বাংলাদেশে ব্লকচেইন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করবে ইজেনারেশান - ফিনটেক বাংলা
You are here
Home > লোকাল ইভেন্টস > বাংলাদেশে ব্লকচেইন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করবে ইজেনারেশান

বাংলাদেশে ব্লকচেইন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করবে ইজেনারেশান

বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ আইটি কনসাল্টিং এবং সফটওয়্যার কোম্পানি ইজেনারেশান লিমিটেড ব্লকচেইন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করবে। ব্লকচেইন প্রযুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে নেতৃস্থানীয় অবস্থানে পৌঁছানোর প্রত্যয় নিয়ে “বৈশ্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থায় ব্লকচেইন – বাংলাদেশের করণীয়” শীর্ষক  একটি গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে।  রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে অবস্থিত বেসিস মিলনায়তনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ১০ জানুয়ারি, ২০১৮। 

 ব্লকচেইন হলো ডেইটা সংরক্ষণ করার একটি নিরাপদ এবং উন্মুক্ত পদ্ধতি যার মাধ্যমে ডেইটাগুলো বিভিন্ন ব্লকে একটির পর একটি চেইন আকারে সংরক্ষণ করা হয় এবং এতে ডেইটার মালিকানা সংরক্ষিত থাকে।  এই পদ্ধতিতে ডেইটা সংরক্ষণ করলে কোনো একটি ব্লকের ডেইটা পরিবর্তন করতে চাইলে সেই চেইনে থাকা প্রতিটি ব্লকে পরিবর্তন আনতে হয় যা অসম্ভব। তাই এই পদ্ধতিতে ডেইটা সংরক্ষন করাটা বেশ নিরাপদ।

ইজেনারেশান গ্রূপের চেয়ারম্যান শামীম আহসানের সভাপতিত্বে এই গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার।

 বাংলাদেশে ব্লকচেইনের সম্ভাবনা নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইজেনারেশান লিমিটেডের এক্সেকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল ইসলাম এবং সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তিবিদ ও ইউপ্লাস ইনকর্পোরেশানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী শওকত শামিম। 

 ইজেনারেশানের এই আয়োজনের প্রশংসা করে মোস্তফা জব্বার বলেন, “আমরা আজকে ছোট একটা কক্ষে ব্লকচেইন প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করছি, কিন্তু বস্তুতপক্ষে আমরা এই প্রযুক্তি ১৬ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। আমাদের অবস্থাটা এরকম যে প্রযুক্তিগত দিকি থেকে আমরা পিছিয়ে থাকার লোক। কেননা ১৪৫৪ সালে প্রযুক্তির একটি চক্র আবিষ্কৃত হয়, এবং বাংলাদেশে সেই চক্র পৌঁছায় ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে। অর্থাৎ ৩২৪ বছর পরে প্রযুক্তি আমাদেরকে স্পর্শ করতে পেরেছিলো। তবে আমরা কিন্তু ওই জায়গাটাও অতিক্রম করেছি বেশ অনেক আগে।”

“আমি যখন ১৯৮৭ সালে কম্পিউটারের যাত্রা শুরু করি, তখন যেই প্রযুক্তি আমরা ব্যবহার করেছি, সেই প্রযুক্তি তখন সারা দুনিয়ায় ব্যবহার করতো। তারমানে আমরা সেই সময় পর্যন্ত পিছিয়েই ছিলাম।”

তবে তিনি আশাবাদী এবং আরো বলেন,”ইজেনারেশন দুবাই এ ব্লকচেইন সলুশন দিচ্ছে যা বহির্বিশ্বকে অবহিত করে যে বাংলাদেশ ব্লকচেইনের মত সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে সক্ষম। আমরা আশা করি ইজেনারেশনের মত বাংলাদেশি অন্যান্য কোম্পানিগুলোও দেশের নাম উজ্জ্বল করতে ভূমিকা রাখবে।“

“জনগণের জন্য উপকারী এমন যে কোন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সরকার সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করবে। এখানে উপস্থিত সকলকে আমি অনুরোধ করব, এই প্রযুক্তি থেকে বাংলাদেশ কিভাবে উপকৃত হতে পারে এটি নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা করুন যেন সরকার এটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে,” বলেন মোস্তফা জব্বার।  

ইজেনারেশান লিমিটেডের এক্সেকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম কী-নোট উপস্থাপন করেন। ব্লক চেইনের ব্যবহার, সম্ভাবনা সম্পর্কে বলেন এবং জানান যে, এটি একটি চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও ৩৬০ ডিগ্রি ডিসরাপশান।  

তিনি আরো বলেন, মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিতে ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। ডিজিটাল যুগের সবচেয়ে বড় সমস্যা ডিজিটাল ডকুমেন্টের সুরক্ষা।  কাগজের নথি টেম্পারিং করা হলে তা সহজেই নিরুপন করা যায়। ডিজিটাল ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন যা এই প্রযুক্তি সমাধান দিতে সক্ষম।

সম্ভাবনার কথা বলতে গিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “স্মার্ট চুক্তি এ প্রযুক্তির দ্বারা সম্ভব। বিতরণকৃত লেজার সহজ চুক্তিগুলোকে এমনভাবে কোডিং করা সম্ভব যাতে নিদৃষ্ট শর্ত পালন সাপেক্ষে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়। তাছাড়া ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল গঠনে ব্লক চেইন প্রযুক্তি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে”।  

বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ২০১৭ সালে আমরা যে প্রযুক্তি পরিবেশে বসবাস করেছি, ২০১৮ সালে তা অনেকটাই বদলে যাবে। ডাটার ওপেন অ্যাক্সেস এর কারণে কপিরাইট সংরক্ষণ একটি বিশাল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। কপিরাইট নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে ব্লকচেইন একটি বড় ভূমিকা পালন করবে। আমাদের দেশে ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থাপনায় ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আমাদের জীবনে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবে। এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে না পারলে আমরা আবার বিশ্ব ময়দানে পিছিয়ে যাব, বলেন আশরাফুল ইসলাম।

ইউপ্লাস ইনকর্পোরেশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী শওকত শামিম কীনোট উপস্থাপনের সময় এই প্রযুক্তিকে উল্লেখ করেন, “আ রোডম্যাপ টু ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল রিভোলুশন উইথ ব্লকচেইন” ।

“১৯৯৬ সালে একটা বিপ্লব ঘটে যেটাকে বলা হয় প্রযুক্তি বিপ্লবের সময়। এই সময় অনেক টেকনোলজির আবির্ভাব হতে থাকে এবং টেকনোলোজিস্টদেরও আমরা দেখতে পাই। তখন থেকেই নতুন নতুন উদ্ভাবনেরও দিকপাল শুরু হয়। আজকের এই ব্লকচেইন ও একটি “রিভোলুশন” বা বিপ্লব।

শওকত শামিম ব্লকচেইনের গুরুত্ব আলোকপাত করেন এবং বলেন, বৈশ্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থায় ইন্টারনেটের পর ব্লকচেইন-ই বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশেরও বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এই বিপ্লবে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। 

টেলিনর হেলথের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিদ রহমান এক পর্যায়ে বক্তব্যে অংশ নেন। তিনি বলেন, “সারা বিশ্বে ইন্টারনেট যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, ব্লকচেইনও সেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রযুক্তি হিসেবে ব্লকচেইনের সম্ভাবনা অনেক বেশি। এই ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে টাকা পয়সার লেনদেন প্রান্তিক স্তরেও পৌঁছানো সম্ভব।”

“আমরা দেখেছি, সুইডেনে ব্লকচেইন ব্যবহার করে জমির দলিল গুলোতেও ব্লকচেইন নিয়ে আসা হচ্ছে ।ভোল্টজ (voltz) নামে একটা কোম্পানি আছে, যেটা ভোটিং সিস্টেমকে ব্লকচেইনের আওতায় নিয়ে এসেছে। সুতরাং, ব্লকচেইন কিন্তু শুধু ফিনান্সিয়াল সেক্টরেই সীমাবদ্ধ নয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে।”

আইপিডিসির তথ্য প্রযুক্তির প্রধান আলেয়া আর ইকবাল বলেন, “বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি যেমন মাইক্রোসফট ব্লকচেইন নিয়ে কাজ করছে। ব্লকচেইন এমন একটা প্রযুক্তি যেখানে কোনো ব্যর্থতার সুযোগ নেই। বাংলাদেশেও এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু হচ্ছে – এটা আশা ব্যাঞ্জক।”

“এমনকি আমরা আইপিডিসিতেও ব্লকচেইন নিয়ে কাজ ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছি। সাপ্লায়ার এবং ডিস্ট্রিবিউটরদের মধ্যে এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার একটা সমঝোতা প্রয়োজন।

ব্লকচেইন সম্পূর্ণ নতুন একটি ধারণা। তাই আমরা যদি আমাদের নতুন জেনেরাশানকেও এর মধ্যে নিয়ে আসতে সক্ষম হই এবং আমরা যদি সব সেক্টরকে এই ব্লকচেইনের আওতায় একই নেটওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে আমরা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকেও রিপ্রেজেন্ট করতে পারবো।” 

 

অন্যান্য বক্তারা বলেন, আমাদের অর্থনিতির বিভিন্ন খাতে ব্লকচেইন প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা চালানোর জন্য গবেষণা এবং উন্নয়নমূলক কাজ করা দরকার। এই বৈঠকটি সম্পূর্ণ সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ যার মাধ্যমে বিভিন্ন খাতের ব্যাক্তিবর্গরা একত্রে আলোচনার মাধ্যমে যে যার জায়গা থেকে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখতে পারবে।    

 

 

মন্তব্য করুন

Top