কোমলমতি শিশুদের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে ফেইসবুক: ড.মুহাম্মদ জাফর ইকবাল - ফিনটেক বাংলা
You are here
Home > লোকাল ইভেন্টস > কোমলমতি শিশুদের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে ফেইসবুক: ড.মুহাম্মদ জাফর ইকবাল

কোমলমতি শিশুদের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে ফেইসবুক: ড.মুহাম্মদ জাফর ইকবাল

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং প্রসিদ্ধ লেখক ও শিক্ষাবিদ ড: মুহাম্মদ জাফর ইকবাল ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭ তে আয়োজিত ‘চিলড্রেন’স ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড’ নামে একটি সেশনে শিক্ষার্থীদের সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলির প্রভাব সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকের ফাঁদে পড়েছে যা শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময়কে হত্যা করছে”।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে  ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭-র তৃতীয় দিবসে সেশনটি অনুষ্ঠিত হয় ৮ ডিসেম্বর।

অধ্যাপক ইকবাল বলেন, “সামাজিক মিডিয়া সাইটগুলি বিশেষভাবে শিক্ষার্থীদের সময় এবং তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ নষ্ট করার জন্য দায়ী।”

সেশনে উপস্থিত শিক্ষার্থী এবং আগত অতিথিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন আমরা অবশ্যই প্রযুক্তি ব্যবহার করবো, তবে নিশ্চিত হতে হবে, প্রযুক্তি যেন আমাদের ব্যবহার না করে।

ড. জাফর ইকবাল প্রোগ্রামিং সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, প্রোগ্রামিং খুবই মজার একটা বিষয়। শিক্ষার্থীদের উচিৎ ফেইসবুকে বেশি সময় না দিয়ে, সৃজনশীলতার দিকে ঝুকে যাওয়া। তাছাড়া তিনি জ্ঞানার্জনের জন্য বই পড়ার উপর জোড় দিতে বলেন। তিনি বলেন, “খুব বেশি করে বই পড়বে তোমরা। যদি বাবা মা বাধা দেন, লুকিয়ে হলেও রাতের আঁধারে টর্চ হাতে নিয়ে বই পড়ো। তবুও জ্ঞান অর্জন করো।”

“বাবা মা সন্তানদের কাছ থেকে সবসময় ভালো ফলাফল প্রত্যাশা করেন। এটা কিন্তু খুব একটা কঠিন কাজ নয়। তুমি যদি অল্প পড় কিন্তু ভালোভাবে এবং দৃঢ়তার সাথে, তুমি অবশ্যই ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবে। তবে পড়ার মনোভাব গড়ে তুলতে হবে,” বলেন জাফর ইকবাল।

সেশনটা আরো সেগমেন্টে বিভক্ত ছিল যেখানে ছাত্রছাত্রীরা কথা বলতে এবং বিভিন্ন অংশে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। সানবীমস স্কুলের দুজন শিক্ষার্থী প্যানেলিস্ট হিসেবে সেশনে অংশ নিয়েছিল। সেমিনারে এই দুই খুদে বক্তা বক্তব্য দেয় এবং কোডিংয়ের বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতার কথা সবাইকে জানায়।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাশিতা জাইনা রহমান বলেন, “আম্মুকে কম্পিউটারে কাজ করতে দেখতাম। আমি মনে করতাম এসব কাজ বোরিং। এরপর আমিও কম্পিউটারে সময় কাটাতে শুরু করি। আমি কম্পিউটারে গেম খেলি। একদিন আমি আম্মুকে বললাম আমার একটি শুটিং গেম চাই যেখানে সিন্ড্রেলা থাকবে। আমি ভেবেছিলাম মা আমার কথা ভুলে গেছে বা মা পারে না। এর কিছুদিন পর আমি যে গেমটি চেয়েছিলাম মা তা বানিয়ে আমাকে দিল। আমি তো অবাক হলাম। মা বললো কোডিং করে মা গেমটি বানিয়েছে। আমি তখন কোডিং শিখতে চাইলাম। এ থেকেই আমার কোডিংয়ের শুরু।“

ষষ্ঠ শ্রেণির খুদে বক্তা আনুভা চৌধুরী বলে ‘আমার প্রোগ্রামিং করতে অনেক ভালো লাগে। আমি একটি স্কুলে গিয়েছিলাম সেখানে গিয়ে অনেক শিশুকে প্রোগ্রামিং করতে দেখেছি। তার এর জন্য স্ক্র্যাচ নামের একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। আমি প্রোগ্রামিং আরো ভালো করে শিখবো।“

প্রোগ্রামে ‘আওয়ার অফ কোডিং’ নামে আরো একটি অংশ ছিল যেখানে  দিমিক কম্পিউটারের সিইও তাহমিদ আহমেদ রফি  কোডিং সম্পর্কে কথা বলেছিলেন এবং স্ক্রীনে স্লাইড দেখিয়েছিলেন শিক্ষার্থীদের যেন সহজে তারা কোডিংয়ের কিছু কৌশল শিখে নিতে পারে।

আলোচনার এক ফাঁকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক মঞ্চে এসে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের সঙ্গে আলাপচারিতায় অংশ নেন। এসময় দুই ক্ষুদে শিক্ষার্থীসহ আরো কিছু শিশু-কিশোরদের নিয়ে ড্রোন দিয়ে ছবি তোলেন।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে ড. জাফর ইকবাল এবং তথ্য ও প্রযুক্তির প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ করেন। এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক্স ও মেকাট্রনিক্স বিভাগের চেয়ারপারসন লাফিফা জামাল পুরো সেশনটি পরিচালনা করেন।

মন্তব্য করুন

Top