মুভি রিভিউ - ঈগল আই -
You are here
Home > মুভি রিভিউ > মুভি রিভিউ – ঈগল আই

মুভি রিভিউ – ঈগল আই

ডি.জে ক্যারুসোর উচ্চাভিলাষী একটি চলচ্চিত্র ‘ঈগল আই’। নিত্য জীবনযাপনে প্রযুক্তির সর্বাপেক্ষা স্পর্শ এই চলচ্চিত্রের গুরত্ত্ব বহন করে।  প্রকৃতপক্ষে, এই ছবি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শকদের দৃষ্টিকে একীভূত করে রাখতে সক্ষম।

ছবিটিতে জেরি শ’ এর চরিত্রে অভিনয় করেন শিয়া লেবুফ, যে পরিৰার থেকে বেশ কয়েকবছর দূরে সরে আছে বিভিন্ন কারণে। জেরি শ’ এর যমজ ভাই, ইথান, যে ছিল সরকারি চাকুরীজীবি, গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়।  আর সমস্যার সূত্রপাত হয় সেখান থেকেই।

মৃত্যুর কারণটা রহস্যের বেড়াজালে আটকে যায়। রহস্যময় এই মৃত্যুর শোক আর হতাশার পর, জেরি টাকা তুলতে ব্যাংকের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।  টাকা তুলতে গিয়ে সে হঠাৎ আবিষ্কার করে তার ব্যাংকে লক্ষ লক্ষ ডলার রয়েছে। দেরি না করে বাড়িতে চলে আসে জেরি এবং কিছু অস্ত্র, বোমা তৈরির দ্রব্য এবং অবৈধ হাতিয়ার পায়।

একটি ফোন কল আসে এবং ভাবলেশহীন নারী কণ্ঠে কেউ বলে উঠে: “তাকে গ্রেফতার করা হবে যদি না সে জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে পালিয়ে বাঁচতে পারে।” জেরি ব্যাপারটাকে পাত্তা না দিয়ে এফবিআইয়ের শরণাপন্ন হয়। এজেন্ট ঘরের বাইরে যাওয়া মাত্রই, জেরি আরেকটা টেলিফোন কল পায় এবং সেই একই নারী কণ্ঠ শুধু বলে ওঠে: “নেমে যাও”।

জেরি এবার একটু শংকিত বোধ করল, কোনো ঝুঁকি নিতে চাইলো না, বিল্ডিং থেকে পালিয়ে বাঁচার রাস্তা খুঁজে পেলো।

এদিকে শহরের আরেক প্রান্তে, রেইচেল হলোম্যান নামে এক ডিভোর্সি নারী অনেক ঝামেলার মধ্যে দিনাতিপাত করছিলো।  আর এই চরিত্রটিকে খুব বিমোহিতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন মিশেল মোনাগান। হলোম্যানের চরিত্রে মোনাগান অনিশ্চিত জীবনের অলিতে গলিতে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে থাকে।

অদ্ভুত হলেও সত্যি, সেই অদ্ভুত ফোন কল একইভাবে রেইচেলের কাছেও আসে এবং একই নির্দেশনা তাকেও দেয়া হয়।  সেই ফোন কল আবারো আসে জেরির কাছে আর জেরিকে বলা হয় কার্নিশে একটি গাড়ি আছে সেখানে যেন জেরি উঠে বসে। জেরি গাড়িতে উঠতেই দেখে রেইচেল বসে আছে।  রেইচেল জেরিকে দোষারোপ করতে থাকে তারই জন্যে এসব ঝামেলা হয়েছে আর তার ছেলে স্যামকে বিপদগ্রস্থ করে তুলেছে।  জেরি তাকে জানায় এসবের ব্যাপারে জেরির কোনো হাত নেই।   ইতোমধ্যে, পুলিশ এবং এফবিআই তাদের দুজনকে ধাওয়া করতে থাকে কিন্তু কোনো না কোনোভাবে সেই আশ্চর্য ফোন কল তাদের সঠিক নির্দেশনা দিয়ে পালতে সহায়তা করে। ধীরে ধীরে তারা জানতে পারে, এই নির্দেশনাটা দিচ্ছে একটা সুপার কম্পিউটার, এআরআইআইএ (ARIIA)। ARIIA সুপার কম্পিউটারটি পরিচালিত হয়ে থাকে ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট থেকে যেটা ‘ইন্টেলিজেন্স’ সংগ্রহ করে।

এরিয়া রাষ্ট্রপতির দেয়া রীতিনীতি মানতে চায় না আর তাই তাই সে রাষ্ট্রের উত্তরাধিকারীগণের শৃঙ্খলে প্রত্যেক সদস্যকে রীতিনীতি যথাযথভাবে পালন করার জন্য একমাত্র উপায়টি নির্ধারণ করেন, যতক্ষণ না কম্পিউটারের পরামর্শের সাথে যেতে সম্মত হয় ।

এরিয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী রেইচেলের ছেলেকে ব্যবহার করা হয়। রেইচেলের ছেলে একজন মিউজিসিয়ান (হর্ন বাদক)। সে রাষ্ট্রপতির একটা কন্সার্টে অংশগ্রহণ করছিলো তখন সেই হর্ন নিয়ে, যা একটি বিশাল বোমার জন্য অযৌক্তিক ট্রিগার হিসাবে কাজ করে।  আর ঠিক এই মুহূর্তে রেইচেল এবং জেরির উপর দায়িত্ব পরে ডিসিতে দ্রুত পৌঁছাতে এবং এরিয়ার প্ল্যানকে ভস্মিভূত করতে হবে রাষ্ট্রপতিকে হত্যার আগেই।

স্টিভেন স্পিলবার্গ এর ধারণা থেকে এই ‘ঈগল আই’ এর উৎপত্তি যিনি বুঝেছিলেন এই ছবির  অপার সম্ভাবনা ছিল প্রথম থেকেই।  অবিরাম অ্যাকশন থেকে শুরু করে ধ্রুব অনুমানের মধ্যে দিয়ে, দর্শকদের চলচিত্রের নক্ষত্রের আসে পাশে দিয়ে ঘুরে বেড়াতে বাধ্য করে। এবং দর্শকরা যেন পুরো ঘটনাটির মধ্যে অনুপ্রবেশ করে ফেলে আর জানা অজানার ভিতর দিয়ে চলতে থাকে।

বৈচিত্রের কিছুটা অভাব থাকলেও, বর্ণনাধর্মী চলচিত্র হিসেবে যথেষ্ট সার্থক এই ঈগল আই। তবুও এই ছবিটি  আশ্চর্যজনকভাবে বিভিন্নদেশের প্রযুক্তি বিপর্যয়ের এবং সামরিক বাহিনীর চিত্র তুলে ধরেছে । তবে এই ছবির প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে একটি প্রশ্ন আসতেই পারে : যখন যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় দেশগুলোতে জাতীয় নিরাপত্তার কথা ওঠে, তখন কাকে দোষারোপ করা উচিৎ?

মন্তব্য করুন

Top