ব্যাংক ও ফিনটেক স্টার্টআপের ভবিষ্যৎ কি? : উদ্ভাবন নাকি পতন? - ফিনটেক বাংলা
You are here
Home > অন দ্য ওয়েব > ব্যাংক ও ফিনটেক স্টার্টআপের ভবিষ্যৎ কি? : উদ্ভাবন নাকি পতন?

ব্যাংক ও ফিনটেক স্টার্টআপের ভবিষ্যৎ কি? : উদ্ভাবন নাকি পতন?

 

স্যান্দ্রা রোবেল কিনোর
কন্টেন্ট মার্কেটিং ম্যানেজার, সিকিউরিওন পে

প্রিন্ট মিডিয়া প্রকাশনা গুলির মতই, উত্তরাধিকারী ব্যাংকগুলি এখন তাদের টার্গেট শ্রোতাদের কাছ থেকে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে এবং প্রযুক্তির হস্তক্ষেপের কারণে স্টার্টআপ ব্যাংকগুলো দূরে সরে যাচ্ছে।  ছুটির দিনগুলোতে আয়েশ করে কাগজের পত্রিকার সুগন্ধি নিয়ে পড়া কিংবা সাইকেলে চড়ে হকারের পত্রিকা বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার মুহূর্তটা যেমন মিস করার মতো, তেমনি ব্যাংকিং শিল্প হারিয়ে যাওয়ার মুহূর্তটাও যেন মিস করার পথে চলে এসেছে।

গ্রেট রিসেশনের সাথে সাথে একটা সাম্প্রতিক স্মৃতির কথা তুলে ধরা যেতে পারে আর সেটা হলো বিশ্বের  নেতৃস্থানীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে ‘ওয়েলস ফার্গো’ কে প্রকাশ্যে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হচ্ছে গ্রাহকদের চাতুর্যের কারণে, এবং গ্রাহকরাও এই পরিবর্তনকে সমর্থন করে যাচ্ছে।  ৭০% মিলেনিয়ালস এখন অনলাইন ভিত্তিক হয়ে আছে, নতুন ফিনটেক অ্যাপ্স চালু হচ্ছে যেখানে সাধারণ ব্যাংকগুলোর জন্য তিনটি রাস্তা খোলা আছে : উদ্ভাবন, অর্জন অথবা পতন।

কিন্তু বড় বড় ব্যাংকগুলোকে এখনো পরাজয়ের দড়িতে বাঁধতে পারেনি। ব্যাংকগুলি যদি নতুনদের কাছ থেকে শিখতে চায়, তবে ফিনটেকের নতুনত্বটি কেবল প্রথাগত ব্যাংকিংকেই বাঁচাতে সহায়তা করবে না, বরং এটি পুনর্বিন্যাস করে এবং তা অল্পবয়স্ক শ্রোতাদের কাছে আরও দক্ষ এবং আকর্ষণীয় রূপে রূপান্তর করতে সক্ষম হবে ।

সামনে ফিনটেকের পরিস্থিতি কেমন যেতে পারে তার তিনটি ভবিষ্যদ্বাণী তুলে ধরা যেতে পারে এখানে ।

১) আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরো বেশি ফিনটেক স্টার্টআপের প্রবেশদ্বার উন্মোচন হবে

স্বাভাবিকভাবেই ব্যাংকগুলো বৈদেশিক মুদ্রানীতি ও কঠোর পরিসরের কাঠামোতে আবদ্ধ থাকে। আর সত্যি বলতে, এরা এদের নিজস্ব উদ্ভাবনী স্পৃহা নিয়ে পরিচিত নয়। রিসার্চ কর্ণারস্টোন এডভাইজার্সের পরিচালক, রণ শেভলিন বলেন, ইন্ডাস্ট্রির বিস্তীর্ণ পরিবর্তন কিন্তু শতাব্দীর পরিবর্তন স্বাধন করতে পারে নি।  তিনটি জিনিস দরকার: প্রযুক্তি পরিবর্তন, ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তন, এবং অর্থনৈতিক অপরিহার্য।

শেভলিন আরো বলেন, ইন্টারনেট প্রযুক্তির অভ্যুদয় এবং মোবাইল প্রযুক্তির আগমন সারাবিশ্বে অনেক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। কয়েকবছর ধরে দেখা যাচ্ছে যে মিলেনিয়ালস শক্তির প্রবৃদ্ধির কারণে সেই তিনটি জিনিস আনতে পেরেছে এবং ব্যাংকিং ব্যবসার ঝুঁকি অনেকটা কমে গেছে।

যদি কোনো ব্যাংক, উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা থেকে পিছিয়ে আছে, ফিনটেক কোম্পানিগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় আসতো ব্যাংকিং কার্যকলাপের ক্ষেত্রে, তাহলে অচিরেই সেই ব্যাংকগুলো ব্যর্থতার গহীনে হারিয়ে যেত।  তবে, প্রযুক্তির দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও ব্যাংকগুলো তাদের অবস্থানকে ধরে রাখতে পারবে যদি তাদের সেই শক্তি থাকে – আর সেটা হলো অনেক টাকা।

আইডিসি ও এসএপির নতুন সমীক্ষায় দেখা যায়, ৩৪% ব্যাংক নতুন স্টার্টআপদের সহযোগিতা করেছে যেখানে ২৫% ব্যাংক লাভের হারের উপর জোড় দিয়েছে। এদিকে গতবছরের দিকে গোল্ডম্যান স্যাক্স নিয়ে এসেছে অনলাইন রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানিং সার্ভিস ‘অনেস্ট ডলার’, এলাই ফিনান্সিয়াল এনেছে অনলাইন ব্রোকারেজ ‘ট্রেডকিং গ্রূপ’ এবং ব্লক রক পেয়েছে অনলাইন ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম ফিউচার এডভাইজার।

ব্যাংকগুলো সহজেই অনুধাবন করতে পারছে তাদের সিস্টেমগুলো কে সঠিক ও সহজভাবে পরিচালনার জন্য প্রস্তুতকৃত প্রযুক্তির প্রয়োজন রয়েছে।

২) ঋণ, পেমেন্ট এবং স্থানান্তরযোগ্য ইন্ডাস্ট্রির রূপান্তর  

বলার অপেক্ষাই রাখে না ব্যাংকিং শিল্প একটি ব্যবসা শিল্প।  এবং টাকা আয় করা উদ্দেশ্য সেবা প্রদানের মাধ্যমে। ব্যাংকগুলো প্রথমে ঋণ দেয়, ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের উপর ইন্টারেস্ট সংগ্রহ করে থাকে একটা পেমেন্টের মাধ্যমে এবং একটা ব্যাংক এভাবেই এগিয়ে যায়।

ফিনটেক স্টার্টআপের কারণে আমরা ‘ফিনান্সিয়াল ওয়েলনেস’ এর উত্থান দেখেছি যার লক্ষ্য ছিল লোন এবং স্থানান্তরযোগ্য টাকার উপর একচেটিয়া ব্যবসা বন্ধ করা এবং গ্রাহকদেরকে সুপ্ত টাকা প্রদান করার হাত থেকে রক্ষা করা।

উদ্ভাবনী ফিনটেক স্টার্টআপগুলো “চাহিদার্থে” প্রজন্মের চাহিদাগুলির জন্য পুরোপুরি পরিকল্পিত  ইউএক্স সহ স্লিক মোবাইল প্রস্তুত প্ল্যাটফর্মগুলিতে অর্থ স্থানান্তর, ঋণ, সঞ্চয়, আর্থিক পরামর্শ এবং বিনিয়োগের বিকল্পগুলি হিসাবে ব্যক্তিগত পরিষেবা প্রদান করে চলেছে যা  “অবিচ্ছিন্ন” ব্যাংকিং হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে ।

আজকাল লোন দিচ্ছে অনেক সংস্থাই যেমন অনডেক, ক্যাবেজ, ফান্ডবক্স, ব্লুভাইন উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া পেপ্যালও এখন বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সেবা প্রদান করছে। আজকাল ফিন্টেক প্লেয়ার এবং নেতৃস্থানীয় কারিগরি কোম্পানিগুলির কাছ থেকে স্থানান্তর সেবা একটি নতুন প্রজন্মের সাথেও গুগল ওয়ালেট বা অ্যাপলপে হিসাবে পরিষেবাগুলিতে যোগদান করেছে।

ফিনটেক কোম্পানিগুলি, যেমন সিকিউরিয়ানপে, গ্রাহকদের চাহিদাগুলিকে আরও ভালভাবে সনাক্ত করে এবং সহজে গ্রাহকদের অর্থ প্রদানের সুবিধা প্রদান করে। তাদের পেমেন্ট ফর্ম কেবল প্রয়োজনীয় তথ্য অন্তর্ভুক্ত এবং বাহ্যিক পেমেন্ট- বা ব্যাংক ব্যবহারকারীদের পুনর্নির্দেশ করার প্রয়োজন নেই – অর্থ প্রদান পরিষেবা নতুন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলি গ্রাহক-কেন্দ্রিক সমাধান প্রদান করে যা একটি ব্যবহারকারী-বন্ধুত্বপূর্ণ ক্রয় প্রক্রিয়ার প্রস্তাব দেয়, যাতে চেকআউটের একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে।

ব্যাংকগুলো তাদের প্রধান উৎস হারাচ্ছে, যেহেতু গ্রাহকরা বুঝতে পারছে তাদের সময় এবং টাকা দুটোকে রক্ষা করে চলতে হবে।  যখনি এই ব্যাপারটা অনেক ব্যাংককে বটম লাইনে নিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই ফিনটেক প্রযুক্তির আওতায় এসে দাঁড়াচ্ছে আরো অনেক ব্যাংকসমূহ।

ডেলয়েটের ‘কী ট্রেন্ডস ফর ব্যাংকিং এন্ড সিকিউরিটিজ ইন ২০১৭’ তে বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, আরো সাশ্রয়ী স্থানান্তরযোগ্য স্থানগুলিতে আরও বেশি ফোকাস দেখা যেতে পারে  যেমনটি ‘ফেডেরাল রিজার্ভের’ এর সাথে ব্যাংকের অংশীদারিত্ব দেখা যায় ।

 ৩) আর্থিক খাত গুলো বিপর্যস্ত করবে ‘বিটকয়েন’

পূর্বল্লোখিত ডেলয়েটের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর জন্য ‘অস্তিত্বের হুমকি’ সাধিত হচ্ছে  বিটকয়েন প্রযুক্তি আগমনের ফলে। বিটকয়েন বিশেষজ্ঞ ইভাণ্ডার স্মার্ট বলেন, যখন ডিজিটাল কারেন্সি রাজত্ব করবে এবং গ্রাহকদের পূর্ণ বিশ্বাস অর্জন করবে, বিটকয়েন প্রযুক্তি তখন সম্পূর্ণ ব্যাংকিং সিস্টেমকে পরাস্ত করে ফেলবে।  কারণ, গ্রাহকরা তখন নিজেরাই নিজেদের ব্যাংকার হয়ে যাবে, স্মার্টফোন ব্যবহারে তারা ট্রানজ্যাকশন করতে শুরু করবে এবং গতানুগতিক ব্যাংকিং হারিয়ে যেতে বসবে।

বিটকয়েন “দ্য নেক্সট গোল্ড” হতে পারে যা একটি বিকেন্দ্রিত ক্রিপ্টো-কারেন্সির ব্যাংকিং মুদ্রা  এবং অন্য  মুদ্রার মূল্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলবে।

বর্তমানে বিটকয়েনের যেখানে জয়জয়কার, ডিজিটাল মুদ্রা কিন্তু সমস্যার সমাধান করতে পারবে না, কেননা এখন পর্যন্ত এটা সব গ্রাহকদের বিশ্বাস  অর্জন করতে পারেনি।

স্কাইপের সাবেক সিওও এবং বিটকয়েনের ওয়ালেট সার্ভিসের ব্লকচেইন বোর্ডের সদস্য মাইকেল জ্যাকসন জানিয়েছেন যে ব্লকচেইনের স্থিতিস্থাপকতা ও নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণিত হয়েছে, কিন্তু ব্লকচেইন কোম্পানিগুলির মুখোমুখি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে “বিটকয়েনের” জটিলতা সফলভাবে অগ্রাহ্য করা এবং পরবর্তী ১০০ বছরে ফরাসী মূল্যের স্থানান্তরকে আনয়ন করা।

গ্রাহক নির্ভরতা বৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী গ্রাহকদের উৎসাহিত করার অন্যতম উপায় হবে নেতৃস্থানীয় খুচরা ব্যাংকগুলির সাথে অংশীদারিত্ব করা । যদিও ভোক্তারা ব্যাংকের নীতিমালা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে, তবু তারা তাদের ভল্টগুলিতে জমা রাখা অর্থের যত্ন নিতে বদ্ধ পরিকর । সানটেন্ডার এবং ইউবিএস সহ বেশ কয়েকটি নেতৃস্থানীয় বিশ্বব্যাংক আন্তর্জাতিক ক্রস-সীমান্ত প্রদানের জন্য ব্লকচেইন প্রযুক্তি ট্রায়াল করছে, ইউএস স্টার্ট আপ রিপলের সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমে।

প্রকৃতপক্ষে, গ্রাহকগণ যেভাবে ফিনটেক প্রযুক্তির সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে যাচ্ছে, ব্যাংকগুলো যদি এই ব্যাপারে তাল মিলিয়ে না চলতে পারে, তাহলে ধ্বস অবধারিত।  ফিনটেক উদ্ভাবনের একটা বিশেষ আবেদন রয়েছে মিলেনিয়ালসের জন্য।

আর বিশ্বব্যাপী খুচরো ব্যাংকের ব্যাংক ব্যালেন্সের মাধ্যমে, তাদের গ্রহণযোগ্যতাটি আরও কার্যকরী, সাশ্রয়ী ও স্বচ্ছ আর্থিক সেক্টরে পরিণত হতে পারে।

 

সূত্র: বিজনেস টু কমিউনিটি
অনুবাদ: অনন্য রাজ্জাক

মন্তব্য করুন

Top