ডিজিটাল বিশ্বে সফল নারী উদ্যোক্তাদের পথচলা - ফিনটেক বাংলা
You are here
Home > অন্যান্য > ডিজিটাল বিশ্বে সফল নারী উদ্যোক্তাদের পথচলা

ডিজিটাল বিশ্বে সফল নারী উদ্যোক্তাদের পথচলা

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭ তে আয়োজিত ‘উইমেন ইন ডিজিটাল ইকোনোমি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে উদীয়মান নারী উদ্যোক্তা এবং শিল্প ক্ষেত্রে কয়েকজন সফল নারী তাদের সামনের দিকে এগিয়ে চলার কথা বলেছেন। তারা বলেছেন তাদের পরিশ্রমের কথা, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাদের এগিয়ে চলার গল্প। আলোচনা শেষে, প্যানেলিস্টরা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শী মিন্স বিজনেস’ নামক ফেইসবুকে একটি প্রোগ্রাম চালু করেন নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করার জন্য।

তাদের কিছু উদ্ধৃতি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। 

 

তাওহিদা শিরোপা

ড্রিমার ও সহ প্রতিষ্ঠাতা, মনের বন্ধু

 আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগ এবং মানসিক স্বাস্থ্য ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাথে একসাথে কাজ করছি। আমাদের কর্মের মূলশক্তি হচ্ছে নারী। এই ব্যাপারটা আমাদের নারীগোষ্ঠীকে বন্ধুবাৎসল করে তুলেছে।  আমাদের প্রত্যাশা, যখন যে অবস্থায় মানুষের মানসিক সহযোগিতা দরকার, আমাদের সেবা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। 

 

রাখশান্দা রুখাম

প্রতিষ্ঠাতা, বেগম

 ‘বেগম’ এমন একটা প্ল্যাটফর্ম যার মাধ্যমে নারীদের জীবনধারা, ব্যবসা বাণিজ্যসহ অন্যান্য কাজে সহায়তা করা হয়ে থাকে। আমরা ইতোমধ্যে ৪ হাজার নারীদেরকে পেয়েছি এবং সম্প্রতি আমরা গ্লোবাল এন্টারপ্রেনারশিপ সামিটে অংশগ্রহণও করেছি। 

 

নুসরাত জাহান

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ইন্টারেক্টিভ আর্টিফ্যাক্ট

 “আমার যাত্রা শুরু হয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায়। ২০১৬ তে ৪৩৭ টি স্টার্টআপ আইডিয়া নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়েছিল মন্ত্রণালয় কতৃক এবং তাদের মধ্যে আমাদেরকে নির্বাচন করা হয়। আমরা শারীরিক ব্যায়ামের পরিমাপের জন্য সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার সল্যুশন তৈরী করেছি।”

 “প্রায় সময়ই রোগীরা বাড়িতে ফিজিক্যাল থেরাপি নেয় না। একটু ভালো বোধ করলেই বন্ধ করে দেয়। কিন্তু আমাদের এই সফটওয়্যার আপনাদের অনুপ্রাণিত করবে যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনাকে প্রগ্রেস রিপোর্ট দিচ্ছে।”

 

লুনা শামসুদ্দোহা

প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন, দোহাটেক নিউ মিডিয়া

 “আমার শুরুটা হয়েছিল ৯০ দশকের দিকে যখন সিডি-রম অনেক বড় একটা ব্যাপার ছিল। এটা ক্লাউড কম্পিউটিংয়েরও আগের কথা বলছি। তবে আমরা এখনো কাজ করে চলেছি। আমাদের প্রধান কাজ বাংলাদেশের ই-গভর্নেন্স নিয়ে। আমরা জাতীয় পরিচয় পত্রের প্রজেক্ট নিয়ে বাংলাদেশ আর্মির সাথে কাজ করেছি এবং সমস্যাগুলো সমাধান করেছি। আমরা বর্তমানে ই- টেন্ডারিং নিয়ে কাজ করছি, বিশেষ করে ই-জিপি নিয়ে। ই-জিপি মূলত পাবলিক এজেন্সির প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কাজে করে থাকে। তাছাড়া আমরা ভুটানেও একই কাজ করছি বর্তমানে। “

 

মুন্নি শাহা

হেড অভ নিউজ, এটিএন নিউজ 

 “আমি সম্ভবত একমাত্র সাংবাদিক যে প্রতি সপ্তাহে ‘ধন্যবাদ ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বলে কথা শেষ করি। আমার পুরোনো দিনের সেই সময়ের কথাগুলো প্রায় মনে পরে যায় যখন আমি গ্রামে গ্রামে ছুটে যেতাম এবং তাদের সাথে কথা বলতাম। কিন্তু এখন ‘কানেকটিং বাংলাদেশ’ নাম আমি একটা সাপ্তাহিক প্রোগ্রাম করি যার মাধ্যমে আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষদের সাথে সংযুক্ত হয়ে থাকি। এটা একটা দ্বি-পদ্ধতি যোগাযোগের মাধ্যম। আমরা তাদের কাছে যাই এবং তারাও তাদের কথাগুলো আমাদের সাথে শেয়ার করে। ডিজিটাল বাংলাদেশ ছাড়া আমি এই মানুষগুলোর সংস্পর্শে আসতে পারতাম না।” 

 

জুলিয়া কাজী

ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পিডাব্লিউসি কর্পোরেট ফিনান্স, ইউএসএ 

 আমি সত্যি খুব আনন্দিত এমন একটি পরিবেশে আসতে পেরে। আমি ওয়াল স্ট্রিটে কাজ করি।  তাছাড়া আমি একজন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার যেখানে ৯৮ শতাংশ পুরুষ কর্মকর্তা। পিডাব্লিউসির ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং বিভাগে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আমি দুজন নারী লিডারের মধ্যে একজন। এটা সত্যি অপ্রত্যাশিত এবং আমার কাছে সবসময় এটা অপ্রত্যাশিত হয়ে থাকবে।

 “শেতাঙ্গ পুরুষের দেশে থেকে আমি শিখেছি, তরুণ নারী বা শুধু নারী হিসেবে নয় যে আমাকে ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করতে হবে এবং খুব দ্রুত উন্নয়ন করতে হবে। নারী হিসেবে আপনার জন্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ যে আপনাকে ভাবতে হবে আপনি কি নিয়ে ব্র্যান্ডের কাজ করবেন।”

 “সফল হতে আপনাকে বিশেষ প্রতিভার অধিকারী হওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনার দক্ষতায় আপনাকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে।” 

 

টিনা জাবিন

ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইজার, স্টার্টআপ বাংলাদেশ, তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ 

 “জীবনের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে জীবনের মতো করে পরিচালনা করা।  আমার  উদ্দেশ্য ছিল সফল হওয়া, স্বাধীন হওয়া। আর এই কারণেই আমি সানফ্রান্সিসকোতে প্রায় ৩০ বছর কাটিয়েছি, ঠিক জুলিয়া যেভাবে কাজ করছেন। গত পাঁচ বছরে আমি বাংলাদেশে ফিরে আসার পরিকল্পনা করেছি, কারণ আমি দেশের জন্য কিছু করতে চেয়েছিলাম । আমি ভাগ্যবান যে আমি এখানে আসতে পেরেছি। “

 “আমার সৌভাগ্য যে আমি আইসিটি বিভাগে স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করতে পারছি। আমি চাই তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে। আমাদের দেশের তরুণরা খুব স্মার্ট এবং তাদের অনেক রিসোর্স রয়েছে। আমাদের ৩৪ মিলিয়ন ডলারের তহবিল আছে। আমাদের সরকারও চায়, আমরা যেন তরুণদেরকে কাজে লাগাতে পারি এবং এই টাকা দিয়ে ভিসি সিস্টেম কে উন্নত করতে পারি। “

 

 হোসনে আরা বেগম

ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক অথরিটি

 “আমার মনে হয়, হাই-টেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মানুষের জন্য আমার অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে। কারো সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। আমরা আলাদা আলাদা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছি নারীদের জন্য প্রযুক্তির সব সেক্টরে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে হাই-টেক পার্কের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের জন্য ৩০ শতাংশ জায়গা বরাদ্দ করেছেন। আমরা শেখ কামাল ট্রেইনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করবো যেখানে ১৭,৫০০ মানুষ প্রশিক্ষণ পাবে। এগুলোর মধ্যে ৫০০ টি আসন নারীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে। আমাদের প্রত্যাশা নারীরা আর পিছিয়ে থাকবে না, সোনার বাংলাদেশ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে তারা এগিয়ে যাবে। “

মন্তব্য করুন

Top