স্টার্টআপ কোম্পানি গুলোর পুঁজিবৃদ্ধির বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি সমূহ - ফিনটেক বাংলা
You are here
Home > অন্যান্য > স্টার্টআপ কোম্পানি গুলোর পুঁজিবৃদ্ধির বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি সমূহ

স্টার্টআপ কোম্পানি গুলোর পুঁজিবৃদ্ধির বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি সমূহ

আপনার নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যথাযথ অর্থায়ন সৃষ্টি করার প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য গুলোর সম্বন্ধে জানুন। আপনার পছন্দগুলোকে সনাক্ত করুনঃ দেখুন কোথায় আপনি বিনিয়োগ কারীদের খুঁজে পাবেন এবং কিভাবে তাদের কাছ থেকে প্রয়োজন মত সাহায্য পাবেন তার  উপায় বের করুন।

আপনার ধারণা বৃহৎ হতে পারেকিন্তুফান্ড (অর্থ) ছাড়া এর ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব হবেনা। এটি সত্য যে অধিকাংশ উদ্যোক্তাদের নিজস্ব ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য যথেষ্ট পরিমানে বিনিয়োগ নেই। তবে যেভাবে বিভিন্ন ধরনের নতুন ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটছে সেভাবে বিনি য়োগকারীদের সংখ্যাও দিনদিন বাড়ছে যেমনঃ ভিসি, এঞ্জেল ইনভেস্টরস্‌, পিয়ার-টু-পিয়ার (পি-টু-পি) ঋণদান সংস্থা ইত্যাদি।

আপনি ব্যবসার জন্য কিভাবে বিভিন্ন ফান্ডিং সোর্স (তহবিল) খুঁজে পাবেন, অর্থায়নের জন্য কিভাবে প্রস্তাব প্রণয়ন করবেন, এছাড়াও আপনার ব্যবসাকে স্থায়ী করার জন্য বিভিন্ন রকমের ধারনা দেওয়া হবে আজকের এই লেখায়।

ফান্ডিংখাতঃ

এখন আমরা কিছু ফান্ডিং সোর্স (তহবিল) নিয়ে আলোচনা করব যেন আপনারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী এক বা একাধিক সোর্স বেছে নিতেপারেন।

ক্রাউডফান্ডিং:

যদিও এই তহবিলটি তুলনামূলকভাবে নতুন, তবুও প্রতিযোগিতায় এটি বেশ এগিয়ে আছে। উদ্যোক্তারা যখন তাদের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করবে তখন বিভিন্ন পণ্য বা সেবা, একটি সহজ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, ব্যবসাবৃদ্ধির পরিকল্পনা ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পারবে।যারা ব্যবসার জন্য বিনিয়োগকারীর খোঁজে থাকে তারা বেশ আগ্রহ নিয়ে এই সাইটে প্রবেশ করে।এখানে ছোট ছোট আকারে অনেক বিনিয়োগ করে সাহায্য করা হয়।তাই আপনিও যদি ক্রাউডফান্ডিং-এর একজন প্রতিযোগী হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে নিজের ব্যবসার ধারনাকে বেশ গুছিয়ে ও সাবলীলভাবে তাদের কাছে উপস্থাপন করতে হবে।আপনার প্রচারনায় যা যা থাকতে হবে সেগুলো হলঃ

  • আপনার সম্পর্কে একটি অনুপ্রেরণীয়, চমৎকার এবং হৃদয়স্পর্শী ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং জানাতে হবে আপনার বর্তমান ব্যবসার ধারনার কারন ও ভবিষ্যতে এটি মানুষের উপর কি প্রভাব ফেলবে।
  • সংবাদপত্রে এর একটি টীকা দেওয়া।
  • পণ্যের কিছু ছবি অথবা ডেমো ভিডিও উপস্থাপন।
  • সাধারন মানুষকে আকর্ষণ করার চেষ্টা করা ইত্যাদি।

ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টঃ

ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট (ভিসি) সর্বদা তাদেরকেই সাহায্য করে যারা বেশ বড় এবং দৃঢ় ভিত্তিসম্পন্ন ব্যবসা শুরু করতে চায়। ভিসির কাছ থেকে পুঁজি লাভের জন্য উদ্যোক্তারা প্রায় বছরখানেক সময় নিয়ে তাদের ব্যবসাকে একটি বাস্তব রূপ দেয়।যখন তারা তাদের ব্যবসাটিকে আরো একটি নতুন ধাপে নিয়ে যেতে চায় তখন ভিসি তাদের বেশ বড় আকারের অর্থ দিয়ে সহায়তা করে।যদি আপনি কম টাকায় কোন ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে ভিসির সাথে যোগাযোগ না করাই ভাল।কারন তারা ছোট পরিসরে বিনিয়োগ করে না।ভিসি ব্যবহার করার আরো একটি অসুবিধা হল তারা আপনার ব্যবসার লভ্যাংশ নিতেচাইবে। তাই আপনার ব্যবসায় স্বাধীনতা থাকবে না।

এঞ্জেলইনভেস্টরস্ঃ

তারা অনেকটা ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টের মত হলেও তাদের অর্থের পরিমান অনেক কম।তারাও কোম্পানির মুনাফার অংশ নিতে চায়।অবশ্য অনেক উদ্যোক্তা তাদের সমর্থন করে।আপনি যদি কোন ছোট ব্যবসার জন্য তহবিল খুঁজে থাকেন তবে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

ব্যাংক স্মল বিজনেস লোনঃ

ব্যাংকগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট ব্যবসার জন্য ঋনদানের ব্যবস্থা রয়েছ।অন্যান্য বিনিয়োগ সংস্থার তুলনায় ব্যাংকের অনেক বেশি নিয়মনীতি থাকলেও যদি কেউ ব্যবসার জন্য সাহায্য চায় তবে তিনি ব্যাংক থেকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী ঋণ নিতে পারবেন। তবে এই ঋণ কার্যকর হতে বেশ কিছু সময়ের প্রয়োজন।তবে ভাল পরিচিতি কিংবা যথাযথ কাগজের অভাবে অনেক সময় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে।তাই অনেকেই এখন বিভিন্ন বেসরকারি তহবিলের দিকে বেশি আগ্রহ দেখায়।তবে ব্যাংক থেকে এই প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি পরিমানে সুদ নেয়।

ঋণ লাভের জন্য যা প্রয়োজনঃ

কোন সংস্থায় আপনার পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ না করে আপনাকে ঋণ দিবে না।এবং তারা অবশ্যই এই তথ্যগুলো লিখিত আকারে চায়।তাই ঋণ গ্রহনের জন্য আপনাকে অবশ্যই একটি ভাল প্রস্তাব লিখিত আকারে তাদের কাছে জমা দিতে হবে।এবং প্রস্তাবটিতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো রাখতে হবেঃ

  • আপনার ব্যক্তিগত তথ্যঃযে কেউই ঋণদানের পূর্বে আপনার সম্বন্ধে সম্পূর্ণ তথ্য-উপাত্ত জানতে চাইবে।আপনি এর আগে কখনো ব্যবসা করেছেন কিনা,আপনি ব্যবসা করতে কতটুকু আগ্রহী এসব কিছুই তাদের জানাতে হবে।আপনার কতটা সততা আছে কিংবা আপনি কতটা নির্ভরযোগ্য ইত্যাদি প্রমাণস্বরূপ তাদের দেখাতে হবে।
  • আপনার গ্রাহকের একটি বিস্তারিত ডেমোগ্রাফি প্রদান করুনঃঋণদাতারা জানতে চান যে আপনার ক্রেতার সংখ্যা কেমন।এমনকি আপনার কাছে পৌঁছাতে সক্ষম এমন সম্ভাব্য গ্রাহকদের সংখ্যা কত।মূলত বাজারে প্রতিযোগিতায় আপনি কেমন অবস্থানে আছেন সেটা জরিপ করার জন্যই এই তথ্যগুলোর প্রয়োজন।
  • আপনার পণ্য ও সেবা সম্পর্কে বলুনঃ আপনি কি কি পণ্য বিক্রি করছেন, ভোক্তাদের কেমন সেবা প্রদান করছেন তার একটি বর্ণনা দিতে হবে।
  • বাজেট উপস্থাপনঃউৎপাদন, বাজারকরণ, ডেলিভারি এবং গ্রাহক পরিষেবা জন্য আপনার প্রত্যাশিত খরচ কত পড়বে?মুনাফা নিশ্চিত করার জন্য আপনি কিভাবে আপনার পণ্যের মূল্য কতনির্ধারণ করবেন? ঋণদাতা যত রক্ষনশীল হবে আপনাকে তত বেশি তথ্য দিতে হবে।আপনার পরিশোধ পরিকল্পনা সম্বন্ধেও জানাতে হবে।
  • মার্কেটিং প্ল্যান উপস্থাপনঃআপনি ব্যবসা নিয়ে নূন্যতম পরিকল্পনা করেছেন কিনা তার একটি নকশা উপস্থাপন করতে হবে।একটি তহবিলে দরখাস্ত করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল আপনার পণ্য অথবা সেবার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা। আপনি যদি যথাযথ প্রয়োজন দেখাতে পারেন তবে বিনিয়োগকারীরা বিজ্ঞপ্তি দিতে পারে বলে আশা করা যায়।

কোথায় বিনিয়োগকারীদের পাবেনঃ

বিনিয়োগকারীদের ধরনের উপর ভিত্তি করে আপনাকে সোর্স খুঁজতে হবে।কখনো কঠোর পরিশ্রম করতে হবে আবার কখনো সহজেই তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন।আপনি যদি ক্রাউডফান্ডিং এর মত সোর্স খুঁজে থাকেন তব সরাসরি গুগলে গিয়ে এই জাতীয় সাইটের অনুসন্ধান করে ঘরে বসেই আপনার প্রস্তাব তৈরি করতে পারেন।

আপনি যদি ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে চান তবে আপনাকে বেশি ঝামেলা করতে হবে না।আপনার সুবিধা অনুযায়ী ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করে আপনার দরখাস্ত জমা দিন।ব্যাংকগুলো সাধারণত লিখিত আকারে আপনার তথ্য চায় বলে ফোনে বেশি কথা বাড়াতে চায় না।

এঞ্জেল ইনভেস্টরস্‌ থেকে ঋণ নিতে চাইলে আপনাকে বেশ পরিশ্রম করতে হবে।সাধারণত পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে এরা ঋণ দিতে চায়।তাই আপনি যে সকল উদ্যোক্তাদের নেটওয়ার্কিং গ্রুপ আছে সেগুলোতে যোগ দিতে পারেন।ওখান থেকে অনেকেই সাহায্য পেয়ে থাকে।

ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট সবসময় রেফারেন্সের মাধ্যমে ঋণ প্রদান করে।আপনি কিছু সময়ের জন্য ব্যবসা করেন এবং সফল হোন তবে আপনি এই সম্পর্কিত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতে পারেন।

পিচফেস্ট এখন একটি প্রচলিত ও জনপ্রিয় কার্যপদ্ধতি। এর মাধ্যমে অনেক উদ্যোক্তা একত্রিত হয়ে ফান্ডিং সোর্স খুঁজতে পারে।সাধারণত অনলাইনে মানুষ পিচফেস্টে কাজ করে।

অর্থায়ন পেতে কি করবেন এবং কি করবেন নাঃ

কি করবেনঃ

ব্যবসায় ইচ্ছা প্রকাশঃবিনিয়োগকারীরা ধরেই নেয় যে উদ্যোক্তারা ব্যবসাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়।অর্থাৎ আপনি যতক্ষণ না সফল হবে আপনি এর পিছনেই লেগে থাকবেন।তাই ব্যবসার প্রতি প্রবল ইচ্ছার প্রকাশ ব্যক্ত করুন।

ভাল উপস্থাপন করুনঃআপনি যদি কোন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা করে থাকেন হোক সেটা স্কাইপে কিংবা সরাসরি অবশ্যই একটি ভাল উপস্থাপনার প্রস্তুতি রাখবেন।সেই সময় আত্মবিশ্বাসী এবং পেশাদারদের মত আচরণ করুন।এমনভাবে কথা বলুন যেন মনে হয় আপনি তাদেরই একজন।

উৎসাহী হোনঃএটি ব্যবসার প্রতি ইচ্ছা প্রকাশের চেয়ে কোন অংশে কম নয়।আপনি আপনার পণ্য অথবা সেবা সম্পর্কে ভাল করেই য।এমনকি বাজার সম্বন্ধেও আপনার ধারনা রাখার কথা।বাজার নিয়ে ঋণদাতাদের অবগত করুন।তাদের জানিয়ে দিন কিভাবে এবং কেন আপনি অন্যদের চেয়ে ভাল করে ব্যবসা করতে পারবেন।

আপনার তথ্য আপনার সাথে রাখুনঃ অর্থনৈতিকভাবে চিন্তাশীল বিনিয়োগকারীদের সন্তুষ্ট করার জন্য এই উপাত্তগুলো কাজে আসে।

কি করবেন নাঃ

অসত্য পন্থা অবলম্বন করবেন নাঃ ঋণ পাওয়ার লোভে কোন রকম মিথ্যা বলবেন না।এমনকি আপনার ব্যবসা সম্পর্কে অতিরঞ্জিত করে কিছু বলবেন না।তা না হলে পরবর্তীতে বাজারে আপনার প্রতি অন্যের মনোভাব নষ্ট হবে।

উদ্ধ্যত আচরণ করবেন নাঃ অপেশাদার কিংবা উদ্ধ্যত আচরণ থেকে বিরত থাকুন। কারন বিনিয়োগকারীরা এধরনের ব্যবহার অপছন্দ করেন।

ভুল উত্তর দিবেন নাঃ বিনিয়োগকারীদের কোন প্রশ্নের উত্তর না জানলে সরাসরি বলুন।ভুল উত্তর আপনার চুক্তিতে বাজে প্রভাব ফেলতে পারে।

অপছন্দনীয় শর্তে ঋণ গ্রহন করবেন নাঃ বিনিয়োগকারীদের শর্ত যদি আপনার পছন্দ না হয় তবে কোন রকম চুক্তিবদ্ধ হবেন না। ভবিষ্যতে এটি আপনার ক্ষতির কারন হতে পারে।

মন্তব্য করুন

Top