‘পূর্বের এয়ারলাইনসের ব্যর্থতা থেকে ইউএস-বাংলা দীক্ষা নিয়ে সফলতার পথে এগিয়ে চলেছে’ - ফিনটেক বাংলা
You are here
Home > ইন্টারভিউ > ‘পূর্বের এয়ারলাইনসের ব্যর্থতা থেকে ইউএস-বাংলা দীক্ষা নিয়ে সফলতার পথে এগিয়ে চলেছে’

‘পূর্বের এয়ারলাইনসের ব্যর্থতা থেকে ইউএস-বাংলা দীক্ষা নিয়ে সফলতার পথে এগিয়ে চলেছে’

শাহ জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (এস ইউ এস টি ) থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর সমাপ্ত করার পর ১৯৯৮ সালে জিএমজি এয়ারলাইন্সের বিপণন ও পিআর এর সহকারী পরিচালক হিসেবে কামরুল ইসলাম তার কর্মজীবন শুরু করেন। প্রায় সাত বছর সেখানে কাজ করার পর তিনি এয়ার লাইনসে কাজ শুরু করেন। উইন্ড মিল এডভার্টাইজিঙে অল্প সময়ের জন্য কাজ করেন এবং দৈনিক যায় যায় দিনেও কিছুদিন কাজ করেছেন। ২০০৭ সালে তিনি এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিতে ফিরে আসেন এবং ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ-এ ডিজিএম অফ মার্কেটিং সাপোর্ট এবং পিআর হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৫ সালে, তিনি একইভাবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে যোগদান করেন। ২০১৭ সালে তাকে এয়ারলাইন্সে বিপণন সহায়তা এবং পিআর এর জিএম পদে নিযুক্ত করা হয় ।

বাংলাদেশ এভিয়েশন শিল্পে, গত কয়েক বছরে মার্কিন বাংলা একটি বিশ্বস্ত নাম হয়ে উঠেছে। এয়ারলাইনস গ্রাহকদের জন্য নিখুঁত সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে সঞ্চারিত হয়েছিল- এমন কিছু যা বাংলাদেশের স্থানীয় এয়ারলাইনসের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত নয়- কিন্তু  বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ড তৈরি করার জন্য যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে।

মাত্র তিন বছর হলো ইউএস বাংলা যাত্রা শুরু করেছে এবং এই কয়েক বছরের মধ্যে ৮ টি লোকাল এবং ৭ টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট করেছে। এই সফল যাত্রায় কামরুল ইসলাম ও একজন সফল মানুষ। ফিনটেক তার বারিধারার অফিসে গিয়েছিলো এবং তার সাথে কথা বলে ইউএস বাংলার পেছনের সফলতার গল্প জানা গেলো।

ফিনটেক: আপনি ক্যারিয়ার কবে শুরু করেছেন? ক্যারিয়ার থেকে এই যে আজকে ইউএস বাংলার এই পজিশনে যে এসেছেন- সেটার পুরো জার্নিটা যদি সংক্ষেপে একটু বলেন।

কামরুল ইসলাম: আমার ক্যারিয়ার শুরু এয়ারলাইন্সে। এয়ারলাইন এ আমার ক্যারিয়ার শুরু হয় ১লা ডিসেম্বর, ১৯৯৮। প্রায় ১৯ বছর। এই ট্রেডে অনেক দিন ধরে আছি। বাংলাদেশ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। যেহেতু শুরু থেকে আমি পাবলিক রিলেশনে কাজ করছি, আমার অনেক লেখায়, আমার অনেক কথায়, কাজে, ম্যানেজমেন্টের অনেক কাছে থেকে, অথরিটি, মিনিস্ট্রি – সবার একটিভিটিস এর সাথে জড়িত থাকার জন্য এই ট্রেডে থাকার আমার সুযোগ হয়েছে।  এতো বেশি কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে এই ট্রেড কে যে এর উত্থান পতন, এগিয়ে যাওয়া থেকে সব কিছু আমার নখদর্পনে।  আসলে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এভিয়েশন এগিয়ে যাচ্ছে, মোটামুটি।

ফিনটেক: আপনি কোন এয়ারলাইন্স থেকে আপনার ক্যারিয়ার জীবন শুরু করেন ?

কামরুল ইসলাম: আমার যাত্রা শুরু হয় জিএমজি এয়ারলাইন্স থেকে। সেখানে জুনিয়ার অফিসার হিসেবে যোগদান করি এবং ৭ বছরের মত কাজ করেছি।  তারপর জিএমজি থেকে আমি চলে যাই দৈনিক যায় যায় দিনে। ২০০৫ এর ডিসেম্বর এ ওখানে সুইচ করি।  তারপর ২০০৭,  ওখানেই ইউনাইটেড এয়ারওয়েজে আমার কাজ করার সুযোগ হয়ে যায় ।  ২০১৫ এর অক্টোবরে, আমি ইউএস বাংলায় জয়েন করি। ২ বছর হয়ে গেলো।  বলতে গেলে প্রাইভেট এয়ারলাইনসের যাত্রা যখন থেকে শুরু আমার যাত্রা এয়ারলাইন্স এর সাথে তখন থেকেই শুরু। আমার এক্টিভিটিসও এভিয়েশানে ততদিন ধরে থাকা আর কি।   দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রাইভেট এয়ারলাইন্স একটা জিরো-জিরো অবস্থানে ছিল।  পিআরের কাজ করার জন্য যেটা হয়েছে, অন্যান্য এয়ারলাইন্স গুলোকে একটা তুলনার মধ্যে রেকে কাজ করতে হয়েছে।

তো এরাবিয়ান এয়ারলাইন্স, বাংলাদেশের ফার্স্ট এয়ারলাইন্স, এটা ১৯৯৭ এর কথা। আর জিএমজির যাত্রা শুরু কিন্তু ১৯৯৮ এর এপ্রিলে।  বেসিক্যালি বাংলাদেশের এয়ারলাইন্স গুলো ওই সমস্ত এয়ারলাইন্স কে ফলো করেই শুরু, কিন্তু আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, ওরা বিজনেস বুঝে ওঠার আগেই শুরু করেছিল।  কারণ একটা এয়ারলাইন্স যখন যাত্রা শুরু করে, শুধু প্লেন কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না।  একটা প্ল্যানের ব্যাপার আছে, টেকনিক্যাল দিক আছে, প্রপার ট্রেনিং এর ব্যাপার আছে – আর এসব একটা টোটাল প্ল্যানিংয়ের মধ্যে নিয়ে আস্তে না পারলে, এয়ারলাইন্স আসলে বন্ধ করে দেয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

ফিনটেক: অন দ্যাট নোট, আপনি জিএমজিতে কাজ করেছেন এবং ইউনাইটেডে কাজ করেছেন। এই দুটো এয়ারলাইন্স এখন আর নেই, কেন?

কামরুল ইসলাম: এটা দুঃখজনক। জিএমজি এয়ারলাইন্স ১৪ বছর পরিচালনার পরে তারা বন্ধ করে দিয়েছে। ১৯৯৮ বা ১৯৯৯, যখন শুরুর দিকে, তখন এটা এত বেশি স্ট্যান্ডার্ড মনে হয়েছিল, একটা স্ট্যান্ডার্ড লেভেলে যে স্ট্যান্ডার্ড টা থাকা উচিত ছিল, সেই পর্যায়ে কিন্তু ছিল।  বন্ধ হয়ে যাওয়াটা আসলে দুঃখজনক, সত্যি। আমার দৃষ্টিতে যেটা মনে হয়, কিছু ভুল ডিসিশন, রুট চয়েস, এয়ার ট্র্যাক চয়েস – এটা একটা বড় ফ্যাক্ট আমি বলবো বন্ধ হওয়ার পেছনে।

ফিনটেক: জিএমজির কি কি ছিল ?

কামরুল ইসলাম:  এমডি ৮২, ৭৪৭।  কিন্তু এটার  অপারেশনাল কস্ট এ একটা প্রব্লেম ছিল।  এবং আমার মনে হয়, যেই এসেসমেন্ট টা ছিল, সেটাতে সমস্যা ছিল।  আপনি খেয়াল করে দেখবেন, কোনো কোম্পানি যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সেটা জিরো না, মাইনাসে চলে যায়। বেসিক্যালি এটাই হয়েছে। অনেক লায়াবিলিটিজ নিয়েই আপনাকে বন্ধ করতে হয়েছে। ইভেন আমি এমন দেখেছি, অথরিটি তাদের কাছে অনেক টাকা পায়।  আমি যখন ইউনাইটেড-এ ছিলাম, তাদের অনেক সমস্যা ছিল। তো এই সমস্যা যদি আপনি প্রপারলি ক্যালকুলেট না করতে পারেন, আপনি ডেফিনিটলি ফেইল করবেন এই ট্রেডে। সবচেয়ে বড় জিনিস হচ্ছে রেপুটেশান। আপনার প্যাসেঞ্জের হচ্ছে ফার্স্ট প্রায়োরিটি। এখানে থাকতে হবে ফ্লাইট সেফটি। থাকতে হবে ওয়ান টাইম পারফরমেন্স। এই সমস্ত জিনিসগুলোকে যদি আপনি বিজনেস প্ল্যান ওয়াইজে নিয়ে না আসেন, তাহলে প্যাসেঞ্জের রা প্রব্লেমেটিক এয়ারফ্লাইটে ফ্লাই করবে না। ডিলে কোনো ফ্লাইটে প্যাসেঞ্জার ফ্লাই করবে না।  আপনার টাইম পারফরমেন্স যদি ঠিক মতো না হয়, টাইম শিডিউল যদি প্যাসেঞ্জারের ফ্যামিলিয়ার না হয়, তাহলে প্যাসেঞ্জার হারাবেন।

প্যাসেঞ্জারের চয়েসের উপর বেজ করে বিজনেস প্ল্যান করতে হবে। ফ্লাইট শিডিউলের প্ল্যান টা করতে হবে।  এখানে হয়তো আর্লি মর্নিং ফ্লাইট থাকে।  কিন্তু প্যাসেঞ্জাররা চায় যে তারা ফ্লাই korbe আফটার ৯, আফটার ১০। তাদের এটিচুড এ তো আপনি চাইলেই চেঞ্জ করে নিতে পারবেন না। এই প্রব্লেমগুলো এভিয়েশন এ খুব ইফেক্ট করে বিশেষ করে লং টার্মে।

আমি যদি ইউএস বাংলার কথা বলি, লাস্ট ৩ বছরে আমাদের টাইম পারফরমেন্স ৯৮.৭%. এটা বিশাল একটা ফ্যাক্টর, এভিয়েশন ট্রেডে। কারণ আমি এয়ারপোর্টে কোথাও ফ্লাই করার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা আমি কখনো অপেক্ষা করবো না।  কারণ কারা প্লেনে চড়ে আসলে? যারা ক্যাপাবল। তাই টাইম পারফরমেন্স টা এখানে খুব ভালো হতে হবে।

যেমন ধরেন, আমার ঢাকা থেকে চিটাগং এ যেতে হবে। আমি ফ্লাইট ধরলাম একটা টাইম এ।  ৪০/৪৫ মিনিট লাগে সেখানে পৌঁছাতে। সেখান থেকে আমি যেখানে মিটিং এটেন্ড করার কথা সেখানে যেতে আরো হয়তো ৩৫ মিনিট লাগবে। এখন টাইম যদি ঠিক না থাকে তাহলে আমার মিটিং টাকে ক্যানসেল করতে হবে। তো এটা একটা ডিফিকাল্ট ফ্যাক্ট। ইউএস বাংলা যেই জিনিসগুলো করছে, অনেকগুলো পসিটিভ জিনিস আমি দেখছি, সেগুলো নিয়ে কাজ করছে।

ফিনটেক: ইউএস বাংলা কবে থেকে জার্নি শুরু করেছিল?         

কামরুল ইসলাম:  ১৭ জুলাই, ২০১৪ তে, ইউএস বাংলা ঢাকা-যশোর রান করার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। এবং সেটা ছিল ড্যাশ-৮কিউ ৪০০ এ আর সেটার সিট্ ক্যাপাসিটি ছিল ৭৬। এক বছরের মধ্যে আমরা শুরু করেছিলাম ২ta এয়ারক্রাফট দিয়ে। এবং তার পরপরই আমাদের ৩ নাম্বার এয়ারক্রাফট পরিচালনা শুরু হয়ে গিয়েছে।  আমাদের একটা টার্গেট ছিল, আমাদের এয়ার কানেক্টিভিটিকে একটা খুব ভালো অবস্থায় নিয়ে যাবো, এত লিস্ট, যত গুলো অপারেশনাল এয়ারপোর্ট আছে, সেখানে ইউএস বাংলা ফ্লাইট অপারেট করবে।  এবং সেটা এক বছরের মধ্যে আমরা স্মুথলি অপারেট করছি।

ফিনটেক: আপনাদের লার্জেস্ট ফ্লাইট রুট হচ্ছে ঢাকা-চিটাগং রুট?

কামরুল ইসলাম:  হ্যা, ঢাকা চিটাগংয়ে আমরা ডেইলি ফ্লাইট অপারেট করছি সিক্স ফ্লাইস। ঢাকা যশোরে ডেইলি থ্রী, সৈয়দপুড়ে থ্রি, কক্স’স বাজারে থ্রি, সিলেটে ডেইলি ওয়ান, বরিশালে উইকলি থ্রি ফ্লাইটস,  রাজশাহীতে উইকলি ৪ ফ্লাইটস। খুব শর্টলি, আমাদের একটা প্ল্যান আছে, আমরা যশোর রুটে ৫ta ফ্লাইট করবো। সব গুলোতেই ইচ্ছে আছে ১/২ টা করে বাড়াবো। আপনি যেটা বললেন, সৈয়দপুর খুব বিজি কিনা। নো, নট দিস মোমেন্ট। কারণটা হচ্ছে, ২০০৯।২০১০ এ আমরা দেখতে পেয়েছি, প্যাসেঞ্জার শর্টেজের জন্য ঐসব রুটে এয়ারলাইন্স গুলো ফ্লাইট অপারেট করা বন্ধ করে দিয়েছে।  নাও আ ডেইজ, ডেইলি ৮ ফ্লাইটস, সৈয়দপুর টু ঢাকা মানে ১৬ ফ্লাইটস অপারেট করা হয়, যাওয়া আসা মিলায়ে।  আমরা আরো বাড়ানোর প্ল্যান করছি মোর ড্যান ৮০%. এবং সৈয়দপুরে এটা কাভার করছে রংপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁ, নীলফামারী- একটা বিশাল রিজান।  ঐখান থেকে একটা গ্রূপ যাচ্ছে, নেপাল যাচ্ছে, একটা গ্রূপ বই রোড হয়ে ইন্ডিয়া যাচ্ছে, সৈয়দপুর পর্যন্ত ফ্লাই করছে।  তিনটা ফ্লাইট আমাদের এবং একটা বোয়িং যাচ্ছে ১৬০ সীটের।

ফিনটেক: আচ্ছা, এটা কি এয়ারলাইন্স এর রেটিং এর উপরে ? যেমন ধরেন, ইউএস বাংলা;  এখন তো তিনটা, রিজেন্ট, ইউএস বাংলা আর নভোএয়ার। এটা কি মানে যারা প্রাইভেট শিডিউলিংটা করে তাদের কি বেটার পারফরমেন্স….

কামরুল সাহেব: না, একচুয়েলি ব্যাপারটা হয়ে গেছে কি, আপনার উইন্টার শিডিউল আর সামার শিডিউল, দুইবারই আসলে শিডিউল প্লেস করা।

প্রয়োজন হলে আমাদের শিডিউলের রিচেন্জ করতে হতে পারে। স্পেশাল কেইসে ওরা এটা রিশিডিউল করে থাকে।  এখানে একটা ব্যাপার আছে যে, আমি কক্স’স বাজারে একটা ফ্লাইট অপারেট করবো, নাকি ২ta করবো, সেটাও সিভিল এভিয়েশন, বাট প্রত্যেকটা ফ্লাইট-ই  ডিপেন্ড করে ওয়াচ আওয়ারের উপর।  সিভিল এভিয়েশনের মধ্যেই ওয়াচ আওয়ারটা ক্যালকুলেট করা হয়।  তার মধ্যে আমাকে ফ্লাইট গুলো অপারেট করতে হয়, যদি আমাকে ওয়াচ আওয়ারের পরে অপারেট করতে হয়, তাহলে প্রতি ঘন্টায় ওয়াচ আওয়ারের জন্য একটা চার্জ পে করতে হয়। কারণ অনেকগুলা এজেন্সিকে এখানে ইনভল্ভ থাকতে হয়। এমনকি ডিফেন্সের লোকজন কেও থাকতে হয় সার্বক্ষণিক। কাস্টমসের লোকজনসহ সব অথরিটিকে সেখানে ইনভল্ভ থাকতে হয়।

ইউএস বাংলা কিন্তু এনবিআর এর কাছ থেকে টাকা পায় না। আমরা সবচেয়ে ভালোটাই দেয়ার চেষ্টা করি।  ইভেন প্রয়োজনে ওভারটাইম ও আমাদের দিতে হয়।  সরকার আমাদের একটা কাজের সুযোগ দিয়েছে, আমরা অবস্যই যথাসাdhyo ট্রাই করি ভালো কাজ করার।

আমরা কোনোভাবেই চাই না, আমাদের রেপুটেশন নষ্ট হয়ে যাক।  সার্টিফিকেশন এর একটা ব্যাপার আছে, কখনো কখনো অনেক এয়ারলাইন্স বন্ধ হয়ে যায়, আমরা এটা কোনোভাবেই চাই না, বন্ধ হওয়ার কথা।  আমরা এটা ভাবিও না। সবচেয়ে বড় কথা হলো নিজের কাছে কলার থাকা, সৎ থাকা।  প্যাসেঞ্জার যখন ফ্লাই করে, তখন সে কিন্তু ট্যাক্স পে করে।  সুতরাং আমি কেন তাদের দেখভালটা দেখবো না।  আপনি যখন অন টাইম পে করবেন, আপনার কিন্তু একটা অপারেশনাল কস্ট আছে।  একটা ক্যালকুলেশন অনেক সহজ হয়ে যাবে।   এই টাকাটা তো আমার না আসলে, এটা তো ট্যাক্সশেসনের, গভর্নমেন্ট এটা এপ্প্রুভ  করে।  শুধু গভর্নমেন্ট একটা অথরিটি দিয়েছে এটা কালেক্ট করার।

এই রেভিনিউ টাকে আমরা লাস্ট তিন বছরে দিয়ে যাচ্ছি।  আলহামদুলিল্লাহ।

আমরা শুরু থেকেই অনেক কাজ করেছি, বিভিন্ন জায়গায় ফ্লাই করিয়েছি . পরে ড্যাশ ৮ আসলো।  আমরা কাঠমান্ডুতে ও ফ্লাই করিয়েছি।  অনেক কিছুই করেছি।

আমাদের ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইটগুলো শুরু হয়েছে ১৫th মে, ২০১৭।  সেটা ছিল কাঠমান্ডুতে।  এখন আছে, মাস্কট, সিঙ্গাপুর, ব্যাঙ্কক, দোহা।

ফিনটেক: আচ্ছা, মাস্কাটে কি করে ওপেন করলো ?

কামরুল সাহেব: মাস্কাটে বেসিকেলি লেবার ক্ল্যাস। বিকজ অভ এখানে, প্রচুর প্রবাসী আছে, মাসকাটে।  সিঙ্গাপুর এ আছে, কুয়ালালামপুরে ও আছে। আসলে ইট ডিপেন্ডস ও বাংলাদেশী প্যাসেঞ্জার। আজকে যদি ওমান এয়ারলাইন্স আসে, কাটার এয়ারলাইন্স এয়ারলাইন্স আসে, সৌদি এয়ারলাইন্স আসে, তারা কিন্তু ফরেন প্যাসেঞ্জারকে ক্যারি করছে মানে বাংলাদেশি প্যাসেঞ্জারকে ক্যারি করছে।   এখন যেহেতু মাস্কাটে, দোহাতে, কাতারে বাংলাদেশের প্রচুর মানুষ রয়েছে,  সেখানে আমাদের একটা ফার্স্ট প্রায়োরিটি থাকে। আমরা দোহাতে শুরু করেছিলাম।  ৪ টা ফ্লাইট দিয়ে শুরু করেছিলাম, ৫ Ta দেন ৬ টা দিয়ে এন্ড নাউ এভরিডে।

দোহাতে আমরা ফার্স্ট অক্টোবর থেকে শুরু করেছি। এইযে গত কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু করেছি দোহার উইকলি অপারেশন। কুয়ালালাম্পুরে আমরা ৭ta ফ্লাইট চালু করেছি।

৪ টা দিয়ে আমরা শুরু করেছিলাম, সিঙ্গাপুর এ আমরা ৪ তা দিয়ে শুরু করেছি। ব্যাংককে আমরা তিনটা ফ্লাইট অপারেট করছি এই মুহূর্তে। আমরা চিটাগাং-কলকাতা ও অপারেট করছি। উইকলি ২ তা করছি আর কি। আর ঢাকা-কলকাতা আমরা ডেইলি অপারেট করছি। বোয়িং ৭৩৭।

এখন বোয়িং সার্ভিস এ ইউএস বাংলায় ৪ তা সার্ভিস চালু আছে। ১৬০ সীটের ক্যাপাসিটি।  ৭৩৭/৮০০ সিরিজ। এর মধ্যে ৮ তা আছে বিজনেস ক্লাস, আর ২৬ তা আছে ইকোনোমিক ক্লাস। ইভেন, আমরা প্যাসেঞ্জার কে বাসা থেকে ক্যারি করার সুযোগ ও দিয়েছি।  আমি নিজেও ৭/৮ মাস ধরে করছি।  এখন প্যাসেঞ্জার কে বাসা থেকে ক্যারি করা – খুব কষ্টস্যাধ্য কাজ।  আমরা নিজেরাও যখন ট্রাভেল করি, তখন মেজর একটা প্রব্লেম ফেস করি – লাগেজ।  ১ ঘন্টা, ২ ঘন্টা ওয়েট করার পর দেখা যাচ্ছে একটা লাগেজ আসছে কিন্তু ইউএস বাংলা এই ব্যাপারে খুবই গতিশীল।  ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে আমরা লাগেজ ডেলিভারি করে দেই।

এটা আমাদের জন্য বিশাল একটা প্লাস পয়েন্ট।  এটা সম্পূর্ণ একটা ডেডিকেশন।  ইমিগ্রেশন এর সময় একজন প্যাসেঞ্জারের কিন্তু ২০ মিনিটের মতো সময় চলে যায়। সুতরাং আমরা এই দিকটা বেশ ভালো ভাবে দেখি।

লাগেজের ব্যাপারে যেটা হয়, সাধারণত প্যাসেঞ্জার ওয়েট করে লাগেজের জন্য, কিন্তু আমরাই (ইউএস বাংলা) ওয়েট করি প্যাসেঞ্জারের লাগেজের জন্য, যাতে ন্যাসেঞ্জারের কোনো বিরক্তি না আসে।

আমাদের ওয়েজ আর্নার এর একটা ডেস্ক আছে। কারণ অনেক প্যাসেঞ্জার আছে যারা ফার্স্ট টাইম ট্রাভেলার।  অনেক কিছু তখন তারা বুঝে উঠতে পারে না।  অনেক শিক্ষিত লোকজন আছে, তারাও ফার্স্ট টাইম হলে অনেক নিয়ম রীতি বোঝে না বা অনেকে অনেক সমস্যায় পরে যায়। একটা নতুন পরিবেশে গেলে আমাদের যা হয়।  ওখানে আবার ডাক্তারেরও ব্যবস্থা আছে।  মানে যে কোনো ধরণের সহযোগিতা – ডেস্ক থেকে দেয়ার ব্যবস্থা আছে।

বাইরে এই ব্যাপারটা আমাদের জন্য দরকার হয় না, কারণ অনেক এজেন্টরা আছে, তারা দেখে কিন্তু  আমাদের মাধ্যমেই হয়ে থাকে যদি বাইরে কোনো এসিস্টেন্সের দরকার হয়।  আসলে বাংলাদেশে যেই প্রব্লেমটা আছে, বিশ্বের অধিকাংশ শহরে এই সমস্যাটা কিন্তু নাই।

কিন্তু বাংলাদেশ থেকেই যখন কোনো বাংলাদেশী প্রথম বার ট্রাভেল করে, তার কাছে ঢাকার শহরটাই নতুন মনে হয়। হয়তো দেখা গেলো ফার্স্ট টাইমই সে ঢাকায় আসছে।  পুরোটাই তার কাছে নতুন পরিবেশ। বোর্ডিং পাস্ নেবে, কিছু ফর্মালিটিজ আছে, ইমিগ্রেশন আছে।  সবচেয়ে বড় কথা হলো আপনি নিজে কতটা ফ্রেন্ডলি। যেকোনো ধরণের মানুষ ট্রাভেল করতে আস্তে পারে।  আপনি নিজে যদি তাকে সাপোর্ট না দেন, সাহস না দেন তাহলে দেখা যাবে সে নিজেই নার্ভাস হয়ে যাবে। ইমিগ্রেশনে অনেক রকমের প্রশ্ন করা হয়, তো এগুলার তো দরকার নাই।  ভিজা আছে, পাসপোর্ট আছে – তাহলে সব ওকে।  কারণ একজন ট্রাভেলারকে তো নানাবিধ প্রশ্ন করে  বিব্রত করার দরকার নাই।

এই জিনিসগুলো আপনি যত বেশি এড়িয়ে যেতে পারবেন, আপনি তত বেশি এগুতে পারবেন।

আমি যখন পাসপোর্ট করি, আমার বিন্দুমাত্র হেসেল পোহাতে হয় নাই। সত্যি খুব ভালো একটা সার্ভিস। মানে এক ধরণের যেই প্রেসার টা নিতে হয়, সেটা আমাদের কোনোভাবেই নিতে হয় নাই।  এভরিথিং ওয়েন্ট স্মুথলি।

কিন্তু একটা দুঃখজনক বিষয় হলো যে, বাংলাদেশে প্রাইভেট এয়ারলাইন্স এর বয়স ২০ বছর হয়ে যাচ্ছে, অথচ, মাত্র ৩ টা এয়ারলাইন্স অপারেট করছে। বাট বন্ধ হয়েছে তার চেয়ে ডাবল। এয়ার বেঙ্গল, জিএমজি আরো অনেক গুলোই যেমন এপিক এয়ার, সাউথ এশিয়ান এয়ার, নেপচুনে এয়ার প্রভৃতি । আসলে বাংলাদেশে ১৯ বছর হওয়ার পর ও, প্রাইভেট এয়ারলাইন্স এখনো স্ট্যাবল না। আমরা বলি যে ব্যাংক এগিয়ে আসছে না, ব্যাংক বলছে ট্রেড এগিয়ে আসছে না -তো আমরা এগোবো কি করে।

তাছাড়া আরেকটা ব্যাপার আছে, বাংলাদেশের মতো দেশে আমরা অনেক প্রতিষ্ঠানকে ভর্তুকি দিচ্ছি, তাই না? বিমান শিল্প একটি অত্যাবশ্যক শিল্প। আপনার দেশের ব্র্যান্ড মূল্য উন্নয়নের  জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন অন্যান্য দেশের মানুষ আমাদের বিমান দেখতে পায় এবং বুঝতে পারে যে এটি বাংলাদেশের একটি বিমান , তখন অবশ্যই আমাদের দেশের ভাবমূর্তি অনেক উপরে উঠে যায়।

মন্তব্য করুন

Top