আমরা কেন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের কাছে শিক্ষা, চিকিৎসা দিতে পারবো না ? এটাকে আমরা ডিজিটাইজেশনের আওতায় নিয়ে আসতে পারলে সবাই লাভবান হবে।

প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে যদি মানুষের মৈলিক চাহিদাগুলো কে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়, তাহলে আমরা পিছিয়ে থাকবো কেন? আর এটা করতে পারলে, বাংলাদেশের ডিজিটাল মার্কেটে বিরাট সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

ফিনটেক: আপনি ক্যারিয়ার শুরু করেছেন গ্রিন্ডলেইস ব্যাংকে। এটা একটা প্রবাদের মতো হয়ে আছে যে গ্রিন্ডলেইস ব্যাংকে যারা কাজ করে তারা কখনো অসফল হয় না। আপনার সফলতার পেছনের রহস্য কি ?

সাজিদ রহমান: আপনি জানেন নিশ্চয় সেই সময়ে গ্রিন্ডলেইস ব্যাংক এবং আমেরিকান এক্সপ্রেস ছিল বড় ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান। যেহেতু গ্রিন্ডলেইস ফরেন ব্যাংক, ট্রেইনিং ছিল খুবই কাঠামোগত এবং নিয়ন্ত্রিত। তাই যারা সেখানে কাজ করেছে তারা একটা নিয়ম এবং নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে থেকেই বড় হয়েছে। আর আমরা দেখেছিও যে ওই সেক্টরে যারা কাজ করেছে, তারা সবাই সফল। তারমানে এই না যে অন্যান্য ব্যাংকে যারা কাজ করেছেন, তারা সফল হতে পারেন নি।  আসলে, একটা সিস্টেম এবং ডিসিপ্লিনটা ছিল ব্যতিক্রমধর্মী।

আমার ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, গ্রিন্ডলেইস থেকে কাজ করে, স্ট্যান চার্ট থেকে চলে যাই বাইরে ২০০৬ সালের দিকে। সেই সময় আমার মনে হয়েছিল, ব্যাংকিং সেক্টরে কিছু লিমিটেশনস আছে, যদিও ব্যাংকিং সেক্টরটা গ্রোইং পর্যায়ে ছিল। ট্র্যাডিশনাল যেই ব্যাংকিং গুলো আছে, সেটা ক্যাপিটাল রেইজ করার মতো যথেষ্ট সক্ষম নয়। যেমন ধরেন, বাংলাদেশে ১২ কোটি মানুষের হাতে মোবাইল আছে, কিন্তু ওই ১২ কোটি মানুষের মধ্যে সবার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। তার মানে ব্যাংকিং সেক্টরটা ওই স্কেলে ওঠানোর জন্য প্রস্তুত না। তো আমার মনে হয়েছিল, আমরা যদি প্রযুক্তি খাতে কাজ করতে পারি তাহলে অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবো এবং দেশের জন্যও ভালো প্রভাব পড়বে।

তখন আমি ব্যাংক ছেড়ে দেই। ছেড়ে দিয়ে আমি চলে যাই ফিনটেক সেক্টরে। তখন বিভিন্ন দেশে যেমন ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুরে আমি ফিনান্সিয়াল সার্ভিস নিয়ে কাজ করতে থাকি। আমরা অনেক জায়গায় কাজ করেছি।  ইভেন ব্লকচেইন নিয়েও কাজ করেছি। তারপর টেকনোলজির আরো গভীরে চলে যাই এবং কাজ করতে থাকি। টেকনোলজির গভীরে বলতে আমি একটা কোম্পানির সাথে জড়িত ছিলাম যেটার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ক্রেইগ ভেক্টর, যিনি  প্রথম ডিএনএ সিনক্রোনাইজ করেছিলেন। উনার সাথে আমি কাজ করেছি।  তো আমার এই ট্রান্সফর্মেশানটা শুরু হয়।

ফিনটেক: আপনার একটা প্রজেক্ট আছে ইউকে-ডিকে গ্রিন এনার্জি (ইউডিজিইএল) যেটা নিয়ে কাজ করেছেন বা করছেন। এখন পৃথিবীতে তো ফসিল জ্বালানি বেড়ে যাচ্ছে যেটা পৃথিবীর জন্য সাসটেইনেবল না, এবং খুব তাড়াতাড়ি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনাও নেই – সেই ক্ষেত্রে বিকল্প শক্তির জায়গাটা কি হতে পারে বলে আপনি মনে করেন? 

সাজিদ রহমান: আসলে এটা আমার একটা প্রজেক্ট ছিল, যখন আমি স্ট্যান চার্ট এবং টেলিনরের মাঝামাঝি সময়ে ছিলাম। কাজও এখনো হচ্ছে কিন্তু আমি সরাসরি জড়িত না ওই প্রজেক্টের সাথে। তবে রিনিউয়েবল এনার্জির ক্ষেত্রে যেটা হচ্ছে, খুব তাড়াতাড়ি কিন্তু ডিভেলাপ করছে। ফসিল বা জ্বালানি যেটা ছিল সেটাতে কিন্তু খুব খরচ বেশি হতো মানে খুব কস্টলি। কিন্তু সোলার কস্ট কিন্তু সারা ওয়ার্ল্ডে ফসিল জ্বালানি থেকে অনেক কমে গেছে। তো রিনিউ এনার্জি খুব দ্রুত বর্ধিত হচ্ছে। গ্লোবালি যেসব জায়গা গুলো উইনডি, সেখান থেকে কিন্তু প্রচুর উইন্ড এনার্জি উৎপাদন করা হতো, কিন্তু কস্টটা এখন পড়ে গেছে যার কারণে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে এটা বেশ লাভজনক হয়ে উঠেছে। আমার মনে হয়, প্রযুক্তি এত দ্রুত তরান্নিত হচ্ছে যে এসব রিনিউয়েবল এনার্জি গুলো খুব বেশি মুনাফাজনক হবে। আর পৃথিবীর অধকাংশ ডেভেলপমেন্ট কিন্তু নির্ভর করে ইকোনোমিক ইন্টারেস্টের উপর। যখন অন্যান্যরা দেখবে বাংলাদেশে এই নতুন এনার্জি প্রোডাকশনগুলো প্রফিটেবল, তখন একটা নতুন পরিবর্তন আসবে বলে আমি মনে করি।

ফিনটেক: বাংলাদেশে ভিসি-র তেমন কোনো প্রভাব এখনো নেই। আপনি নিজেও সিলিকন ভ্যালিকে বাংলাদেশে প্রবর্তন করেছেন। আর্থিকভাবে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এর প্রভাব কতটুকু হওয়ার সম্ভাবনা আছে?

সাজিদ রহমান: আসলে আমি যেটা আগেও বলেছি এসব কিছু এসেছে ফান্ডিং ইনস্টিটিউট যেটাকে আমরা বলি এক্সসেলারেটর প্রোগ্রাম। আমরা স্টার্টআপদের সহায়তা করতাম। কিভাবে কনসেপ্ট থেকে শুরু করে কোম্পানি গঠন করা যায় – সেটা করে দেয়ার জন্য আমরা থাকতাম।

ভিসি বা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কালচারটা একটু আলাদা। বাংলাদেশে যদি স্টার্টআপের ইকোসিস্টেমের কথা বলা হয়, তাহলে কয়েকটা সমস্যার কথা চলেই আসে। ভিসি কালচারটা এক ধরণের চক্র। আপনি যদি সিলিকন ভ্যালিতে যান, দেখবেন এক্সসেলারেটর প্রোগ্রাম গুলো করে কোম্পানি শুরু করিয়ে দেয়। কিছু লোকজন আসতে থাকে, কাজ করতে থাকে এবং তাদেরকে কিন্তু পয়সা দেয়া হয়। কিন্তু দেখা যায়, ১০০ টা কোম্পানির মধ্যে ৯৫ টাই ব্যর্থ হয়ে যায়। কিন্তু ঐযে বাকি ৫ টা কোম্পানি আছে, সেগুলো বড় বড় হতে হতে দেখা যায় গুগল বা ফেইসবুকের মতো জায়ান্ট কিছু হয়ে যায়। এবং একটা পর্যায়ে এই কোম্পানি গুলো বিক্রি হয়ে যায় এবং যারা কাজ করতো সেখানে তারাও কিন্তু অনেক লাভবান হয়। তখন ওরা বের হয়ে এসে আবার ইকোসিস্টেমে বিনিয়োগ করে এর আওতায় চলে আসে। আবার বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে ইনভেস্ট করে। তো বাংলাদেশে এই চক্রটা পুরোপুরি আসে নি। তাছাড়া বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আরো একটা সমস্যা আছে, সেটা হলো, যদি কারো কাছে টাকা থাকে, তারা সনাতন চিন্তাভাবনায় চলে যায়, হয় তারা জমি কিনবে বা বাড়ি করবে কিন্তু বিজনেসে বা স্টার্টআপে বিনিয়োগ করবে না।  কারণ এখনো মানুষের মধ্যে এই স্টার্টআপ নিয়ে সংশয় আছে, বিশ্বাস কম প্রভৃতি। মানে এখনো মেইনস্ট্রিম হয় নাই।

আমার মনে হয় বাংলাদেশে এই ভিসি বা ইকোসিস্টেম বুস্ট হতে সময় লাগবে। আরো ৫ বছরও লাগতে পারে। তবে আশার ব্যাপার যে, আমরা দেখতে পাচ্ছি বাইরে থেকে ইনভেস্টমেন্ট আসছে আমাদের দেশে। আমার বিশ্বাস এগুলো একসময় বেশ গতিশীল হয়ে উঠবে।

ফিনটেক: আপনি নিজেও তো এঞ্জেল ইনভেস্টর হিসেবে অনেক কিছু করেছেন। যেমন হাইপার লুপ ওয়ান, শেইপ – এগুলোতে আপনার সাপোর্ট আছে। তো এই কোম্পানিগুলো কেমন করছে?

সাজিদ রহমান: হাইপার লুপ তো খুব বিখ্যাত হয়ে আছে এখন। এলান মাস্ক এর কনসেপ্ট নিয়ে কোম্পানিটা করা। হাইপার লুপের রিলেটেড যে কোম্পানি সেটা এখন নামই হয়ে গেছে ভার্জিন হাইপার লুপ ওয়ান। মাস্কের কন্সেপ্টটা ছিল যে মানুষ শুধু পৃথিবীতেই থাকবে না, অন্যান্য গ্রহেও তার বিচরণ থাকবে। ধরুন, আপনি চিটাগং এ যাবেন, সেখানে যেন রকেটে যেতে পারেন তাহলে আপনার আরো সময় কমে যাবে।  এরকম একটা কনসেপ্ট তিনি দিয়েছিলেন। এটা তার থার্ড কনসেপ্ট আর এটাই হচ্ছে হাইপার লুপ ওয়ান কনসেপ্ট। তো ইতোমধ্যে ওরা এটা বানানো শুরু করেছে, আগে ছোট স্কেলে ছিল এখন বড় স্কেলে তারা কাজ শুরু করেছে। ওদের কনসেপ্টটা মূলত হলো অল্প খরচে আরো তাড়াতাড়ি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাবে। এয়ার ট্রাভেল কনসেপ্ট এটা একটা।

আরেকটা কোম্পানি আছে, সেটা হলো প্ল্যানেটারি রিসৌর্স।  এটার কনসেপ্ট হচ্ছে, পৃথিবীতে যে খনিজ সম্পদ আছে, সেগুলো যদি আপনি অ্যাস্ট্রয়েড থেকে মাইন্ করতে পারেন, তো অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে পারবেন। ওরা ব্রাসেলস থেকে ইনভেস্ট পেয়েছে এবং অ্যাস্ট্রয়েড মাইনিং শুরু করেছে।

ক্যারিবো বায়োসায়েন্স নামে আরেকটা কোম্পানি আছে যেটা ডিএনএ এডিটিং করে। যেমন আমাদের অধিকাংশ রোগগুলো হলো ‘হেরেডিটেরি’ মানে বাবা মা বা দাদা দাদির হলে ছেলে মেয়েদের হয়ে থাকে। ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেসার, ক্যান্সার, অ্যাজ্মা  আরো অনেক কিছুই। ওরা মানুষের ডিএনএতে ঢুকে এগুলো পরিবর্তন করে দিচ্ছে। এবং ইতোমধ্যে একটা কোম্পানি বাচ্চাদের ক্যান্সার নির্মূল করতে সক্ষমও হয়েছে। তো এই ডিএনএ এডিটিং হয়তো পরবর্তী ‘ইনোভেশন’ হিসেবে ধরা যেতে পারে।

ফিনটেক: এলান মাস্ক একটা চিঠি দিয়েছিলো ‘এ আই’ নিয়ে। তো এটার ব্যাপারে একটু জানতে চাই।

সাজিদ রহমান: আসলে সব টেকনোলজিরই একটা “প্লাস” এবং একটা “মাইনাস” আছে। যেমন আলফ্রেড নোবেল ডায়নামাইট বানিয়েছিলেন, যাতে পাহাড় ভেঙে ট্রেইন লাইন করা যেতে পারে। কিন্তু এটার একটা নেতিবাচক দিকও কিন্তু আছে।  এটা হয়, আপনি কিভাবে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করবেন। ‘এ আই’ এর ব্যাপারটা এখন অনেক বড় পর্যায়ে চলে গেছে, এরা এখন চিন্তা করছে মানুষ বরাবর হতে। তারা মানুষের মতোই সব কিছু করবে। এলান মাস্কও ওই গ্রূপের, তিনি চিন্তা করেছেন এই ‘এ আই’ অনেক দ্রুত বেড়ে উঠবে। তো ওর তখন মনে হয়েছিল, কিভাবে ওদের সাথে উনি প্রতিযোগিতা করবেন? তখন তিনি কনসেপ্ট তৈরী করেছেন এবং দুটোভাবে তৈরী করেছেন। এটা হচ্ছে ‘ওপেন এ আই’ যেটার কথা আপনি বললেন। এটার ডেভেলাপার চায় সবাই যেন এখানে আসতে সক্ষম হয়। এটা ছিল মাস্কের একটা প্রজেক্ট আর আরেকটা হচ্ছে তিনি একটাতে ইনভেস্ট করেছেন নাম “নিউরোলিংক”। এটার দিকটা হচ্ছে মানুষের ব্রেইনটাকে কম্পিউটারের সাথে কানেক্ট করে দেয়া। অর্থাৎ ‘হিউম্যান কনশাস’কে যদি কানেক্ট করা হয়, তাহলে কম্পিউটার যত বাড়বে, মানুষের ব্রেইনও ততো কাজ করার ইনফো সংগ্রহ করতে পারবে। তারমানে আপনার নলেজকে ট্রান্সফার করা যাবে একটা চিপের মাধ্যমে। এটা উনার আরেকটা কনসেপ্ট ছিল। তো মানুষের কাছে এটা হয়তো এখনো সেভাবে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠেনি তবে একটা সময় যখন সত্যি আসবে তখন কিন্তু ঠিকই মানুষ বুঝতে পারবে।  প্রাথমিক পর্যায়ে এটার বিশ্বাস না আসাটা স্বাভাবিক।  তবে এটা হলে একটা রেভুলুশান হবে নিশ্চিত।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের দুটো দিক আছে। ভার্টিক্যাল ইন্টেলিজেন্স আরেকটা জেনারেল ইন্টেলিজেন্স। তো আমরা সাধারণত যেটা জানি সেটা ভার্টিক্যাল ইন্টেলিজেন্স অর্থাৎ ন্যারো ইন্টেলিজেন্স নিয়ে আমরা কাজ করি। ইভেন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সে দেখা যায় হিউম্যান ব্রেইনের চাইতেও আপগ্রেইড। দেখা গেলো একটা প্যাথলজির রিপোর্ট ডাক্তার ৮০% নিশ্চিত হতে পারছে যেখানে এই ‘এ আই’ ৯৫% সফল হচ্ছে। আর জেনারেল যেটা, সেটা চিন্তা করবে মানুষের মতো কিন্তু সেটা এখনো আসে নি পুরোপুরিভাবে। তবে সেটার খুব দ্রুত কাজ হচ্ছে।

ফিনটেক: আমাদের দেশে যত রোগী আছে তাদের কিন্তু ডেইটা বেজ নেই যেখানে বাইরের কান্ট্রিতে অনেক কিছু আছে। তো আমাদের দেশে কি এই স্তরে ডেইটা বেজ নিয়ে কি কোনো কাজ করা যায় বা সুযোগ কি আছে?

সাজিদ রহমান: আমাদের টেলিনরে ২৪/৭ দিন ব্যবস্থা আছে। সমস্ত রোগীদের ইনফো কালেক্ট করা হয়। আমাদের সার্ভিসটার নাম হচ্ছে টনিক।  টনিক তিনটা সার্ভিস দিয়ে থাকে প্রধানত। প্রথম কাজ হচ্ছে হেলথ রিলেইটেড ইনফরমেশন কিন্তু যেটা সমস্যা সেটা হলো বাংলা ভাষায় কোনো হেলথ রিডার ইনফরমেশন নাই। সেই তথ্যগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে অনুমোদিত কিনা সেটা পরিষ্কার না। তবে আমরা যেটা করি, আমাদের সার্ভিস সবসময় আছে। যে কেউ যোগাযোগ করতে চাইলে পারবে। এবং যোগাযোগের সময় ডাক্তার এর কাছে সেই রেকর্ড গুলো থাকছে।  আর আমরা ইতোমধ্যে ১.৫ লক্ষ রোগীর রেকর্ড ক্যাপচার করে ফেলেছি। একটা নিদৃষ্ট পর্যায়ে আমরা এটাকে কি করা যায় সেটা নিয়ে অবশ্যই চিন্তা করবো।

ফিনটেক: আপনারা তো এনসিডি নিয়ে এগোচ্ছেন। এনসিডি টা মূলত কি এবং এটা কিভাবে করছেন?

সাজিদ রহমান: নন কমিউনিক্যাবল ডিজিজ বা এনসিডি নিয়ে কাজ করছি। আমাদের দেশে একটা সময়ে ছিল যে বড় বড় ডিজিজ নিয়ে কেউ কাজ করতে চাইতো না। আপনি খেয়াল করবেন বাংলাদেশের ৬০ ভাগ মানুষ মৃত্যুবরণ করে এই এনসিডির কারণে। তাছাড়া আমাদের দেশে অনেকেই হার্ট ডিজিজ বা অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন কারণে। তাই আমরা এটাকে নিয়ে কাজ করছি এবং আমাদের ফোকাস ও এটার উপর আর গ্লোবালিও এটা খুব এপ্রিসিয়েটেড হচ্ছে। তবে আপনি যদি এই রোগগুলো হওয়ার আগেই কনসাল্ট করে নিতে পারেন তাহলে অসুস্থতা এড়ানো সম্ভব হতে পারে যার কারণে আমরা এটা নিয়েও ফোকাস করছি।

ফিনটেক: আপনি তো চাইলে অন্য দেশকেও প্রাধান্য দিতে পারতেন এবং লাভজনকও হতো। কিন্তু বাংলাদেশ কেন আপনি পছন্দ করলেন? আপনাদের কি খুব ভালো প্রেজেন্স আছে যার কারণে বাংলাদেশকে সিলেক্ট করেছেন? 

সাজিদ রহমান: হ্যাঁ, গ্রামীণ ফোনের একটা বড় প্রেজেন্স তো আছেই তাই নিজের দেশকে সিলেক্ট করেছি। আসলে কি জানেন, বাংলাদেশে হেলথ নিয়ে সেভাবে কিছু গড়ে ওঠে নি। এমনকি আমাদের পার্শবর্তী দেশগুলোতেও সেভাবে নাই। কয়েকটা দেশ ছাড়া সেভাবে আসলে গড়ে ওঠে নি সারা বিশ্বেই। তবে সেটা প্রধান কারণ নয়, প্রধানত বাংলাদশে নিয়ে আসার কারণটা হচ্ছে, বাংলাদেশের জন্য এটা খুব প্রাসঙ্গিক একটা পণ্য। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন বলে হাজারে প্রতি ৩ জনের জন্য ১ জন করে ডাক্তার থাকা উচিৎ। আর বাংলাদেশে সেখানে হাজারে প্রতি ৩ জনের জন্য ১ এরও কম। এবং আপনি যদি গ্রামাঞ্চলের কথা বলেন তাহলে তো নেই বললেই চলে। তো এইযে স্বাস্থ্য বীমা দেয়া, সকলের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে পারা – এটা অবশ্যই প্রাসঙ্গিক একটা ব্যাপার। আর তাই বাংলাদেশকেই নির্বাচন করেছি মূলত।  তবে হ্যা, আমাদের এটা ইনসিওরেন্স এর বাইরে না, পলিসি করা আছে। আমরা যে ইনসিওরেন্স বিক্রি করছি তা না, আমাদের মেইন প্রোডাক্ট হচ্ছে টনিক। কাস্টমাররা টনিক এর মেম্বার হচ্ছে, ওটার মধ্যেই ইন্সুরেন্স করা হয়ে যায়।

আপনি যদি সমাজ কে একটা পিরামিড হিসেবে চিন্তা করেন , তাহলে আপনি দেখবেন দেশি ইনসিওরেন্স গুলোকে টপ এন্ডে ফোকাস করা হয়। খরচ সেখানে কমে যাচ্ছে। কিন্তু বটম অভ পিরামিডে এতটা ফোকাস নাই কারণ ইন্সুরেন্স প্রিমিয়ামে নিয়ে আসাটা খুব কঠিন একটা ব্যাপার এবং এক্সপেনসিভ। আবার আপনি যখন কাউকে সেটেল করতে চাইবেন, সেখানেও এক্সপেনসের একটা ব্যাপার চলে আসে। তো আমরা যেটা করেছি, পিরামিডের এই অংশের জন্য পুরোটাই ইলেক্ট্রনিক করে ফেলেছি।  তো আপনি যেই মেম্বারশিপটা কিনছেন সেটার টাকাটা এয়ার-শিপ এর মাধ্যমে চলে যায়। এবং আপনি যদি হসপিটালে থাকেন, ডিসচার্জ হওয়ার পর আমাদেরকে লেটার, বা অন্যান্য কিছুর কপি ছবি তুলে পাঠিয়ে দিলেই হয়ে যাবে, আর টাকাটা মোবাইল ওয়ালেটের মাধ্যমে মানে বিকাশ এর মাধ্যমে পেইমেন্ট করা যাবে। আর যার কারণে সহজেই আপনি টাকাটা পেতে পারেন। “টনিক আস্থা” আর “টনিক সুরক্ষা”তে আপনি ২৫ হাজার এবং ১০ হাজার টাকা পাবেন।  বছরে কিন্তু আপনার অনেক টাকা হয়ে যাবে আর আপনাকে দিতে হবে মাসে মাত্র ২৫০ টাকা। একটা ইন্সিডেন্ট হলেই আপনি পাচ্ছেন ২৫ হাজার টাকা। তো এটা একটা বড় সুবিধা কিন্তু দেয়া হচ্ছে।

আপনি যদি বড় হসপিটালে না যান, তো এই ২৫ হাজার টাকা আপনার জন্য অনেক উপকারী হয়ে দাঁড়াবে।

ফিনটেক: আপনার প্রত্যাশা কেমন বা কতটুকু যে অন্যান্য দেশে আপনারা টেলিনর হেলথের সেবা পৌঁছে দিতে পারবেন?

সাজিদ রহমান: আমরা অনেক দেশের গভর্নমেন্ট থেকে প্রচুর ইন্টারেস্ট পাচ্ছি। প্রকৃতপক্ষে এমন অনেক দেশ আছে, যেখানে টেলিনর নাই। সেখানকার সরকারও আমাদেরকে এপ্রোচ করছে। আমাদের গত এক থেকে দেড় বছরে ৫০ লাখ কাস্টমার হয়েছে। আমরা এই বছরের মাঝামাঝি আমাদের মার্কেটটাকে এক্সপ্যান্ড করবো।

ফিনটেক: টেলিনর সার্ভিসে আপনাদের সফটওয়্যার সম্পর্কে কিছু বলুন। আপনারা কিভাবে সফটওয়্যার ডিভেলাপ করছেন?

সাজিদ রহমান: আমাদের সফটওয়্যারগুলো সবই লোক্যালি। আমাদের একটা কোডিং টিম আছে যেটা বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম ভালো কোডাররা রয়েছে। যেমন ধরুন ডাক্তারদের যেই ডেইটা আছে সেগুলো ক্যাপচার হয় বা ইন্সুরেন্সগুলো প্রগতি পর্যন্ত যায় -আগেও যেটা বলেছি, সেটারও একটা সিস্টেম আছে। তারপর হেলথ কনটেন্ট গুলো – মানে সব কিছুই আমরা করেছি। আমাদের অ্যাপ আছে যা তৈরী করা হয়েছে কোর্ সিস্টেমের উপর। সবই কিন্তু আমাদের ইন-হাউস এবং লোক্যালি ডিভেলাপ করা।

ফিনটেক: বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোতে বিগ ডেইটা নিয়ে কি কোনো কাজ হচ্ছে?

সাজিদ রহমান: আসলে বাংলাদেশে সেভাবে কোম্পানিগুলো বিগ ডেইটা নিয়ে কাজ করে না। সুযোগও আসলে সেভাবে পাচ্ছে না। তবে টেলকো ডেইটা ইউজ নিয়ে আমাদের কিছু পলিসি আছে যে আমরা কি ব্যবহার করতে পারবো, কোনটা পারবো না, এবং জিপির কিন্তু আলাদা ডেইটা আর আমাদের আলাদা ডেইটা আছে কারণ আমাদেরটা কিন্তু সেপারেট কোম্পানি। আসলে ওই স্কেলে বাংলাদেশে বিগ ডেইটা নিয়ে কাজ হচ্ছে না। প্রচুর স্কোপ আছে, কিন্তু সেভাবে আসতে পারছে না। কারণ অনেক ডেইটা আছে কিন্তু ডিজিটাইজ না। তাছাড়া ডেইটা ব্যবহার করার ব্যাপারে অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। প্রকৃতপক্ষে এদিক দিয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। তাছাড়া সবচেয়ে বেশি যেটা প্রয়োজন এই ব্যাপারে সেটা হলো স্কিল লোকজন দরকার।

তাছাড়া, গুগলের মতো কোম্পানি আজকে এতো ভ্যালুড কারণ তারা ডেইটা নিয়ে অনেক কাজ করেছে এবং করছে। আপনি যখনি আপনার মোবাইলে তাকাচ্ছেন বা কাজ করছেন প্রতি মুহূর্তেই কিন্তু তারা ডেইটা সংগ্রহ করে ফেলছে। সুতরাং সম্ভব যদি সেরকম দক্ষ মানুষ পাওয়া যায়। এই কোম্পানিগুলোর সম্পদের উৎসই হচ্ছে আপনার মনোযোগ এবং চলা ফেরা। আপনার অ্যাটেনশন যত বেশি ধরে রাখতে পারছে, ততো বেশি ডেইটা সংগ্রহ করতে পারছে।

ফিনটেক: ফেইসবুক বা গুগল, উদাহরণস্বরূপ বলা যায় “গুগল ম্যাপ”- এদের উপাত্ব সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে কতটুকু ইম্প্রেসিভ বা কোনো নেতিবাচকতা আছে কিনা – আপনার কি মনে হয়?

সাজিদ রহমান: ওই যে বলেছিলাম টেকনোলজির কিছু ইতিবাচক দিক তো আছেই, নেতিবাচকতাও রয়েছে। গুগল ম্যাপ আপনার সব কিছু ট্রেইস করছে, প্রাইভেসি থাকছে না। এটা একটা বড় ব্যাপার। তবে অনেক কোম্পানি কাজ করছে যেখানে ডেইটা প্রাইভেসি থাকবে , এবং আপনারই অ্যাক্সেস থাকবে প্রাইভেসি নিয়ে – অন্য কারো থাকবে না। আমি বলবো এটা একটা সুন্দর ব্যালেন্স।  এখন আপনি যেভাবে ব্যবহার করবেন নির্ভর করে সেটার উপর।

ফিনটেক: বাংলাদেশের সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে প্রভাব কতটুকু বলে আপনার মনে হয়? সম্ভাবনাতো আছেই, বেসিস এটা নিয়ে কথা বলেছে কিন্তু আপনি কি মনে করেন?

সাজিদ রহমান: আমাদের দেশের বিরাট ত্রূটি হচ্ছে ল্যাক অভ মার্কেটিং। এই ডেটা সফটওয়্যার এর ক্ষেত্রে বাইরের দেশগুলোতে দেখবেন আউটসোর্সিংটা বেশ ভালো মতো মার্কেটিং করছে এবং গ্লোবালি তাদের মার্কেটিং এ শক্তিশালী উপস্থিতি আছে। আমাদের দেশে খুব ভালো কোডার আছে কিন্তু মার্কেটিং প্রেজেন্সটা কম। তবে সম্ভাবনা আছে এবং আমার প্রত্যাশা আমাদের এই মার্কেটিং অনেক বড় হবে এবং আমরা এগিয়ে যেতে সক্ষম হবোই।

ফিনটেক: বাংলাদেশে তো অনেক কমার্শিয়াল ব্যাংক আছে। স্টার্টআপের ক্ষেত্রে ব্যাংকের ভূমিকা কি হওয়া উচিৎ বলে আপনি মনে করেন?

সাজিদ রহমান: আজকাল অনেক কোম্পানি কিন্তু বলে আমরা স্টার্টআপ বিশ্বাস করি, স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করি। স্টার্টআপ এখন একটা “ট্রেন্ডি” টার্ম হয়ে গেছে। একটা কোম্পানির সিইও সকালে অফিসে আসে, এসে মিটিং করে বলে আমরা একটা স্টার্টআপ করবো, কিভাবে করবো, কি করবো – একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে। তারপর তারা স্টার্টআপ করেও ফেলে এবং কিছু লোকজন নিয়োগ দিয়ে ফেলে। কিন্তু সেভাবে আর উঠতে পারছে না। আসলে সেভাবে আমাদের দেশে স্টার্টআপ কোম্পানি গুলো নিয়ে কাজ করার ব্যাপারটা বুঝে উঠতে পারে নি। তারপর বলা যায়, স্টার্টআপ নিয়ে ব্যাংকিং সেক্টরে কাজ করাটা বেশ কষ্টসাধ্য। এই ব্যাপারে ভালো করছে সিঙ্গাপুরের ডিবিএস ব্যাংক। তারা খুবই স্ট্রং এ ক্ষেত্রে। ওদের টেকনোলজি হাই, নিজস্ব ফান্ডিং আছে, মানে তাদের কাছে স্টার্টআপের কনসেপ্টটা খুবই পরিষ্কার, স্বচ্ছ পরিষ্কার। 

ধরেন আপনি ব্যাংকিং হিসেবে ব্লকচেইন নিয়ে কাজ করতে চান। কিন্তু আপনার রিসৌর্স নাই। স্কিলটা নাই। আপনার একটা স্টার্টআপ আছে যেটা ব্লকচেইন নিয়ে কাজ করছে, আপনি ওই কোম্পানিটাকে ইনভেস্ট করলেন। ওই কোম্পানি ভালো কাজ করে, আপনি ঐটা নিয়ে নিলেন, এবং লোকগুলোকে আপনার ব্যাংকে নিয়ে আসলেন। তো এটা হচ্ছে ব্যাংকের স্টার্টআপ করার চিত্র। আমার মনে হয় না, বাংলাদেশে ওই স্কেলে বা ওই চিন্তা করে কাজ হয় না।

আবার আমি যেটা প্রায়ই দেখি, ব্যাংকগুলা স্টার্টআপে বিনিয়োগ করতে চায় যেটা খুব রিস্কি। কারণ ব্যাংকের ফিনান্সিয়াল দায়ভার থাকে। ব্যাংকের প্রধান দায়িত্ব ডিপোজিট রক্ষা করে ব্যবসা করে কিছু আয় করা। এবং দায়িত্ব থাকে শেয়ারহোল্ডার যারা আছে তাদেরকে টাকা বুঝিয়ে দেয়া। এখন আপনি যদি টাকাটা স্টার্টআপের জন্য ইনভেস্ট করে দেন, তাহলে তো আপনার ব্যাংক শূন্য মাটির ব্যাংক হয়ে যাবে। কারণ ১০০ স্টার্টআপের মধ্যে ৯৫ টা ফেইলিউর হয়ে যায়। তাই আমার মনে হয় ব্যাংকিং সেক্টর থেকে স্টার্টআপ করাটা রিস্কি। ব্যাংক যেটা করে, বাইরে দেখেছি, জয়ন্টলি কাজ করে স্টার্টআপ করে যেটা ব্যাংকের জন্যও সুবিধা হতে পারে।

ফিনটেক: বাংলাদেশ ‘ইমারজিং মার্কেট’ হিসেবে কিভাবে রোল মডেল হতে পারে? 

সাজিদ রহমান: পৃথির্বীতে প্রথম যেই শতশত মানুষ ইন্টারনেটে অ্যাক্সেস পেয়েছিলো তারা ছিল, ইউরোপ, আমেরিকা মানে উন্নত দেশগুলোতে। এবং যে ধরণের কোম্পানি বের হয়েছে তারা গার্সিয়া করে এবং আরো অনেক কিছুই।  কিন্তু এখন যারা ইন্টারনেটে অ্যাক্সেস পাচ্ছে তারা কিন্তু ইন্ডিয়া, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, চায়না। পরবর্তীতে এর রিকোয়ারমেন্ট গুলো কিন্তু আলাদা হয়ে থাকে। এদের কিন্তু এখন গার্সিয়ার দরকার নাই। তাদের দরকার হচ্ছে অ্যাক্সেস টু হেলথ, অ্যাক্সেস টু ব্যাংক, অ্যাক্সেস টু এজুকেশন – এ ধরণের দিকগুলো। তো নেক্সট বিলিয়নরা সিদ্ধান্ত নেবে ভবিষ্যতে কি হবে। তো বাংলাদেশে অনেক জনসংখ্যা এবং তরুণরা বেশ এদিক দিয়ে এগিয়ে এবং কর্মঠ। তাই আমার মনে হয় বাংলাদেশের জন্য এটা একটা প্লাস পয়েন্ট হয়ে থাকবে।

ফিনটেক: মিক্সসাইজ কোম্পানিগুলোকে বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার একটা কথা শোনা যাচ্ছে। আপনি বিলিয়ন ডলারে মিক্সসাইজ কোম্পানিগুলোকে নিয়ে যাওয়ার কথা কিভাবে বর্ণনা করবেন? 

 সাজিদ রহমান: ইনডেভার গ্লোবাল যেটা করে, যেসব কোম্পানিগুলোর ১০ মিলিয়ন ডলার আছে, তারা চিন্তা করে কিভাবে বিলিয়ন ডলারে তাদেরকে নিয়ে যেতে পারে। তো সেখানে আমরা ওদেরকে সাহায্য করে থাকি। অনেক সময় ওদের নেক্সট ফান্ডিং নিয়েও আমরা সাপোর্ট দিয়ে থাকি। আসলে ওদের ওখানে কিন্তু নেটওয়ার্ক খুব শক্তিশালী।  সেই প্রেক্ষাপটে আমরা দেখি যে ওদেরকে কিভাবে আরো ১০ গুন্ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

ফিনটেক: নেক্সট বিলিয়নের মধ্যে একটা বিষয় আছে যে পরবর্তী ৫ বছরে এটাকে কোথায় নিয়ে যাবে। কিন্তু এদের কোনো বিজনেস স্টাডি করে নাই। কিন্তু তারা বিলিওনিয়ার হবে। এ ক্ষেত্রে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল আসতেসে ব্যাংকিং ইনভেস্টের মাধ্যমেই। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তারা কি বুঝতে পারছে না যে একটা ব্যাপক পরিবর্তন দরকার আছে? নেক্সট জেনারেশনের জন্য কিছু পুঁজি করতে হবে। এই জায়গাটাতে বোঝানোর জন্য কি করা যেতে পারে?

সাজিদ রহমান: আমার মনে হয় কি, বেশ কিছু স্টার্টআপ কিন্তু ভালো করছে। এবং এই ডেভেলপাররা কিন্তু এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশের সমস্যা হচ্ছে কি, কোম্পানি গুলো যে এক্সিট করবে, কিন্তু সেটা কোথায় করবে? তো আপনার তো উচিৎ লোকাল স্টক মার্কেটে যাওয়া। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে অন্য কোনো কোম্পানি কিনে নিতে পারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও তো সময় লাগবে। বাইরের কান্ট্রিতে কিন্তু রেগুলেশানটা অনেক সহজ বলা যায়, এক্সিট করতেই পারে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তো আলাদা।  আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে কি, আপনি যদি চালের ব্যবসা করেন বা গমের ব্যবসা করেন, তাহলে এক মাসের মধ্যে আপনি চিন্তা করবেন যে আপনার টাকা ডাবল করে ফেলছেন। তো আমি কেন শুধু শুধু স্টার্টআপে টাকা ইনভেস্ট করবো, এবং ৮ বছর লাগবে টাকা উঠতে উঠতে- এরকম আপনি চিন্তা করে চালের ব্যবসাতেই নেমে যাবেন। তো এটাই আমাদের ব্যবসার মার্জিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসলে এরকম বিভিন্ন কারণ তো আছেই।

আমার যেটা মনে হয় যেটা হওয়া উচিৎ, বাইরের একটা উদহারণ দেয়। বাইরে যেই ফ্যামিলি অফিসগুলো আছে তারা আয়ের ৫% স্টার্টআপে দিয়ে দেয়। বাকি ভাগ কিন্তু তারা তাদের প্রাইম ব্যবসায় খাটায়।আমাদের দেশে আসলে ওই শ্রেণীর চিন্তাভাবনা আসে নি। কিন্তু ওদেরকে যদি সেই স্তরে বোঝানো যায় যে এরকম কিছু পার্সেন্ট ইনভেস্ট করলে আপনি লাভবান হতে পারবেন, তাহলে একটা পরিবর্তন আনা যেতে পারে।

ফিনটেক: আপনাকে ফিনটেক পরিবারের পক্ষ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

সাজিদ রহমান: আপনাদেরকেও ধন্যবাদ এত সুন্দর একটা পত্রিকায় আমার সাক্ষাৎকার তুলে ধরার জন্য।

মন্তব্য করুন

Top