মোবাইল গেম ডেভেলপিং কোন ছেলে খেলা নয়ঃ বাংলাদেশ কি পারবে শত-বিলিয়ন ডলারের একাংশ অর্জন করতে? - ফিনটেক বাংলা
You are here
Home > লোকাল ইভেন্টস > মোবাইল গেম ডেভেলপিং কোন ছেলে খেলা নয়ঃ বাংলাদেশ কি পারবে শত-বিলিয়ন ডলারের একাংশ অর্জন করতে?

মোবাইল গেম ডেভেলপিং কোন ছেলে খেলা নয়ঃ বাংলাদেশ কি পারবে শত-বিলিয়ন ডলারের একাংশ অর্জন করতে?

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭ এর চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী দিনে “ক্যারিয়ার ইন গেমিং ইন্ডাস্ট্রিঃ প্রেজেন্ট এন্ড ফিউচার” সেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।এই সভায় বিভিন্ন শিল্প বিশেষজ্ঞরা এবং গেম-সম্পর্কিত সরকারি কর্মকর্তারা একত্রিত হয়ে বৃহৎ গেমিং শিল্পের (ইন্ডাস্ট্রির) উন্নতিরমাধ্যমে বাংলাদেশেরবিভিন্ন সুবিধা ও সম্ভাব্যতার কথা আলোচনা করেন।

 

মাশা মুস্তাকিম

(সিইও, মাইন্ডফিশার গেমস্‌ ইঙ্ক্‌;

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক অ্যান্ড্রয়েড গেম হিরোস অব ৭১ এর প্রণেতা)

“গেম ডেভেলপমেন্টের জন্য প্রয়োজন একটি উপযুক্ত বাস্তুসংস্থান (ইকোসিস্টেম) এবং আমরা সৌভাগ্যবান যে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপের কারণে অবশেষে এটি সম্ভব হয়েছে।সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে গেমিং শিল্পের উপর গুরুত্ব দিয়েছে বলে এটি বিশাল ধাপে এগিয়ে আছে এবং এর মাধ্যমে বিপুল পরিমানে আয় করার সম্ভাবনা রয়েছে।“

 “একজন গেম উদ্যোক্তা হিসেবে আমি প্রথমেই বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দিব। রামী ইসমাইলের ভাষ্যমতে, একজন সফল গেম উদ্যোক্তাহতে তিনটি জিনিস প্রয়োজন। আপনি যদি রামী ইসমাইলকে না চিনেন তবে আপনার উচিত ইউটিউবে তাঁকে দেখা ও তাঁর কথা শোনা। সেই তিনটি জিনিস হল গভীর ইচ্ছা, দক্ষতা এবং অর্থ। ইচ্ছা থাকতেই হবে। ইচ্ছা ব্যতীত আপনি এটি করতে পারবেন না।“

ডঃ জানে আলম রাবিদ

(পরামর্শদাতা, মোবাইল অ্যাপস্‌ ও গেমিংপ্রকল্পের দক্ষতা উন্নয়ন;

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ)

 

“এই প্রকল্পটি তিনটি মূল অংশ বিভাজনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথম ধাপেদেশের চল্লিশটি ভিন্ন ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চল্লিশটি স্টেট অব দ্য আর্ট মোবাইল গেমিং এবং টেস্টিং ল্যাব তৈরি করা হচ্ছে। ফলে দেশের গেম ডেভেলপাররা রিসোর্স নিয়ে যেসকল সমস্যার সম্মুখীন হয় তা কমে আসবে।“

“দ্বিতীয় ধাপটি হল,তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ১৬১০০ জন তরুণের প্রশিক্ষণের জন্য অর্থায়নের ব্যবস্থা করছে। এই তরুণ ছাত্ররা বিনামূল্যে মোবাইল গেমিং ও অ্যাপস্‌ এর উপর প্রশিক্ষন নিতে পারবে। তারা গেম ডিজাইনিং,প্রোগ্রামিং এমনকি অন্যান্য জিনিসের মুদ্রায়ণ করা শিখবে। এই প্রশিক্ষণটি জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়ার কথা।“

“তৃতীয় ধাপটি হল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ  ১০৫০ টি মোবাইল অ্যাপস্‌ এবং বিভিন্ন গেম তৈরি করছে। উচ্চাকাঙ্ক্ষী ডেভেলপারদের আইসিটি বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা উচিত, যেন তারা গেম উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সাহায্য পেতে পারে।“

 

তানভির আদনান

(সিইও, আইটিআইডব্লিউ)

 

“আমরা যখন ২০০৮ সালে প্রথম কাজ শুরু করি তখন কেবল মার্কিন বাজারের কথা মাথায় রেখেছিলাম। তখন প্রচুর পরিমানে আমাদের অ্যাপ ডাউনলোড করা হয়েছিল। কিন্তু এখন প্রত্যেকটি ব্যবহারকারী বৃদ্ধির জন্য আপনাকে বিনিয়োগ করতে হবে।“

“বিশ্ব বাজারের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত না করে বরং বাংলাদেশী বাজার এবং ভারতীয় বাজারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা বেশি যুক্তিসঙ্গত কাজ হবে। আমরা বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিল্প ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হচ্ছি এবং সেই সাথে এখান থেকে সকল ধরনের সুবিধা অর্জন করতে পারি।“

 

আসাদুজ্জামান আসাদ

(সিইও, স্পিন অব স্টুডিও)

 

“২০১৮ সাল নাগাদ গেমিং বাজার ২০০ কোটি টাকা মূল্যের হবে। ২০১৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় আট থেকে দশ হাজার তরুণ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হবে ফলে এর মূল্য ৪০০ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাবে।“

“তরুণ গেম ডেভেলপারদের আইসিটি বিভাগের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করা উচিত। আপনি একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে যান এবং তাদের বাজেট ও পরিকল্পনার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন। আপনার পরিকল্পনা মিলিয়ন ডলারের মূল্যমানের হতে পারে।“

 

ঊর্মী ইরানি খান

(ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ট্রায়ন টেকনোলজিস;বিডি)

 

“গেমিং জগতে খেলোয়াড়দের ভূমিকা অপরিসীম। একজন ভাল খেলোয়াড় একটি খেলার সুবিধা-অসুবিধা এবং ভুলত্রুটি সনাক্ত করতে পারে। টেস্টিং পর্যায়ে এসে যথাযথ খেয়াল রাখা উচিত। অনেক ডেভেলপাররা প্রায়ই তাদের প্রোজেক্টকে নিখুঁত করার লক্ষ্যে পুনর্বিন্যাস করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়াগুলো গুরুত্বের সাথে নেওয়া এবং এগুলো নিয়ে কাজ করা সফলতা অর্জনের একটি সাবলীল উপায়।“

 

মাইক কাজী

(সিইও,কাজী আইটি লিমিটেড)

 

“যদি আপনি সত্যিই কন্টেন্ট তৈরি এবং উন্নয়নের কাজ ভাল জানেন তবে সহকর্মী খুঁজে নিন। এখানে উদ্যোক্তা,  ম্যানেজার, সৃজনশীল ব্যক্তি আছে। আপনি যদি তাদের কোন একজন হয়ে থাকেন কিংবা না হয়ে থাকেন তবে যথোপযুক্ত সহকর্মী খুঁজে সেই শূন্যস্থানগুলো পূরণ করে নিন।“

মোশারফ হোসাইন

(হেড, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট,

আইসিডিডিআর, বি; প্রেসিডেন্ট, এপিএফএইচআরএম)

 

“বাংলাদেশের ডেভেলপারদের উচিত আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে তাদের রিসোর্সগুলো নিয়ে আলোচনা কিংবা ভাগ করা যেন তারাও বাইরের দেশ থেকে প্রয়োজনমত রিসোর্স এনেনিজেদের কাজে লাগাতে পারে। আমরা এর জন্য প্রয়োজনমত প্লাটফর্ম তৈরি করতে যথেষ্ট পরিমানে সাবলীল হয়েছি।আপনারা জানেন যে আমরা এশিয়া প্যাসিফিক ফেডারেশন অফ হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্টে (এপিএফএইচআরএম) প্রতিনিধিত্ব করছি। আমরা এই ধরনের সম্পর্কগুলোর সদ্ব্যবহার করতে পারি।“

কে এম আবদুল ওয়াদুদ

(প্রকল্প পরিচালক, মোবাইল অ্যাপস্‌ ও গেমিং প্রকল্পের দক্ষতা উন্নয়ন)

 

“আমাদের জনসংখ্যায় আমাদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। মার্কিন বাজার ভুলে যান। বর্তমানে এদেশে পাঁচ কোটি মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠী রয়েছে, যাদের ক্রয় ক্ষমতা আছে। তারা তাদের সন্তানাদি এবং নিজেদের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারছে। আমরা এখন নিম্ন মধ্য আয়েরদেশ। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হব। সেই সময়ের মধ্যে বাজার আমাদের কাছেই থাকবে।তাই তখন আপনাকে দেশের বাইরে বাজারের জন্য লক্ষ্য রাখতে হবে না।“

মোঃ আসাদুল ইসলাম

(সচিব, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়)

 

“আমারপ্রযুক্তিগতকোন জ্ঞান নেই কিন্তু এখানে আসার আগে আমি একটু গবেষণা করেএসেছি।তখনআমিজটিলভাষাগুলোরমধ্যেহারিয়েগিয়েছিলামএবংএইব্যাপারগুলোবোঝাকতটাকঠিনতাউপলব্ধিকরেছিলাম। কিন্তু আমি খুব বিস্মিত হয়েছিলাম এটা জেনে যে ২০১৭ সালের শেষ নাগাদ গেমিং শিল্পের বিশ্বব্যাপী আয় ১৭০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি একটি বৃহৎ শিল্প।“

“বর্তমানে তরুণরাও এই শিল্পের দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সেই সাথে সরকারকেও ধন্যবাদ সময়মত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। এই সবগুলোই আমাদের দেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিবে।“

মন্তব্য করুন

Top