‘প্রযুক্তির স্পর্শে ব্যাংকিং সুবিধাগুলো এখন গ্রাম বাংলায় পৌঁছে গেছে' - ফিনটেক বাংলা
You are here
Home > ইন্টারভিউ > ‘প্রযুক্তির স্পর্শে ব্যাংকিং সুবিধাগুলো এখন গ্রাম বাংলায় পৌঁছে গেছে’

‘প্রযুক্তির স্পর্শে ব্যাংকিং সুবিধাগুলো এখন গ্রাম বাংলায় পৌঁছে গেছে’

নামফলক এবং ডেটলাইন এর মধ্যেই একটা গল্প লুকিয়ে আছে। কক্ষ এবং দেওয়ালগুলির মধ্যে একটি নির্দিষ্ট শক্তির আবির্ভাব বেশ লক্ষণীয়। আর সেই কক্ষগুলোর মধ্যে যারা উপবিষ্ট হয়ে আছেন, তাদের প্রত্যেকেই সফলমণ্ডিত ব্যক্তি। মতিঝিলের ইউনুস টাওয়ারে ঢুকেই দেয়ালের একপাশে ঝুলন্ত নামফলকের মধ্যে ২০ নম্বর এ একটি নাম প্রজ্জলিত হয়ে আছে, আর তিনি হলেন বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব রুহুল কুদ্দুস মুহাম্মদ ফোরকান।

যখন ফিনটেক তার অফিসে প্রবেশ করলো, নীলাভ স্যুট পরিহিত অবস্থায় বিভিন্ন কাজে ব্যাস্তরত এক সুপুরুষ কে দেখতে পেলো। ফিনটেক কে স্বাগত জানালেন এই ব্যস্ত মানুষটি। এবং ষাটোর্ধ বিজ্ঞ এই মানুষটি ফিনটেককে তার জীবন চলার পথের বহু অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন।

বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মানুষটির সাথে কথা বলার সৌভাগ্য ফিনটেক হাত ছাড়া করে নি।

ফিনটেক: ব্যাংকিং সেক্টরে আপনার ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আপনার এই বিস্তৃত পেশা জীবনের ভ্রমণ কবে থেকে কিভাবে শুরু হলো ?

আরকিউএম ফোরকান: শুরুটা ছিল ১৯৭৩ সাল। আমি বেশ মনে করতে পারি অগাস্টের প্রথম দিন ছিল। পেশা শুরু করি ন্যাশনাল গ্রিন্ডলেইস ব্যাংকে। আমার ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল একটা মজার ঘটনা দিয়ে। চেক ক্যাশ করার জন্য আমি গ্রিন্ডলেইসের একটা শাখায় গিয়েছিলাম। সুন্দর আর মনোরম পরিবেশ দেখে আমি এক মুহূর্তের জন্য ভাবছিলাম, “আহা ! আমি যদি এখানে কাজ করতে পারতাম !” সেই সময়ে এক পিওনের কাছ থেকে জানতে পারলাম ব্যাংকে নাকি নতুনভাবে নিয়োগ চলছে। আমি তাকে আমার আগ্রহের কথাটা প্রকাশ করলাম এবং সে আমাকে বলে দিলো কি কি করতে হবে। যাই হোক, ঘটনাচক্রে তারা আমার ইন্টারভিউ নিতে চাইলো। ইন্টারভিউ বোর্ডে ঢুকলাম। আমার বেশ মনে পরে, টেবিলের অপর প্রান্তে বসে ছিলেন একজন বিদেশী ভদ্রলোক, নাম এ জি এ ডান। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমাকে যদি আমি নিয়োগ করি, আমার কাছ থেকে ভবিষ্যতে তুমি কি প্রত্যাশা করো?” জবাবে বলেছিলাম, “আই ওয়ান্ট টু রিপ্লেস ইউ ” । জানি যে আমার এই উত্তরটা খুব ঔদ্ধত্বমূলক এবং বেমানান ছিল। কিন্তু আমি আমার মনের কথাই বলেছি আর তারা আমার এই ব্যাপারটা পছন্দ করেছিলেন এবং আমার চাকরিটা হয়ে যায়।  প্রাথমিক পর্যায়ে আমার বস ছিলেন, শান্তিময় রায়। উনি সম্ভবত এখনো জীবিত আছেন।

ফিনটেক: বেঁচে আছেন এখনো? উনাকে কিন্তু অনেকেই চেনেন।

আরকিউএম ফোরকান: আমি তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি । আমার মনে আছে, আমার একজন বিদেশী সহকর্মী ছিলেন । তাঁর প্রধান দায়িত্ব ছিল টেলেক্স নিয়ে কাজ করা । আমি স্পষ্ট মনে করতে পারি তার নাম পিটিএ স্কট । সেই সময়ের মধ্যে বিদেশীরা আমাদের পাশে কাজ করেছিল। আমার জন্য, এটি একটি রোমাঞ্চকর কাজ ছিল কারণ বিদেশিরা আমাদের পাশে এসে বসত, কথা বলতে চাইতো এবং ফটোগ্রাফ নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করতো।

স্কট তখন নিজের দেশে ফিরে গিয়েছিলেন ছুটি নিয়ে। তখন আমার বস আমাকে বললেন, স্কটের ছুটির এই সময়টা যেন আমি দায়িত্ব গ্রহণ করি। আমি বলেছিলাম, “কেন নয়, অবশ্যই আমি আছি” । তখন থেকে আমি আমার দায়িত্ব বেশ ভালোভাবে এবং স্বতঃস্ফূর্ততার সাথে পালন করতে থাকি। ম্যানেজমেন্টে যারা ছিলেন, সবাই আমাকে পেয়ে বেশ আনন্দিত ছিল। এটা সত্যি আমার জন্য একটা সৌভাগ্যের ব্যাপার ছিল।

সেখানেই আমার নতুনভাবে ক্যারিয়ার জীবন শুরু হয়। ১৯৭৩ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত সেখানে কাজ করতে থাকি। আমি অনেক ফরেন সহকর্মী পেয়েছিলাম যাদের সহযোগিতা সত্যি অসাধারণ ছিল। এবং বাংলাদেশিদের মধ্যেও আজকে যারা অনেক বড় পর্যায়ে আছেন তাদের সাথেও কাজ করেছি। এবং ব্যাংকিং সেক্টরে যে এরকম পরিবেশ পাওয়া যায়, সেটা সেখানে না থাকলে বোঝা যেত না।

পরবর্তীতে, আমি রুমি আলীর সাথে কাজ করেছি। রুমি আলী ছাড়াও আমি পেয়েছিলাম, জাহিদ সারওয়ার নিজাম, আনিসুল হক, জামাল হোসেন, কিশোর চৌধুরী, সৈয়দ নোমান এবং আরও অনেকে। তাদের তুলনা শুধু তারাই আমি বলবো। আসলে আপনি যেই পরিবেশেই কাজ করেন না কেন, আপনার দায়িত্বটা আপনি ঠিক মতো পালন করাটাই হবে মুখ্য। এমন দিন ছিল, যখন বাড়িতে ফিরে আমি চিন্তা করতাম, “আমি আজকে কাজ গুলো ঠিক মতো করতে পারলাম তো?” “আমি এখানে চাকরি করি, আমি আমার এখানে আগামীকাল কাজ করতে আসতে পারবো তো ?” এ ধরণের চিন্তায় সব সময় বুদ্ হয়ে থাকতাম।  আসলে আমি খুব কাজ করতে পছন্দ করতাম। কাজ না থাকলে বা না করতে পারলে মনে হতো জীবন থেকে কিছু একটা হারিয়ে যাচ্ছে।

গ্রিন্ডলেইসে আমার রিপোর্টিং বস ফরেনার ছিলেন। উনার নাম রবিন বাসরো। আমি উনার কাছ থেকেও যে কত কিছু শিখেছি তার কোনো ইয়ত্তা নেই। একবার, আমি আমার বসের সাথে গুলশানে নেদারল্যান্ডের এম্বেসিতে গিয়েছিলাম মার্কেটিং এর কাজের জন্যে। আমি তখন পকেটে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি এবং সেভাবেই কথা বলছি। তিনি তখন আমাকে বললেন, “বাবারে, পকেটে হাত দিয়ে কারো সাথে করমর্দন করো না।” অর্থাৎ এই ছোট ব্যাপারটাও আমি শিখেছি একটু একটু করে। তবে সবচেয়ে বড় যে ব্যাপারটা ফরেনারদের মধ্যে দেখেছি, সেটা হলো “পারফর্মেন্স”।

আমি একজন গ্রামের ছেলে। আমি চট্টগ্রামের পোটিয়াতে মানুষ হয়েছি এবং ইংরেজী মাধ্যমের একটি স্কুলে পড়াশুনা করেছি । গ্রামের ছেলে হওয়া সত্ত্বেও আমার জীবনের একটি চ্যালেঞ্জ ছিল কিভাবে অন্যদের মত আমি উঠতে পারি।

তারপর যখন পুরা প্রসেস চলছিল, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক টেক ওভার করছিলো, আমি আমার কয়েকজন বন্ধু বান্ধব মিলে চলে আসলাম প্রাইভেট ব্যাংকে, চলে গেলাম ইস্টার্ন ব্যাংকে। ঐখানে আমি চিফ অপারেটিং অফিসার হিসেবে কাজ করেছিলাম।এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে, ৪ বছর কাজ করেছি।

৪ বছর কাজ করলাম সেখানে। তারপর আমি চলে গেলাম এবি ব্যাংকে।  ওখানে আমি বিভিন্ন প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু করলাম। ওখানে আমি জয়েন করলাম  এসভিপি এবং চিফ অপারেটিং অফিসার হিসেবে। বিশেষ করে আইটি প্রজেক্ট গুলা আমি দেখতাম। আমি ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রকল্প পরিচালকও ছিলাম।  ওখানে প্রায় ২.৫ বছরের মতো কাজ করলাম, তারপর চলে গেলাম প্রাইম ব্যাংকে।   ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে সেখানে জয়েন করি। ঐখানেও প্রায় ১৮ মাস কাজ করেছি।

ফিনটেক: প্রাইম ব্যংকে তো টেমেনোস ছিল, ওখানেও কি আপনি প্রজেক্ট এর সাথে জড়িত ছিলেন? 

আরকিউএম ফোরকান: প্রাইম ব্যাংকের টেমিনাস ফিচার সবেমাত্র সব রেডি করে যাচ্ছে। যেহেতু আমি ডিএমডি, আমার দায়িত্ব ছিল, আইটি প্রজেক্ট এর উপর ….

ফিনটেক: আপনার মতো খুব কম মানুষই কিন্তু আছে যারা বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করেন একই সাথে। আপনি বাংলাদেশের তিনটা পাওয়ার সেক্টরেই একই সাথে কাজ করেছেন…..

আরকিউএম ফোরকান: আমরা যেখানে কাজ করতাম, আমাদের ইন হাউস যেটা আমাদের হেড অফিস থেকে ড্রিভেন ছিল। কিন্তু সেখানে আমাদের, নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে হতো। কিন্তু আমি যাওয়ার পর, সত্যি কথা বলতে কি, সব কাজ আমাকে করতে হয়েছিল। সেখানে তখন এমডি ছিল মাহমুদ সাত্তার সাহেব। তখন আমাকে পুরোটাই করতে হয়েছিল, বিজনেস রিকোয়ারমেন্ট ঠিক করতে হয়েছিল, কোন সফটওয়্যার নিবো, আমাদের রিজেক্ট করছে কিনা, কাস্টমের কি চায়, এমপ্লয়ীদের কি অবস্থা- তা সব বুঝে শুনে, প্রায় ২০/২২ টা ডেমো দেখেছিলাম।  দেশি এবং বিদেশী গুলো দেখেছিলাম এমন কি  অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছিলো যারা আমার একসময় গ্রিন্ডলেস ব্যাংকেও সফটওয়্যার দিয়েছিলো।  “বাঁঞ্চ ২৪” নামে একটা সফটওয়্যার ছিল, সিডনি থেকে সেগুলো আসতো। মুশকিল ছিল যে, একটা কারণেআমরা সেভাবে কাজ করতে পারি নি, ওদের ইম্প্লিমেন্টেশান কস্ট খুব বেশি ছিল, সফটওয়্যার এর চাইতেও। ১২০০ ডলার ডেইলি, আমার যতদূর মনে পরে, আলাউন্স দেয়ার কথা ছিল।  কিন্তু করতে পারি নি। তো সেখানে আমরা অবশেষে গিয়ে ইনফোসিস মানে ফিনাকেল, দেন …. বিপিএস একাউন্ট।  তো যাই হোক, আমরা ফ্লেস্কু ব্রিফ করলাম।  তো এটার একটা সুন্দর গাইড লাইন ছিল।  প্রত্যেকটা মডিউলের ব্রিফ একটা সূচি ছিল।  আপনি বলতে পারেন কোনটা নেবেন কোনটা নেবেন না, আমি চুজ করে, বসে বসে করেছিলাম। আমি আগে ম্যানেজমেন্ট টিম ঠিক করেছিলাম। কারা কি করবে।  দুটো মডিউল ছিল।  একটা কর্পোরেট আরেকটা রিটেইল।  ৩/৪ টা সফটওয়্যার ছিল, ওই পিসি ব্যাংক থেকে শুরু করে….. আরো কি ওয়ান টু থ্রি দিয়ে ছিল একটা নাম….. অনেক ধরণের সফটওয়্যার ছিল, সবগুলো রিকন্সিলিয়েশন করে একটা জায়গায় নিয়ে আসা কি কষ্টকর ছিল – তাইলে বুঝেন।  তো আমি আসলে টেকনোলজির “টি” ও আসলে বুঝি না।  আমি শুধু বিজনেস বুঝি।  আমি চাই শুধু আমার কাস্টমার স্যাটিসফেকশান, এটাকে আপনাদের ট্রান্সফর্ম  করতে হবে। কনভার্ট করতে হবে ইন টেকনোলজি। সো ওয়ার্ক করতো আমার ছেলে পেলে গুলো, আইটি হেড রা করতো, আমার সাথে বসতো, প্রত্যেক সপ্তাহে আমি আবার টিম নিয়ে মিটিং এ বসতাম।  হ্যা, আমি দেখতাম যে, হ্যা ক্ষুব্ধ করেছে।  ইউএটি করতাম , এটা স্যাটিস্ফেকশন।  প্রত্যেকটি নেগেটিভ নেগেটিভ দিয়ে ইউএটি করতাম। আমার কাছে এখনো আছে রেকর্ডগুলো  – আমি ইউএটি গুলো কি করেছি।  আমি অবশ্যই বলবো, আমার সেখানে উপভোগ্য সময় কেটেছে।

তো যেটা বলছিলাম, ২০০৫ এ বোধহয় চলে গেছি এবি ব্যাংকে। এই ব্যাংক থেকে চলে যাওয়ার পর গেলাম প্রাইম-এ।  প্রাইমেও ভালো কাজ করেছি।  তো ওখানে, মাঝখানে আমি জয়েন করার ২/৩ মাস পর  আমাদের অনেকেই হজ্জে চলে গিয়েছিলেন। আমি একাই সেখানে এক্টিং ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে ছিলাম।  তো বোঝেন নতুন ব্যাংকে গেলাম, নতুন সিস্টেম। তারপরেও করেছি, স্যাটিস্ফেকশন আল্লাহর রহমতে।

তারপর চলে গেলাম প্রাইম বাদ দিয়ে, মাঝখানে কিছু একটা নিজে আলাদা কিছু করতে চেয়েছিলাম, যা আর পরে করে উঠতে পারি নি। অবশেষে চলে গেলাম এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকে। এনআরবি ব্যাংকের বিচিত্র একটা অভিজ্ঞতা।  কারণ নতুন ব্যাংক !!!! আমি সেট করছিলাম। তো নতুন ব্যাংক সেট করে এক্সপেরিয়েন্স টা একটা আলাদা জিনিস। কঠিন ব্যাপার। ব্যাংকের একাউন্টিং এক্সপান্ডেড, একাউন্টিং প্রসেসেস, ম্যানুয়াল প্রসেসেস, ঠিক করা। সার্ভিস রুম থেকে শুরু করে  সব ঠিক করা, কাস্টমার রিলেশনশিপ এস্টাব্লিশ করা, ফরেন ট্রেড করার জন্য নষ্ট একাউন্ট ক্রিয়েট করে বিদেশী ব্যাংকের সাথে করা – কঠিন ব্যাপার ছিল।  প্রতিটি পদে পদে এপ্রুভালের  এটা লাগতো, এটা লাগতো – করেছি।  আপনারা দেখছেন আজকে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক কোথায় গেলো ! ওখানেও প্রায় ৩ বছর কাজ করেছি। চলে আসলাম এখানে।

লাস্ট ইয়ার অক্টোবরে এখানে এসছি। এখন পর্যন্ত চলছি।  তো এখানে এসে দেখলাম, এই ব্যাংকের নেগেটিভ একটা পার্সেপশন কাজ করে হয়তো যারা বাইরে অন্যান্য জায়গায় আছে, আপনারা জানেন।  কিছু কিছু কাস্টমার, কিছু কিছু …..  ইউ নো, আমাদের কাস্টমারদের সাথে কিছু দিন সম্পর্কটা ভালো যায় নি। তো আমি ত্রূটিগুলো দেখতে লাগলাম, এবং চেষ্টা করেছি কিভাবে সেগুলো মুছে ফেলা যায়। আল্লাহর রহমতে আমি অনেক দূর এগিয়ে যাই। অনেক কাস্টমারদের আনতে পেরেছি, কথা বলতে পেরেছি, আর তারাও ফিরে আসতে পেরে আনন্দিত ছিল। আমি কাস্টমারদের ডেকে এনেছি। আজকেও কাস্টমারদের সাথে মিট করলাম যারা ভ্যালুড কাস্টমার।

ইন্ডাস্ট্রিতে বলতে গেলে প্রায় ৪০ বছর ধরেই আছি। আমি ওই ব্যাংকের কাস্টোমারদেরকেও চিনি, এই ব্যাংকের কাস্টোমারদেরকেও চিনি। তো চেনা জানার ব্যাপারটা ইম্পরট্যান্ট না। তবে লোকাল ব্যাংকের একটা ভালো দিক আছে – এটা সবারই এপ্রিসিয়েট করা উচিত।

লোকাল ব্যাংকে, বিদেশী ব্যাংকগুলা কিন্তু একটা জায়গায় আপনাকে স্পেশালাইজড করে ফেলে – জয়েন করলাম কর্পোরেট ব্যাংকে, তো থাকলাম কর্পোরেট ব্যাংকে। লাইফ লং হয়তো ওখানেই। কিন্তু আমাদের লোকাল ব্যাংক গুলাতে আমি দেখেছি, আপনি জয়েন করলে কিন্তু একটা জায়গায় থাকেন না। আপনাকে ঘুরতেই হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকেও একটা নিয়ম আছে কিন্তু, একই জায়গায় আপনাকে ৩ বছরের বেশি রাখা হবে না। সেটাও কিন্তু লোকাল ব্যাংকে বেশি করে চলে। তো সেই সুযোগ টা আমি পেয়েছি এখানে কাজ করাতে।

আর আমার মিড্ রেংকিং অফিসাররা বেশ তুখোড় ছিল। যাদের কে কিছুই বলা লাগে না।  তারা এভরিথিং করে ফেলে খুব ভালো মতো।  কিন্তু আমি ওদেরকে একটু মোটিভেট করছি, আর সিনিয়ার লেভেলে যারা আছে তাদের এক্সপেরিয়েন্স গুলো, বিবেচনা করেছি, বিবেচনায় রেখেছি। দেখি…. বাংলাদেশ ব্যাংকের যথেষ্ট সহযোগিতা পাই, এবং আমি ফোন করলেও অনেক সলুশন পেয়ে যাই।  যে কোনো এপপ্স এর কথা বলেন, কিংবা কোনো সফটওয়্যার এর ব্যাপার – আমি সবার কোঅপারেশন পাই।  আমার মনে হয়, আল্লাহর রহমতে এই ব্যাংক উঠে আসতে আর বেশি দেরি নাই।

আমরা কিন্তু বিদেশী টেকনোলজি সিস্টেম এ চলি। আমরা ডিস্ট্রিবিউটেড চ্যানেল নিয়ে কাজ করি কিন্তু এই ডিস্ট্রিবিউশনের জন্যে আমার অনেক দায়িত্ব, অনেক কাজ আছে। আমি যেই মেন্টালিটি নিয়ে কাজ করছি  যে আমি কোনো বেনিফিট দেখছি কিনা। আপনি যদি সেন্ট্রালাইজেশন ইনভাইরোনমেন্টের মধ্যে কাজ করতে পারেন – সেটাতে যে কি বেনিফিট হয়, এটা অনেক সময় অনেক কে বোঝানো যায় না। ওরা ভয় পায়।  ওরা ভাবে যে ব্যাংক সেন্ট্রালাইজ করে দিলে অথরিটি চলে যায়। কিন্তু সেটা, সেটা তারা বুঝতে পারে না যে তাদের বেনিফিট টা কি হয়। এটাতে আপনার ব্যাংকের প্রসেস ঠিক থাকছে, সেন্টার ঠিক থাকছে, এমন কি কোনো জায়গায় কোনো দুর্নীতি ফুর্নীতি করার কোনো স্কোপ থাকে না।

তো এখন দেখি, কি করতে পারি।  লোকজনদের আমি বুস্ট আপ করছি, আমি কয়েকটা প্রোডাক্ট চালু করেছি রিটেইলারদের জন্যে।  একটা মিটিং ছিল গতকাল, তো দেখি তাদের নিয়ে কোনো ফাইন্যান্স করা যায় কিনা একোয়া এর কাজ গুলো দিয়ে।  ওই যে চিংড়ি আছে না – সেটা আর কি।  তো আমরা কাজ করে যাচ্ছি।  এমন কি কোনো কাস্টমার যদি আল্লাহ না করুক, কোনো বিপদে পরে যায়, আমরা সোহো বিপদে পরে যাবো।  আমাদের এখানে কর্পোরেট আছে, রিটেইল আছে – এসএমই নাম একটা সেগমেন্ট আছে আমাদের এখানে এবং লোকজন যদি আন্তরিক হতে পারে, আমি অবশ্যই ব্যাঙ্কটাকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারবো।

ফিনটেক: স্যার একটা প্রশ্ন, আপনার ক্যারিয়ারে, আপনার ওই বয়সে এরকম কারেজ থাকার কথা না কিন্তু, খুব কম মানুষের মধ্যে এটা পাওয়া যায় যে, হুট্ করে কেউ জিজ্ঞেস করলো যে চাকরি করতে গেলে কি করতে হবে – এরকম ডেসপারেট কিন্তু সবসময় পাওয়া যায় না।  আপনি, বোঝাই যাচ্ছে, খুব ডেসপারেট, এবং সহজেই বলে দিয়ে এসেছেন, “আমি তোমাকে রিপ্লেস করতে চাই”। আপনি ঐখানে ফরেন ব্যাংকে গিয়ে সাকসেস পেলেন , আপনি মুহূর্তের মধ্যে অল্প কিছুদিনের মধ্যে আপনার বসকে আকৃষ্ট করতে পারলেন, তাদের এট্ট্রাকশন গুলা নিতে পারলেন – তো  নিশ্চয় এটা এমনি এমনি হয় নি – অনেক কষ্ট করতে হয়েছে  এই জিনিস গুলা কি কিছু মনে আছে ?   

আরকিউএম ফোরকান: আমি আসলে বলি, হ্যা আপনি ঠিকই বলেছেন, আসলে ওদের সিস্টেম টা এতো সুন্দর –  বস আপনাকে কি হেল্প করলো না করলো – তার বাইরেও একটা সিস্টেমিক গাইডলাইনে আছে, ডকুমেন্ট একটা গাইডলাইন্স পেতেন।  আপনি একটা চেক কাউন্টারে এনক্যাশ করবেন, সেটা করতে গেলে কি করবেন? লোকটার সিগনেচার দেখবেন, চেক সিরিজ মেলাবেন, কালার দেখবেন, ওয়ার্ডস এন্ড ফিগার্স মেলাবেন, এই প্রত্যেকটা কথাই ঐখানে লেখা আছে। তো ওগুলা যদি আপনি পড়েন, আপনার আইডিয়া গুলো পুরা ক্লিয়ার হয়ে যাবে। আমাদের বেসিক ট্রেনিং দেয়া হতো।  ফ্রিকোয়েন্ট ট্রেনিং দেয়া হতো।  তো ট্রেনিং গুলো আমাদের যথেষ্ট কাজে আসতো।  তো আমরা ঐখানে বাঙালিরাই বেশি ছিলাম, বিদেশিরা তো ১০/১২ জন হবে।  তো ওদের দেখতাম, টাইম টু টাইম অফিস এ এসে নিজেদের মধ্যে কথা বলছে, আমাদের দেখলে হেলো বলে চলে যেত।  তো আমি ভাবতাম, আড়ি বাপরে বাপ্, কি সুন্দর করে তারা ইংরেজি বলে !!! তাই আমি ভাবতাম আমি কিভাবে তাদের মতো হবো? কিভাবে তাদের মতো শিখতে পারবো?  তো মনে হয় কিছুটা কাজে দিয়েছে, জানি না পেরেছি কিনা বাট চালিয়ে যেতে পারি মনে হয়। একটা মোটো কাজ করতো সবসময় যে কাস্টমার সেবাটাই প্রধান। সেখানে তাইই ছিল। এমনকি তারা আমাদের শিখিয়েছে কি করা উচিৎ, কি করা উচিৎ নয়।   ওই যে বললাম, কিভাবে কথা বলতে হবে, কিভাবে ফোন ধরতে হবে, বিহেভিয়ার কেমন হবে – সব শিখিয়ে দিতো। নর্মস, রুলস, প্রসেসেস – আমি বলতে পারি যে  আমি সেখান থেকে সবকিছুই শিখেছি।

১৯৯২ সালের দিকের একটা কথা বলতে পারি, আমি কাওরান বাজার ব্রাঞ্চ এর ম্যানেজার হয়েছিলাম। আমার সাথে অনেকেই তো ছিল ব্যাংকের মধ্যে। তখন কান্ট্রি অপারেশনাল ছিলেন, আমার মনে পরে, মোহাম্মদ আলী রুমি, বস ছিলেন মি. এলেন কুপার। এলেন কুপার একজন ভদ্রলোক যিনি, আমার মনে পরে, প্রত্যেকটা কাজে হ্যান্ডস অন হেল্প করতেন। আম গ্রেটফুল। আমি এই নাম টা যদি নাই বলি, তাহলে জাস্টিস করা হবে না।  এলেন কুপার, উনি কিন্তু বাংলাদেশে দ্বিতীয় প্রধান হিসেবে এসেছিলেন।  দুই তিন বছর পর কান্ট্রি হেড পরিবর্তন হলো। তো এলেন কুপার, উনি যে জিএম ছিলেন, ওগুলো বুঝা যেত না।  বললাম না, টিম ওয়ার্ক আর ঘনিষ্টতা যে ছিল, মানে ফ্রেন্ডলি যে কাজ করতো, এলেন কুপারের অভ্যাস ছিল – সিগারেট খেত। আইসা প্রথমে সিগারেট ধরাইতো, তারপর দুই একটা পাফ দিয়া ফেলে দিতো। চেইন স্মোকার ছিল। আমার মনে পরে, ৮২ তে মার্চ মাসে আমি কাওরান বাজার গিয়েছিলাম – তখন সাহেদ নোমান ছিল ম্যানেজার।  আমাকে বললো, শাব, মানে বাংলা ইংরেজি মিলিয়ে: “শাব, সম্মান, তোমাকে পাঠালাম – দেখো।” কথাটা এরকম ছিল। বিশ্বাস করেন, প্রথম মাসেই প্রফিট আমি ৩০০% বেশি করেছিলাম। আমাকে, আমার সেক্রেটারি, বেঁচে আছেন কিনা জানি না, ড্রেইন বলে একজন মহিলা, বলেছিলো, “তুমি থেকো- সাহেব লাঞ্চ করবে। একসাথে যাবো।” এলেন কুপার যেদিন জিএম হলেন, সেদিনই  প্রথম প্রমোশন আমি পেয়েছিলাম। আমাকে এক কথায় খুব ভালোবাসতেন। তিনি এলেন এবং বললেন, “আমি জিএম হিসেবে আমি সই এবং বললেন, “হিয়ার ইজ ইউর প্রমোশন লেটার “।  যদিও আমি জুনিয়ার হিসেবে জয়েন করেছিলাম, আমি অনেক সিনিয়ারদেরকেও সাহায্য করেছিলাম মানে তাদের কাজে কর্মে কিভাবে কি করা উচিৎ- সেটাতে সহযোগিতা করতাম। আমি কেমন, আমি কিভাবে কাজ করতাম – সবাই জানে।  আজকে যারাই যত উপরে থাকুক না কেন, সবাই আমার কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। আমার ফ্রেন্ডশিপ ছিল। হয়তো আরো আগে আসা উচিত ছিল, সময় সুযোগ হয়ে ওঠে নি। বাট আমি একটা জিনিস দেখেছি- কোনো খাতির টাতীর নাই ভাই, কাজ করবেন, রিওয়ার্ড পাবেন।

ফিনটেক: স্যার, আপনি একটা জিনিস চিন্তা করে দেখবেন আপনার কাস্টমারের ক্ষেত্রে, এরা অনেকেই চেক কিভাবে লিখতে হয় সেটাও জানে না। এই যে আপনি বললেন কাস্টমার সার্ভিস এর কথা। নেক্সট জেনারেশন কাস্টমার তো এরাও একদিন হবে, এদেরকে কাস্টমার করার জন্য, সার্ভিস দেয়ার জন্য আপনি কি চিন্তা করতেসেন ?         

আরকিউএম ফোরকান: এখন কি জানেন, টেকনোলজির যুগ। প্রযুক্তি আপনার সার্ভিসকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এটা মনে রাখতেই হবে। আমরা যখন কাজ শুরু করি, ৭০ বা ৮০-র দশকের দিকে, তখন কাস্টমাররা ব্যাংকে আসতো ঠিকই, কিন্তু তখনও আমরা মার্কেটিং এ যেতাম, কাস্টমার কল এ যেতাম, ওদের নীডস গুলো বুঝতাম, পরে আবার নীড সাপ্লাই দিতাম, যে যেমন চায়। এবং এটা কাস্টমাইজ করে যেভাবে হোক করতাম। কিন্তু এখন সবকিছুই প্রযুক্তির কল্যানে সহজ হয়ে গিয়েছে।  এখন মোবাইল একটা ব্যবসা।  এখন মোবাইল হাতে আছে, স্মার্টফন হাতে – সো ব্যাংক এখন তার হাতের মুঠোয়। এখন বাংলাদেশ ব্যাংক, হ্যা,  বাংলাদেশ ব্যাংকও এই ক্ষেত্রে এখন পিছিয়ে নেই। এটাকে কিন্তু এখন যুগোপযোগী পদক্ষেপ বলা যায়। প্রত্যেক ব্যাংকে কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এপ্রুভ দিয়েছে, কিন্তু কেউ ইমপ্লিমেন্ট করতে পারে নাই – আমরা কিন্তু চেষ্টা করতেসি।   ইনশাআল্লাহ পারবো।

আসলে ব্যাপারটা কি জানেন, শুধু এজেন্ট ব্যাংকিং করে তো লাভ ও হবে না।  বাংলাদেশে গ্রামে শহরে অনেক ব্যাংক থাকবে, অনেক ব্রাঞ্চ খুলবেই।  তো আপনি প্রযুক্তির ব্যবহার না করলে টিক্তেও পারবেন না।  তো আমাদের কাজ কি ? সিইও বলেন বা হেড অভ আইটি বলেন, তাদের ডেফিনিটলি কো- অ্যাক্টিভলি চিন্তা করতে হবে, যাতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কিছু একটা করা যায়। গটবাধা  চিন্তা করলে হবে না।  আগেকার মানুষদের আসতে হতো, যেহেতু তাদের টেকনোলজির ব্যবহার ছিল না। এখন কাস্টমার আপনার কাছে আর আসতে হয় না, কাস্টমার ঘরে বসেই কাজ চালিয়ে নিবে।

আমরাও চেষ্টা করছি। একটু গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। আমি চাই যে কোথাও যেন অপূর্ণতা না থাকে। সুতরাং, কন্ট্রোল যদি আপনি ঠিক মতো করতে পারেন, তাহলে সব কিছুই সুন্দর মতো এগিয়ে যাবে।

ফিনটেক: এটা এখন কিছুটা বাজারে, আমরা মার্কেটিং এ দেখছি, আছে এটা, বুঝি কোন ব্যাংকে কিভাবে আছে, আপনি যে এখানে আসার পর, আপনি যে হাউস কিপিং টা করছেন সেটা বাইরে বোধয় আছে। আসতে আসতে করে একটা শেইপে নিচ্ছে ।     

আরকিউএম ফোরকান: এটার ব্যাপারটা কি আমি যদি আমার একটা পুরা গ্রুপ নিয়ে আসতে পারতাম, তাহলে আরো ভালো করতে পারতাম। কারণ আমি ব্যাংকে কাজ করতে করতে আমি চিনি তো। স্বজন প্রীতি আমার কাছে নাই।  মানে অমুক অঞ্চলের লোক আসতে হবে, ওই অঞ্চলের লোক হলে ভালো হয় – এসব আমার কাছে প্রায়রিটি পায় না।  আমার দরকার দায়িত্বশীল কাজের মানুষ। কারণ কাজটাই আমার কাছে প্রধান।  এরকম কিছু গরূপ আন্তে পারলে আমি মনে হয় কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতাম।  কিন্তু বিভিন্ন ব্যাংকের পে স্ট্রাকচার, এই স্ট্রাকচার – ডিফারেন্স তো আছেই। তো সেগুলো ঠিক করে নিয়ে  একটা সাপোর্টিং বোর্ড পেয়েছি। আজকে পর্যন্ত আমার বোর্ড আমার কোনো কাজে ইন্টারফেয়ার করে নি, ডিফার করে নি।  এবং এই সাপোর্ট টা, আশা করি সবসময় থাকবে।

ফিনটেক: মানে ওনারশিপ টা থাকলে কাজ হবে। যদি তারা ওনারশিপ নিয়ে কাজ করতে পারে সফল তারা হবেই।

আরকিউএম ফোরকান: আমাদের এখানে ভ্যারিয়াস টাইপ্স অভ লোক আছে। কেউ আছে সোনালী ব্যাংকের, কেউ আছে কি বলে আর দুই একটা প্রাইভেট ব্যাংকের আছে, ঢাকা ব্যাংকের লোক আছে, অগ্রণী ব্যাংকের লোক আছে, সব ব্যাংকের লোক আছে তো।  তো সবাইকে আমি একটা জায়গায়   নিয়ে এসে অনুপ্রেরণা দিতে চাই। একই ছাদের নিচে নিয়ে আসতে চাই। ওই যে অ্যালেন কুপারের কথা বললাম, নিজে কোনো কিছু চাপিয়ে দিতো না, সবাইকে এক এক করে জিজ্ঞেস করতেন, জানতে চাইতেন এবং যেটা বেটার হতো, ঐটা নিতো।

আমি ঠিক সেভাবে চলতে চেষ্টা করি। আমার সিনিয়ার যারা আছেন, উপরের লেভেল এ যারা আছেন তাদের সাথে আলাপ করি।  আপনি কি মনে করেন? আপনি কিভাবে করতে চান? মানে একটা মিথস্ক্রিয়ার মধ্যে আমরা কাজ করি। কারণ এতে হয় কি – কারও মনে দুঃখ কষ্ট থাকে না, কারও মধ্যে হিংসা বিদ্বেষ তৈরী হয় না। আমারটা তো আমি ঠিকই করবো কিন্তু আমি ওদেরও সুযোগ দেই কথা বলার জন্য আর আপনি দেখুন, আমার এখানে যে কোনো কর্মকর্তা প্রবেশের অধিকার রাখে।   আল্লাহর রহমতে আমরা আরো ১০ টা ব্র্যাঞ্চ ওপেন করবো বাই নেক্সট ইয়ার। তাই সবাইকে সুযোগ দিতে চাই যেন একসাথে আমরা এগিয়ে যেতে পারি।

যাই হোক, ওভারঅল আমি বেশ আছি এবং আমার কাজ উপভোগ করছি। একটা ব্যাপার আছে, ৬৫ বছরের পর তো আর ব্যাংকে থাকা যায় না। তো আমার ও তো বেশি সময় নাই। দেখা যাক কি হয়। এই কয়েক বছরের মধ্যে, নিশ্চয়ই ভালো কিছু করেই অবসর নেবো।

ফিনটেক: আপনি আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবেন, এটাই প্রত্যাশা। আর আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। 

আরকিউএম ফোরকান: আমার খুব ভালোলেগেছে আপনাদের সাথে কথা বলে। আপনাদের এবং ফিনটেক পরিবারকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি ।

মন্তব্য করুন

Top